গরীবদের মাথায় হাত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:১৭ পিএম, ২৩ মার্চ ২০২০ সোমবার

গরীবদের মাথায় হাত

করোনা ভাইরাস নিয়ে শহরে জনসমাগম এড়াতে ইতোমধ্যে ফুটপাতের হকার, রাস্তার পাশে খাবার দোকান, চায়ের দোকান, টঙ দোকান সহ বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এতে করে আতঙ্কে দিন কাছে ওইসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। যাদের দোকানের মূলধনই কোন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা ধার নিয়ে চলছিল। আর এ জন্য প্রতি মাসে কিংবা প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হতো।

চাষাঢ়া এলাকায় বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে দোকান বসানোর জন্য অপেক্ষায় থাকা আলামিন বলেন, ‘এভাবে থাকলে সংসার চলানো তো দূরের কথা না খেয়ে মরতে হবে। জায়গা জমি বিক্রি করে সমিতির টাকা দিতে হবে। আল্লাহ ছাড়া বাঁচানোর কেউ নেই।

সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলতেই আলামিন বলেন, ‘র‌্যাবের লোকজন রাতে ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই রাস্তায় তেমন মানুষ নেই। তাছাড়া ফুটপাতে কেউ দোকান বসাতেও সাহস করছে না। আর যারাও দোকান নিয়ে বসেছে তারাও সারাদিনে ১০০ টাকাও বিক্রি করতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘মাত্র শীত গিয়ে গরম পরতে শুরু হয়েছে। সামনে পহেলা বৈশাখ তাই সমিতি থেকে বেশি সুদে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে টিশার্ট ও জিন্স প্যান্ট কিনেছি। এগুলো বিক্রি না করতে পারলে সমিতির টাকাও পরিশোধ করতে পারবো না। বৃহস্পতিবার হলেই কিস্তি নেওয়ার জন্য ফোন শুরু হয়ে যায়। সংসার চলাবো না কিস্তি দিবো আর সেটাও কোথায় থেকে দিবো বুঝে উঠতে পারছি না। তাছাড়া বাসা ভাড়া তো আছেই। সরকার আমাদের জন্য কোন ব্যবস্থা করুক। না হলে করোনা ভাইরাসে না বরং না খেয়ে মরতে হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যে শহরে জনগনের উপস্থিতি কমে গেছে। বেচাকেনাও কমে এসেছে। ইতোমধ্যেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছেন জন জীবনে। বিশেষ করে নি¤œ শ্রেনির পেশার মানুষের মধ্যে। শহরে অনেক বসবাস কারী আছেন যারা বিশেষ করে সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা বা জীবিকা নির্বাহ করছেন। এর জন্য তাদের প্রতি দিন কিংবা সপ্তাহে ও মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয়। করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে শহরের জনসমাগম বন্ধ ঘোষণা করায় তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে এসেছে। এতে করে কিস্তি পরিশোধ তো দূরের কথা তাদের সংসার চলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ রাতে র‌্যাব-১১ এর উদ্যোগে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে ফুটপাতের হকারদের দোকান না খোলার জন্য নির্দেশ দেয়। যার সরকারি ভাবে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

চাষাঢ়া এলাকার চা বিক্রেতা ফয়সাল আহম্মেদ বলেন,‘সমিতি থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শহীদ মিনারের পিছনে চায়ের দোকান দিয়েছি। প্রতিদিন ২০০ টাকা করে কিস্তি দিতে হয়। গত তিন দিন ধরে দোকান বন্ধ। কোন ইনকাম নেই। কোথায় থেকে কিস্তি দিবো। প্রতিদিন বাসায় এসে কিস্তির জন্য বাজে কথা বলছে। এভাবে চলতে থাকলে ভাইরাস ছাড়া এমনিতেই মরে যাবো।’

তিনি বলেন, বিদেশে সরকার খাবার ব্যবস্থা করছে, ঘর ভাড়া মওকুফ করেছে, চিকিৎসার সরঞ্জাম দিচ্ছে সহ কত কিছু করছে। আমাদের তো কিছুই করেনি। বরং আমাদের দোকান খুলতে মানা করে দিলো। এভাবে আমরা কিভাবে চলবো। এ বিষয়ে সরকার কোন ব্যবস্থা না নিলে আমরা না খেয়ে মরবো।’

রিকশা চালক কাউসার বলেন, যারা সরকারি চাকরি কিংবা বড় বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে হাজার হাজার টাকা বেতন পায় তাদের জন্য শহর বন্ধ করে দেলে কোন সমস্যা নেই। তারা ঘরে বসে কাজ করতে পারবে। আর কাজ না করলেও বেতন ঠিকই পাবে। কিন্তু আমরা গরীবরা কই যাবো। যারা রিকশা নিয়ে বের না হলে দিনের ইনকাম হবে না। বউ বাচ্চা তো না খেয়ে থাকবে। সরকার আমাদের জন্য কোন ব্যবস্থা করুক। আমাদের অন্তত খাওয়ার ব্যবস্থা করুক তাহলে চলতে পারবো।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও