মদের বার নিয়ে সচিবালয়ে আবদুল হাইয়ের অবহিতের পরেই অ্যাকশন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৪ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার

মদের বার নিয়ে সচিবালয়ে আবদুল হাইয়ের অবহিতের পরেই অ্যাকশন

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেছেন, ‘গতকাল (১২ ফেব্রুয়ারী) এক অনষ্ঠানে সেলিম ওসমানের সাথে দেখা হয়েছে কথা হয়েছে। তিনি মদের বার নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দিবেন। যইহোক নারায়ণগঞ্জে এটি হবে না। আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী এটি চাইও না। অনেককেই ম্যানেজ করা হয়েছিল অনেক পত্রিকা এদের পক্ষে লিখেছে দেখে আমি অবাক হয়েছি। তাঁদের এইটুকু রুচিবোধ নাই। এইটুকু মূল্যবোধ নাই। তাঁরা এই জিনিসের প্রতিবাদ করতে পারলো না! তাঁরা ম্যানেজ হয়ে গেলো! আমি তাঁদের নিন্দা জানাই। আমার শান্তির নারায়ণগঞ্জ চাই। আমি শতভাগ এর বিরুদ্ধে আছি।

১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে চাষাঢ়ার ব্লু পিয়ার নামে মদের বার স্থায়ীভাবে বন্ধে নারায়ণগঞ্জ-৫আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি আরো বলেন, কয়েক মাস আগে বিষয়টি আমার নজরে আসে। আমি তখন থেকেই খারাপ অনুভব করছিলাম যে এরকম একটি জায়গায় এটি হবে আর আমরা প্রতিবাদ করব না এটি হতে পারে না। আমি প্রথমে ডিসি এসপির কাছে গিয়েছিলাম। তাঁরা বললেন যে এটি মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের। আমি বললাম যে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের হলেও আলাদা একটি প্লেস লাগবে। যত্রতত্র তো হতে পারে না। শহরের প্রাণ কেন্দ্র, পাশে এত বড় মসজিদ, পাশে প্রেসক্লাব, পাশে হসপিটাল পাশে দুইতিনটি স্কুলও আছে। এইরকম একটি প্রাণ কেন্দ্রে মদের বার হবে এটা আমার কাছে পীড়াদায়ক লাগলো তাই আমি ভাবতে লাগলাম কিভাবে এটি বন্ধ করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, এসপি ডিসি দুইজনেই বলল যে তাঁরা কিছু জানে না। তাঁরপর আমি গতকালকে মন্ত্রণালয়ের প্রধান যিনি তাঁর কাছে গেলাম। সচিবালয়ের একটি কাজে আমি গিয়েছিলাম। তখন আমি তাঁর কাছে বিষয়টি তুলে ধরলাম। তিনি বললেন যে, ‘লোকাল এমপি কে?’ আমি বললাম সেলিম ওসমান। তিনি বললেন যে, ‘উনি জানে?’ পরে আমি উত্তর দিলাম যে আমার তাঁর সাথে কথা হয় নাই। তবে মনে হয় না তিনি এর অনুমতি দিবেন। কিন্তু এসপি ডিসির সাথে কথা বলেছি তাঁরা কিছু জানেন না। ওনি বললেন যে, ‘এসপি ডিসি জানে না এটা হতে পারে না।’ উনি সাথে সাথে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের প্রধান যিনি তাঁকে জানালেন এবং আরো দুইজনকে জানালেন এবং বললেন যে, ‘পাশে মসজিদ আছে, স্কুল আছে, প্রেস ক্লাব আছে। লোকেশন ঠিক না। এটি বন্ধ করার ব্যবস্থা করুন।’

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল, নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবু জাহের, নারায়ণগঞ্জ জেলা ওলামা পরিষদের সভাপতি ও ডিআইটি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আওয়াল, হেফাজত নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বালুর মাঠ এলাকাতে প্যারাডাইজ ভবনে আলোচিত মদের বারটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ১২ ফেব্রুয়ারী বুধবার অধিদপ্তরের ডিজির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করে এ সিদ্ধান্ত দেন। দুপুরে পরিদর্শনের পর সন্ধ্যায় আর বন্ধের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও