বাবা দুই মেয়ের পর স্বামীর সঙ্গে অভিমানে ঘর ছাড়া মুক্তা ফিরছে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:৪৪ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ শনিবার

বাবা দুই মেয়ের পর স্বামীর সঙ্গে অভিমানে ঘর ছাড়া মুক্তা ফিরছে

এক সপ্তাহ পরে অবশেষে রহস্যের জট খুলেছে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া বাগে জান্নাত এলাকা থেকের ব্যবসায়ী, তার স্ত্রী ও স্কুল পড়ুয়া দুই মেয়ের নিখোঁজ রহস্যের। ৭ দিন নিখোঁজের পরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানী মিরপুরে খালার বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা ব্যবসায়ী ও তার দুই স্কুলের মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছে।

গৃহবধূ মুক্তা ঘর ছাড়ার অভিমানে এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন বাবা ও দুই মেয়ে। শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারী ব্যবসায়ী তোবারককে পুলিশ হেফাজতে ও দুই মেয়েকে নানীর হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মোবাইল ট্র্যাকিং অনুসারে গৃহবধূর সর্বশেষ অবস্থান চট্টগ্রাম পাওয়ার পর তার সন্ধান মিলেছে। সে নারায়ণগঞ্জের পথে রয়েছে। মূলত স্বামীর সঙ্গে অভিমান করেই ঘর ছাড়েন তিনি।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া বাগে জান্নাত মহল্লায় সিরাজুল ইসলামের বাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে স্বপরিবারে ভাড়া থাকতেন রেডিমেট গার্মেন্ট কাপড়ের ব্যবসায়ী তোবারক হোসেন (৪৪)। তিনি শহরের বঙ্গবন্ধু রোডস্থ লুৎফা টাওয়ার সংলগ্ন সড়কের ফুটপাতে অস্থায়ী দোকানে গার্মেন্টের তৈরী পোশাকের বেচাকেনা করতেন। ওই ফ্ল্যাটে তোবারক হোসেনের সঙ্গে তার স্ত্রী মুক্তা (৩০) ও দুই মেয়ে ফারিয়া (৯) ও ফাহমিদা (৬) থাকতো।

বড় মেয়ে ফারিয়া চাষাঢ়া বন্ধু স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী ও ফাহমিদা একই স্কুলের ১ম শ্রেনীর ছাত্রী ছিল। তোবারক হোসেন মিরপুর ব্লক বি গাবতলী ১ম কলোনী জব্বার হাউজিং বাড়িনং ১৭ সি/ডি এলাকার রেজাউল হকের পুত্র। তোবারকের বাবা মা দুই জনই মারা গেছেন। তার এক খালা বর্তমানে মিরপুর সেকশন ৬ এর কেন্দ্রীয় মসজিদের বিপরীতে সুমন সোহেলদের বাড়িতে ভাড়া থাকতো।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারী ব্যবসায়ী তোবারক, তার স্ত্রী মুক্তা ও দুই মেয়ে ফারিয়া ও ফাহমিদাকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুরে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে চাষাঢ়ার বাসা থেকে বের হন। তবে এক সপ্তাহেও তারা আর ওই বাড়িতে ফিরে আসেনি। তোবারক ও মুক্তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় মুক্তার মা মেহের বেগম ১৯ ফেব্রুয়ারী বুধবার সদর মডেল থানায় একটি জিডি দায়ের করেন। পরে সদর মডেল থানার এসআই সাব্বির ঘটনাস্থলে তদন্তে যান। ওই ফ্ল্যাটবাসায় গিয়ে দেখা গেছে ঘরের ভেতরে গার্মেন্টের অসংখ্য পণ্য স্তুপীকৃত রয়েছে। ঘরের সমস্ত মালামালই ছিল।

ওই বাড়ির কেয়ারটেকার মন্টু মিয়া জানিয়েছিলেন, তোবারক ও তার পরিবার ৩-৪ মাস পূর্বে ওই ফ্ল্যাটে উঠেছিল। গত ১৩ ফেব্রুয়ারী তিনি তোবারক ও দুই মেয়েকে একসঙ্গে বেরিয়ে যেতে দেখেছেন। তখন তোবারক তাকে (মন্টু মিয়া) জানান, তারা স্বপরিবারে বেড়াতে যাচ্ছেন। কয়েকদিন পরে ফিরবেন। তবে তোবারকের স্ত্রী মুক্তা কখন বেরিয়েছিল সেটা তিনি দেখেননি।

এদিকে গণমাধ্যমে একই পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে ২০ ফেব্রুয়ারী রাতে মিরপুরে খালার বাড়ি থেকে ব্যবসায়ী তোবারক ও দুই মেয়ে ফারিয়া ও ফাহমিদাকে উদ্ধার করা হয়।

সদর মডেল থানার এসআই সাব্বির জানান, তোবারককে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। দুই মেয়েকে নানীর হেফাজতে দিয়ে দেয়া হয়েছে। তোবারক জানিয়েছে মুক্তার সঙ্গে তার ঝগড়া হয়েছিল এরপর মুক্তা তাকে বলেছে সে মার বাসায় চলে যাচ্ছে। কিন্তু সে তার মায়ের বাসায় যায়নি। স্ত্রী মুক্তা ঘর ছাড়ায় অভিমানে ব্যবসায়ী তোবারকও তার দুই মেয়েকে নিয়ে খালার বাসায় আত্মগোপনে ছিল। পরে চট্রগ্রামে মুক্তার সন্ধান পাওয়া গেছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও