চাষাঢ়ায় হাত ধুতে বেশী ভিড় র‌্যাবের বসানো বেসিনে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৫ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২০ সোমবার

চাষাঢ়ায় হাত ধুতে বেশী ভিড় র‌্যাবের বসানো বেসিনে

হাত ধোয়া কোন কঠিন কিংবা আশ্চর্য হওয়ার মতো কাজ নয়। তবেও বর্তমানে এর গুরুত্ব অনেক। ভালোভাবে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেললে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু সেই কাজটিই অনেকে ঠিক মতো করেন না। তবে আবাক করার মতো হলে রিকশা চালক, হকার ও দিনমজুররা ঠিকই সময় মতো হাত ধুয়ে নিচ্ছেন। তারা পেটের দায়ে বাইরে বের হলেও যেখানেই হাত ধোয়ার সুযোগ পাচ্ছেন সেখানেই ঘন ঘন দুই হাত ধোয়ে নিচ্ছেন।

৩০ মার্চ সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর এলাকায় খাজা মার্কেটের সামনে র‌্যাব-১১ এর বসানো বেসিনে কয়েক শতাধিক রিকশা চালক, হকার ও দিনমজুরকে হাত ধুয়ে নিতে দেখা যায়।

এসময় দেখা যায় তাদের মুখে মাস্ক থাকলেও হাতে কোন গ্লাভস নেই। রিকশা নিয়ে এসেই খাজা মার্কেটের সামনে থামিয়ে বেসিনে হাত ধুয়ে নিচ্ছেন। তাও প্রত্যেক প্রায় ২০ মিনিট ধরে হাত ধুয়ে নিচ্ছেন।

রিকশা চালক এনামুল বলেন, করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে মাইকিং করে সব জায়গা বলেছে ঘন ঘন হাত ধোয়ার জন্য। তাই একজন যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার পরই যেখানে সুযোগ পাচ্ছি হাত ধুয়ে নিচ্ছি।’

মাইকিং করে তো বলেছে ঘর থেকে বের না হতে। তাহলে বের হয়েছেন কেন? তিনি বলেন, পেটের দায়ে। নিজের একার পেট হলে না হয় কষ্ট করে থাকতে পারতাম। কিন্তু স্ত্রী সন্তানদের না খাইয়ে কিভাবে ঘরে বসে থাকি। তাই বাধ্য হয়ে বের হতে হয়েছে। তবে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে মাস্ক কিনে ব্যবহার করছি। কিন্তু একটা গ্লাভস কিনে বেশি দিন পরা যায় না তাই পরছি না। এজন্য যেখানে হাত ধোয়ার বেসিন দেখছি সেখানেই ধুয়ে নিচ্ছি।

কাসেম মিয়া বলেন, ‘সরকার বার বার হাত ধোয়ার জন্য বলছে। তাহলে করোনা হবে না। এজন্য বার বার হাই ধোয়ে রাখি। বের হইতাম না। কিন্তু সংসারে চলবে না। তাই বের হয়েছি।’

তিনি বলেন, এখান রাস্তার পাশে যেখানে সেখানে হাত ধোয়ার সুযোগ আছে। আর গরমের দিন। রিকশায় একটা যাত্রী নামানোর পর পানির তৃষ্ণা লাগে। তাই হাত ধুয়ে পানি পান করতে পারি। করোনা ভাইরাসে আমাদের গরীব মানুষের জন্য এ সুবিধা ভালো হয়েছে। এখন পানির জন্য কষ্ট করতে হয় না। আগে তো হাত ধোয়া তো দূরের কথা পান করার জন্য পানি খুঁজতে মসজিদে যেতে হতো।’

হকার মালেক মিয়া বলেন, ‘হাত ধোয়া থাকলে জীবানু ছড়ায় না। তাই বার বার হাত ধুয়ে রাখি। কারণ মানুষকে মালামাল দেখাতে টাকা নিতে গিয়ে বার বারই এক হাত থেকে অন্যহাত হচ্ছে। কোথায় থেকে কার থেকে ভাইরাস চলে আসে তাই পরিস্কার থাকার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, বের না হলে খাবো কি। সরকার ত্রাণ দিচ্ছে। কিন্তু সেটা তো তাদের মুখচেনা মানুষদের। তালিকা করে ত্রাণ দিচ্ছে। আমাদের তো তালিকায় নাম নেই তাই ত্রাণও দেয় না। না খেয়ে মরার চেয়ে করোনা ভাইরাসে মরা অনেক ভালো।’


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও