করোনা আতঙ্কে বন্ধ সেন্ট্রাল খেয়া ঘাট, ভোগান্তিতে যাত্রী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫৭ পিএম, ৩ এপ্রিল ২০২০ শুক্রবার

করোনা আতঙ্কে বন্ধ সেন্ট্রাল খেয়া ঘাট, ভোগান্তিতে যাত্রী

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আক্রান্ত হয়ে এক নারী মৃত্যুবরণ করেছে। সেই আতঙ্কে সেন্ট্রাল খেয়া ঘাটের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে করে লাখ লাখ যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। যার ফলে অনেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

৩ এপ্রিল শুক্রবার সেন্ট্রাল খেয়াঘাট ঘুরে নানা তথ্য পাওয়া যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেন্ট্রাল খেয়া ঘাটে কোন ধরনের নৌ যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। নৌকা কিংবা ট্রলার কোন যান চলাচল করছেনা। তাই সব যাত্রীরা ফিরে যাচ্ছে। নদী পারপার হতে কেউ অন্য খেয়া ঘাটে ঘুরে যাচ্ছে। আবার অনেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সেন্ট্রাল খেয়া ঘাটে সামাজিক দূরত্ব কিছুতেই রক্ষা করা যাচ্ছিলনা। ট্রলারে সবচেয়ে বেশি জটলা দেখা দেয়। যেকারণে এই অজুহাতে কয়েকদিন আগে ট্রলার সার্ভিসটি বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে নৌকা চলাচল স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ২ এপ্রিল রাতে বন্দরের ২৩ নং ওয়ার্ডে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যুবরণের খবরে নৌকা সার্ভিসটিও বন্ধ করে দেয়া হয়।

শফিক নামের এক যাত্রী বলছেন, আমার বাবা খুবই অসুস্থ। সে হার্টের রোগী। এর আগে একবার সে স্ট্রোক করেছে। এখন বুকে ব্যাথা উঠেছে। বন্দরে তেমন ভাল চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। এই অবস্থায় সেন্ট্রাল খেয়া ঘাট বন্ধ থাকায় অন্য ঘাট দিয়ে ঘুরে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

রুমা বেগম জানান, বন্দরে সব ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়না। তাই নারায়ণগঞ্জে যাচ্ছি। আমার মায়ের জন্য ক্যাডমিন প্লাস ও মন্টিকাষ্ট ওষুধ কিনতে হবে। কিন্তু এখন দেখছি ঘাটে কোন নৌযান চলাচল করছেনা। তাই কি করবো বুঝতে পারছিনা।

সেন্ট্রাল খেয়া ঘাটের নৌযান বন্ধ করে দেওয়াতে পার্শ্ববর্তী স্কুল খেয়া ঘাট দিয়ে সব যাত্রীরা নদী পারাপার হয়। তবে চাহিদার তুলনায় নৌযান সংখ্যা একেবারে সীমিত ছিল; যেকারণে বন্দর স্কুল ঘাটে জটলা দেখা যায়। হুড়োহুড়ি করে যাত্রীরা কোন রকমে নদী পারাপার হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোন বালাই ছিলনা যাত্রীদের মাঝে। এতে করে করোনা ভাইরাসে সংক্রামণের শঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দর স্কুল ঘাট-টানবাজার খেয়া ঘাটটি দিয়ে মাত্র একটি ট্রলার ও গুটি কয়েক নৌকা চলাচল করছে। সেই একটি ট্রলারে ৫০-৬০ জন যাত্রী ঠাসাঠাসি করে আরোহন করা হয়। অন্যদিকে গুটি কয়েক নৌকার কোন একটি জেটিতে ভিড়তেই যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে নৌকার আরোহন করছে। এতে সামাজিক দূরত্ব কোনভাবেই বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছিলনা। যেকারণে করোনা ভাইরাসে সংক্রামণের শঙ্কা আরো তীব্র হচ্ছে।

যাত্রীরা জানায়, নদী পারাপার হতে কোন উপায় নেই। এভাবে ঠাসাঠাসি করে ট্রলার দিয়ে পারাপার হতে হবে। এখন করোনার চিন্তা করলে হবেনা। সেন্ট্রাল খেয়া ঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে স্কুল ঘাট দিয়ে পারাপার হচ্ছি। একটি মাত্র ট্রলার চলাচল করছে। ট্রলার জেটিতে পৌঁছাতেই যাত্রীরা সবাই আরোহন করছে। কেউ পরে যেতে চাইছেনা। আর একটি ট্রলার ঘুরে আসতে আসতে অনেক যাত্রী জড়ো হচ্ছে। তাই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়েই ট্রলার পারাপার করা হচ্ছে। যাত্রীরা এখানে জিম্মি হয়ে গেছে বলা চলে।

আক্কাস আলী জানায়, আমার ডায়াবেটিকের সমস্যা দেখা দিয়েছে। বন্দরে ভাল কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া আমি সবসময় নারায়ণগঞ্জে ডাক্তার দেখিয়েছি। তাই শহরের দিকে যাচ্ছি। কিন্তু সেন্ট্রাল খেয়াঘাট বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে স্কুল ঘাট দিয়ে নদী পারপার হচ্ছি। যদিও করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়েই ঘাট পার হতে হচ্ছে।

সুলতানা বেগম বলেন, আমার মায়ের হাইপ্রেসার সহ নানা সমস্যা রয়েছে। বন্দরের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালনা বিধায় নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসা নিতাম। কিন্তু আজকে সেন্ট্রাল খেয়া ঘাটে এসে চরম বিপাকে পড়েছি। অবশেষে বাধ্য হয়ে স্কুল ঘাট দিয়ে করোনার ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছি। ঘাটে নৌকা ও ট্রলার সীমিত আকারে রয়েছে। যেকারণে বাধ্য হয়েই ঠাসাঠাসি করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছি। তবে সাথে হ্যান্ডসেনিটাইজার আছে নদী পার হয়ে ব্যবহার করে নিব।

উল্লেখ্য, ২ এপ্রিল রাতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ২৩নং ওয়ার্ডের রসুলবাগ এলাকা লকডাউন করে দিয়েছে প্রশাসন। বন্দরের ২৩নং ওয়ার্ডের রসুলবাগ এলাকার জামাল সোপ কারখানা থেকে রসুলবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কটি লক ডাউন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এ সড়কের দুই পাশে সবকিছু বন্ধ থাকবে। এতে করে শতাধিক পরিবার লক ডাউন হয়ে গেছে। সেই আতঙ্কে পরের দিন সকাল থেকে সেন্ট্রাল ঘাটের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও