আলু ও পেঁয়াজ কেনার হিড়িক, কাঁচা সবজি চালের দাম বৃদ্ধি

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১৮ পিএম, ২৬ মার্চ ২০২০ বৃহস্পতিবার

আলু ও পেঁয়াজ কেনার হিড়িক, কাঁচা সবজি চালের দাম বৃদ্ধি

‘করোনা ভাইরাসের জন্য সরকার অফিস আদালত, দোকান, গণপরিবহন সহ সব বন্ধ করে দিয়েছে। কখন আবার নারায়ণগঞ্জ লকডাউন করে দেয় সেজন্য আলু ও পেঁয়াজ বেশি কিনে রাখছি। যাতে ঘরে থাকলেও কোন সমস্যা না হয়। আলু ভর্তা ও ডাল দিয়ে কাটিয়ে দিবো।’

শহরের পাইকারী ও খুচরা বিক্রির জন্য অন্যতম দিগুবাবু বাজারে আসা ক্রেতা রহিম উদ্দিন এসব কথাগুলো বলেন।

রহিম উদ্দিন বলেন, ‘রান্নায় বেশি আলু ও পেঁয়াজ লাগে তাই সপ্তাহে ৫ কেজি আলু ও ২ কেজি পেঁয়াজ কিনতে হয়। যদি লকডাউন হয়ে যায় তাই ২০ কেজি আলু ও ৫ কেজি পেঁয়াজ কিনে রেখেছি। কয়েক সপ্তাহ চিন্তা করতে হবে না।’

তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে আলু কিনেছি ৫ কেজি ৭০ টাকা দিয়ে। আর আজকে সেই আলু বিক্রি করছে ৯০ টাকা আর কোথাও ১০০ টাকা। কেজি প্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। পেঁয়াজেও একই অবস্থা। ৪০ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি। ৫ কেজি পেঁয়াজের দাম নিচ্ছে ২২০ টাকা।

সরেজমিনে দিগুবাবু বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে অন্যান্য দোকানের চেয়ে আলু ও পেঁয়াজের দোকানে ক্রেতাদের ভীড়। বাজারে আসা ক্রেতাদের বেশির ভাগই আলু আর পেঁয়াজ কিনছেন। তাও সর্বনি¤œ ৫ কেজি থেকে শুর” করে সর্বোচ্চ ২০ কেজি পর্যন্ত। আর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রেতারা আলু ও পেঁয়াজের দাম দুই দিনে কেজি প্রতি ৫টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে অভিযোগ ক্রেতাদের। তাছাড়া চালের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও ডাল, তেল, লবণ সহ অন্যান্য কাঁচা সবজি আগের দামে বিক্রি হচ্ছে জানান ক্রেতারা। তবে দাম বৃদ্ধির ক্রেতাদের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেন বিক্রেতারা।

বিক্রেতারা জানান, প্রতি কেজি আলু ২০ টাকা, পটল ৫০, বেগুন ৮০, সাজনা ২০০, কাঁচা মরিচ ৮০, বরবটি ৪০, উছতা ৮০, সিম ৫০, ঢেরশ ৫০, মানভেদে পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০, রসুন দেশী ১০০, বিদেশী ১৮০ টাকা, আদা ১৮০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২৫ কেজি প্রতি বস্তা মিনিকেট চাল ১৪০০, নাদির শাইল ১৩৮০, লতা ১১৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ৫ লিটার সয়াবিন তেল ৪৮০ থেকে ৪৯০ টাকা, প্রতি লিটার ১১০ টাকা খোলা সয়াবিন ১০৫ টাকা, চিনি ৬৫ টাকা, মসুরী ডাল দেশি ও নেপালী ৮০ টাকা, ভারতীয় ৭৫ টাকা, লবন চিকন ৩৫ ও মোটা ২৮ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে।

এর মধ্যে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে, বেগুন ২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০, উছতা ২০, সিম ৩০, ঢেরশ ১০, পেঁয়াজ ৫, রসুন ১০, প্রতি বস্তায় চালের দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, চিনি ২ থেকে ৩ টাকা।

ক্রেতা সোহেল জানান, পেঁয়াজ, আলু সহ সকল কাঁচা সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। জিজ্ঞাস করলেই বলে যানবাহন বন্ধ করে দিয়েছে সরকার গাড়ি আসতে পারছে না। তাই দাম বেড়েছে। কিন্তু গাড়িতো এখনও বন্ধ হয়নি মানুষ বেশি কিনছে তাই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

কাঁচা সবজি বিক্রেতা খোরশেদ আলম জানান, ‘দূর দূরান্ত থেকে যেসব কাঁচা সবজিগুলো আসে সেগুলোর দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি। কিন্তু অন্যান্য সবজির দাম আরো কমেছে।

পেঁয়াজ বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘অন্যান্য দিনে ১০০ থেকে ১২০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হলে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ কেজি। সবাই এসে ৫ কেজি করে পেঁয়াজ চাইছে। পেঁয়াজের দাম বাড়েনি বরং কমেছে। কারণ কিছুদিন আগেও পেঁয়াজের দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি যা এখন ৪৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।’

আলু বিক্রেতা ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘আলু প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি বিক্রি হয়। গত দুই দিনে সেটা বেড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি হয়েছে। নতুন আলু নামছে দাম বাড়ার কোন প্রশ্নই নেই। আর প্রতিদিন সকাল বিকেলে ম্যাজিস্ট্রেট ঘুরে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করবে এমন সাহস কারো নেই।’

চাল বিক্রেতা তুষার বলেন, ‘চালের দাম বাড়েনি। আগের দামেই চাল বিক্রি করছি। ক্রেতাদের অভিযোগ মিথ্যা।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত বাজারগুলো মনিটরিং করছি। দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে তাদের জরিমানা সহ জেল দেওয়া হচ্ছে। কাঁচা সবজির দাম ৫ টাকা কম বেশি হলেও অন্যান্য দাম বাড়েনি। তারপর কেউ অভিযোগ দিলে ওই দোকানদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও