দুই আইনজীবী নেতা দম্পতির প্রেম বিয়ে ভালোবাসা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪০ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার

দুই আইনজীবী নেতা দম্পতির প্রেম বিয়ে ভালোবাসা

১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। নারায়ণগঞ্জের অনেক রাজনীতিক, এমপিদের বিয়ে হয়েছে প্রেম করে। অনেক পেশাজীবীও একই কাতারে। ভালোবাসা দিবস তথা ভ্যালেন্টাইন দিবসে দুইজন আইনজীবী নেতা সাখাওয়াত হোসেন খান ও হাসান ফেরদৌস জুয়েলের প্রেম কাহিনী নিয়ে আয়োজন।

ফেরদৌস জুয়েলের প্রেম
দীর্ঘ প্রায় দশ বছর প্রেম করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সদ্য সাবেক নির্বাচিত সভাপতি ও অভিনেতা অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল।

অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও অ্যাডভোকেট সৈয়দা ওয়াহিদা আহম্মেদ রিতা নারায়ণগঞ্জ আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত। সদা হাস্যোজ্জল ও মিশুক প্রকৃতির হাসান ফেরদৌস জুয়েল নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, একবার যুগ্ম সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ দুবার ও স্পোটর্স অ্যান্ড কালচারাল সেক্রেটারী দুই বার নির্বাচিত হন। সেই সঙ্গে ইতিমধ্যে ধারাবাহিক নাটক সহ ৮০টির অধিক নাটকে অভিনয় করেছেন হাসান ফেরদৌস জুয়েল। এছাড়াও তিনটি চলচ্চিত্রেও অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিনয় জগতের রয়েছে তার সুনাম ও ব্যাপক পরিচিতি।

অন্যদিকে তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সৈয়দা ওয়াহিদা আহম্মেদ রিতা নারায়ণগঞ্জ আদালতের আইনজীবী। তাদের সুখের সংসারে এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

জুয়েল জানান, ১৯৮৮ সালের দিকে প্রথম পরিচয় হয় সরকারি তোলারাম কলেজে লেখাপড়া করার সুবাদে ওয়াহিদা রিতার সঙ্গে। সেই থেকেই দুজনের মধ্যে ভালো পরিচয়। ভালো পরিচয় থেকে এক পর্যায়ে ভালো লাগা। ভাল লাগা থেকেই দুজন দুজনকে ভালবাসা। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে দুজনে ভর্তি হন। ওখান থেকে পাশ করে হাসান ফেরদৌস জুয়েল চলে যান চাকরিতে। সেখান থেকে এসে যোগদান করেন নারায়ণগঞ্জ আদালতে আইন পেশায়। এর মধ্যে দুজনের প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায় দুজনের পরিবারের কাছে। ব্যাপক চাপের মধ্যে পরে যান ওয়াহিদা রিতা। সেখানে সহযোগীতা করেন এনায়েত হোসেন ও আশরাফ আলী মন্ডল। তারা দুজন দু’পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে ১৯৯৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। যে কারনে এনায়েত হেসেন ও আশরাফ আলী মন্ডলের কাছে তারা কৃতজ্ঞও।

পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করেন সাখাওয়াত
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তারও একজন আইনজীবী। নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে অধ্যয়নকালেই দুজনের প্রেম প্রণয় ঘটে।

১৯৯০সালে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে ভর্তি হওয়ার পর লেখাপড়ার সুবাদে পরিচয় হয় শামীমা আক্তারের সঙ্গে। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে ঘনিষ্টতা সৃষ্টি হয়। দুজনের মধ্যে ভাল পরিচয় থেকে এক পর্যায়ে দুজনের অজান্তেই মন দেয়া নেয়া হয়ে যায়। যদিও প্রথম প্রপোজটা করেছিলেন সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেই। কারণ তিনি আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন শামীমা আক্তারও তার প্রেমে পড়ে গেছেন। যে কারণে সাখাওয়াত হোসেন খান “ভালোবাসি” শব্দটা বলার পর খুব সহজেই মেয়ে নিয়েছিলেন শামীমা আক্তার। চলতে থাকে দীর্ঘ আড়াই বছর প্রেম। তাদের প্রেমের বিষয়টি প্রথমে জানতে পারে শামীমা আক্তারের পরিবার। শামীমা আক্তারকে ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে তার পরিবার। তাদের প্রেমের বিষয়টির বিরুদ্ধে কঠোর বিরোধীতা করেছিল শামীমা আক্তারের পরিবার। কিন্তু সেই বাধার কারণেই তাদের প্রেম আরো শক্ত ও মজবুত হয়। প্রেমে যখন প্রচন্ড বাধা সৃষ্টি হয় তখনি তারা উভয় পরিবারকে না জানিয়ে দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকায় এক কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন। যে বিয়েতে উকিল করা হয়েছিল মসজিদের এক ইমামকে। বিয়ের পর দুজনই দুজনের বাসায় চলে যান। পরবর্তীতে তাদের বিয়ের বিষয়টি উভয় পরিবার জানতে পারলে তাদের বিয়ে মেয়ে নেয় দুই পরিবার। পরে আনুুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে শুরু হয় তাদের সংসার জীবন। পরবর্তীতে একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও ১৯৯৬ সালে অ্যাডভোকেট শামীমা আক্তার বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ পত্র লাভ করে আইন পেশায় নিয়োজিত হন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও