বাজার তদারকিতে বেশী দামের প্রমাণ পেয়েও চুপ ডিবি, ছবি তুলেই বিদায়

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪৯ পিএম, ২১ মার্চ ২০২০ শনিবার

বাজার তদারকিতে বেশী দামের প্রমাণ পেয়েও চুপ ডিবি, ছবি তুলেই বিদায়

নারায়ণগঞ্জ শহরের দিগুবাবুর বাজারে খুচরা বিক্রেতার সামনেই ডিবি পুলিশকে ক্রেতারা অভিযোগ করছিলেন যে তাঁদের কাছে বেশি দাম হাকানো হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারাও ক্যাশমেমো দেখিয়ে প্রমাণ সহ অভিযোগ করছিলেন যে তাঁরা আড়ৎ থেকে বেশি দামে কিনে আনছেন। কিন্তু ভোক্তা এবং খুচরা ক্রেতার প্রমাণ সহ অভিযোগের পরেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা। উল্টো একটু শাসিয়ে ছবি তুলেই বিদায় নিয়েছেন তাঁরা।

২১ মার্চ শনিবার বিকেলে ডিবির ওসি আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম পাইকারি বাজার দিগুবাবুর বাজারে বাজার তদারকির সময় দেখা যায় এই দৃশ্য। খুচরা আলুর দোকানদাররা ক্রেতার কাছে আলুর দাম হাকাচ্ছিল ১০০-১২০ টাকা। ডিবি পুলিশ দেখে একদল বিক্রেতা দোকান রেখেই পালিয়ে যায়। আরেকদল পালানোর সুযোগ না পেলেও মুহূর্তেই দাম কমিয়ে ৮০টাকা করে দেয়। কিন্তু বিক্রেতার এমন সুর পাল্টানো দেখে সেখানে অবস্থিত ক্রেতারা ডিবির কাছে একের পর এক অভিযোগের তির ছুড়তে থাকে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ, তাঁদের কাছে ১০০-১২০টাকা চাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু বিক্রেতার সামনেই অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি ক্রেতাদের। শুধু শাসিয়ে যাতে দাম বাড়ানো বেশি রাখা না হয়। কিন্তু ডিবি পুলিশ প্রস্থান করতেই সুর পাল্টে যায় বিক্রেতাদের। ১০০টাকার নিচে বিক্রি করবে না সাফ জানিয়ে দিচ্ছিলেন বিক্রেতা। এই দামে কিনতে না চাইলে অন্যত্র চলে যেতে বলছিলেন তাঁরা।

এতো গেলো খুচরা ক্রেতার অভিযোগ ও ডিবি পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়ার দৃশ্য। একই অবস্থা খুচরা বিক্রেতা ও আড়ৎদারদের ক্ষেত্রেও। একটি খুচরা পেঁয়াজের দোকানে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তিনি বেশি মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। তিনি কেন বেশি দামে পেয়াজ বিক্রি করছেন জিজ্ঞেস করতেই বললেন তাঁকে আড়ত থেকে বেশি দামে কিনে আনতে হয়েছে। যে কারণে তিনি বেশি দামে বিক্রি করছেন। প্রমাণ হিসেবে হাতে ধরিয়ে দিলেন ‘খাজা ভান্ডার বাণিজ্যালয়’ আড়ৎ থেকে পেঁয়াজ কেনার রশিদ। এবার ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা বললেন যে ‘তুমি আমাদের সাথে চলো ওই আড়ৎ দেখিয়ে দাও।’ ডিবি পুলিশের এমন কথা শুনে সেখানে অবস্থিত সবাই ভাবছিলেন যে হয়তো এবার কোনো একটা ব্যবস্থা তাঁরা নিবেন। কারণ এবার তাঁদের হাতে লিখিত প্রমাণ আছে।

কিন্তু এবারও সেই আশার গুড়ে বালি। সেই খুচরা বিক্রেতাকে সাথে নিয়ে ‘খাজা ভান্ডার বানিজ্যালয়’ আড়তে গিয়ে জিজ্ঞেস করা হলো আগামীকাল কত টাকা কেজি দরে বিক্রি করছিলেন। তিনিও নির্ভয়ে বলে দিলেন যে তিনি ৫৬টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। কিন্তু আজ তিনি বিক্রি করছেন ৩৫-৪০টাকা দরে। একদিনেই এত কমে গেল কিভাবে জানতে চাইলে আড়ৎদার বলেন যে তিনি যেখান থেকে কিনে আনেন সেখান থেকে দাম ঠিক করে দেন। সেই দামেই তিনি বিক্রি করেন। আজ সত্যিই ৩৫-৪০টাকায় বিক্রি করছে কি না যাচাই করতে ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা প্রমাণ চাওয়ার পর ডিবির হাতে হাতে একটি খাতা ধরিয়ে দিলেন আড়ৎদার। যেখানে আসল তথ্য নাকি ভুয়া তথ্য দেওয়া হয়েছে কারো জানা নেই। বিক্রির রশিদ বই চাওয়ার পর একটি রশিদ বই দেওয়া হলেও সেখানে কোনো বিক্রির কোনো তথ্য নেই। যে কারণে রশিদ বইতে বিক্রির সঠিক তথ্য জানা যায়নি। ফলে ধরে নেওয়া যায় এখানেও ভুয়া তথ্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখানেও নিশ্চুপ ডিবি পুলিশ। একটু শাসিয়ে চলে এলেন দলবল নিয়ে।

ডিবি পুলিশের এমন কর্মকান্ড নিয়ে অনেকেই সমালোচনা আর হাসাহাসি করছিলেন। ডিবি পুলিশের অভিযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকা এক ব্যক্তি বলছিলেন, ‘চেহারা দেখাইতে আসছে এইখানে। হাতেনাতে প্রমাণ দিলো তার পরেও কিছু করতে পারলো না। চেহারা দেখাইতে না আসলেও পারতো।’

বাজার তদারকি শেষ ডিবির ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা গত কয়েকদিন ধরে বেশি দামে বিক্রি করেছে। কিন্তু আজকে আমরা যেট দেখলাম অনেক জায়গায় ঠিক আছে। আবার দুই এক জায়গায় দাম বেশি ছিল। তখন আমাদের হস্তক্ষেপে দাম কমিয়ে দিয়েছে। এটি আমাদের একটি সতর্কতামূলক অবস্থান। তাই আমরা কাউকে গ্রেপ্তার করিনি।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও