স্যানিটাইজার হেস্কিসোল মাস্ক সংকট : সরবরাহ নাই,তবে মিলছে চড়া দামে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২০ পিএম, ২৫ মার্চ ২০২০ বুধবার

স্যানিটাইজার হেস্কিসোল মাস্ক সংকট : সরবরাহ নাই,তবে মিলছে চড়া দামে

নারায়ণগঞ্জ জেলার সকল স্থানেই চলছে গভীর সংকট তবে সেটি রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক নয় এটি হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হেক্সিসোল, গ্লাভস, মাস্ক ও ওষুধের। বেশিরভাগ ওষুধের দোকানের বাইরেই এসব পণ্য নেই বলে নোটিশও টানিয়ে দেয়া হয়েছে। একই সাথে ওষুধের দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছেনা ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় কোন ওষুধ, নাপা ও প্যারাসিটামল, কোথাও কোথাও থাকলেও রাখা হচ্ছে চড়া মূল্য।

বুধবার (২৫ মার্চ) সরেজমিনে শহরের কালিরবাজার, খানপুর, চাষাঢ়া, ডিআইটির বিভিন্ন ফার্মেসী ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। পাশাপাশি পুরো জেলা থেকে উধাও হয়ে গেছে হ্যান্ড ওয়াশ জাতীয় সকল কোম্পানির পণ্য।

সরেজমিনে প্রতিটি ওষুধের দোকানে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলে সবগুলো দোকান থেকেই উত্তর এসেছে এসব ওষুধ নেই। কারণ জানতে চাইলে কেউ নিশ্চুপ আবার কেউবা বলেছেন সাপ্লাই নেই। কয়েকটি দোকানে এসব পণ্য থাকলেও তারা ৭ থেকে ১০ গুন বেশী দামে সেগুলো বিক্রি করছেন।

হঠাৎ করেই কেন এমন পরিস্থিতি এটি জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফার্মেসীর বিক্রেতা রেদোয়ান জানান, আমরা তো ওষুধের জন্য অর্ডার দিয়ে রেখেছি। আমাদের দোকানও ছোট। যেদিন নারায়ণগঞ্জে প্রথম করোনা ধরা পড়লো ওইদিন ১ ঘণ্টার মধ্যে আমার সব হেক্সিসোল ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার শেষ হয়ে গেছে। পরবর্তীতে অর্ডার দিয়েও আর পাচ্ছিনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দোকানি জানান, এসব ওষুধ এখন আর পাওয়া যাচ্ছেনা। কোম্পানিও যেমন সাপ্লাই দিচ্ছেনা পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়ী বেশী করে মজুদ করে রেখেছেন। আবার গ্লাভস ও মাস্কের সাপ্লাই থাকলেও সিন্ডিকেট করে ৭০ টাকা বক্সের মাস্ক ১৭০০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। ২শ টাকা করে গ্লাভসের বক্স বিক্রি করা হলেও এখন তা ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। আর হেক্সিসোল তো কোথাও পাওয়াই যাচ্ছেনা অথচ এগুলোই এখন সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন।

তারা জানান, নতুন করে সংকটের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় ওষুধ, নাপা ও প্যারাসিটামল। এসব ওষুধও চাহিদার অনুপাতে যোগান পাওয়া যাচ্ছেনা। অনেকেই কয়েকগুন বেশী দামেই এসব ঔষধ বিক্রি করছেন। তবে প্যারাসিটামলের সংকট হবেনা এটি অর্ডার করলেও পাওয়া যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক সহকারি পরিচালক ইকবাল হোসেন জানান, মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনায় হঠাৎ করেই এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। যার প্রয়োজন একটা সে কিনছে ১০টা। আগে যেখানে মাসে ৯০ টা হেক্সিসোল বিক্রি হতোনা সেখানে একদিনে ৩ হাজার বিক্রি হয়েছে। মানুষের বাড়াবাড়ি ও অতিরিক্তের কারণে এমন অবস্থা বাজারে সৃষ্টি হয়েছে। সবকিছুতেই রাষ্ট্রের একটা ক্যাপাসিটি রয়েছে, অবস্থা স্বাভাবিক হতে ১ সপ্তাহ থেকে ২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

তিনি জানান, এসিআই হেক্সিসোল আগে ৮০ হাজার উৎপাদন করতো তাও বিক্রি করতে পারতোনা আর এখন ১ লাখ ৮০ হাজার উৎপাদন করে চাহিদা মেটানো যাচ্ছেনা। আমরা আপাতত আগে হাসপাতালগুলোকে সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর সেটাই আগে করা হচ্ছে। আর মাস্ক গ্লাভসের কথা আর নাই বা বললাম, যার প্রয়োজন ১ জোড়া সে ৪ থেকে ৫ বক্স করে কিনেছে। বিশ্বের বড় দেশ যুক্তরাস্ট্রেও যেখানে মাস্ক গ্লাভসের সংকট দেখা দিয়েছে তারা আমাদের থেকে চেয়েছে সেখানে আমাদের উচিত প্রয়োজন ব্যতিত একটা জিনিসও না কেনা।

তিনি আরো জানান, কিছু ওষুধের হয়তো ক্রাইসিস থাকতে পারে তবে বেশী দাম রাখলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্যারাসিটামলের কোন সংকট নেই এই মুহূর্তে, আর এটার সংকট হবার কথাও নয়। ১৯০ টা কোম্পানি প্যারাসিটামল প্রস্তুত করে তাই সংকট হবার কোন কারণ নেই।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও