নারায়ণগঞ্জের যেসব এলাকা আক্রান্ত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০২ পিএম, ৫ এপ্রিল ২০২০ রবিবার

নারায়ণগঞ্জের যেসব এলাকা আক্রান্ত

নারায়ণগঞ্জ সহ সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস। দিন দিন যেন এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছ। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জে ২ জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সেই সাথে অনেকে আক্রান্তও হয়েছেন প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে। আর এসকল ঘটনায় সারা নারায়ণগঞ্জজুড়ে লকডাউনকৃত এলাকার সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে। একের পর এক এলাকা লকডাউন করে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। সেই সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে লকডাউনের বিষয়টি জোরদার করে যাচ্ছেন।

জামতলা
করোনায় আক্রান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলায় ব্রাদার্স রোড এলাকায় গিয়াসউদ্দিন (৬০) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। ৫ এপ্রিল রোববার বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোস্তাফা আলী, স্থানীয় ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার, ফতুল­া মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বাড়িটি অঘোষিত লক ডাউন করে দিয়েছে।

নন্দিপাড়া
শহরের নন্দিপাড়া এলাকার ৫ শতাধিক পরিবারকে লকডাউন করে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও জেলা স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটির সদস্যরা। এসময় তাদের কাউকে ঘর থেকে বের না হতে এবং বাইরে থেকে কাউকে ঘরে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। যে কোন প্রয়োজনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। ৫ এপ্রিল রোববার বিকেলে সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা ও প্রধান স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা শেখ মোস্তফা আলীর নেতৃত্বে ওই লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এসময় স্থানীয় কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধানও উপস্থিত ছিলেন।

পালপাড়া
বন্দরে করোনায় এক নারীর মৃত্যুর ঘটনার পর সেখানে লকডাউনের পর জ্বর ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের পুরাতন পালপাড়ায় এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ওই এলাকায় প্রবেশের দুই মুখ টিন দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী যাতে করে বহিরাগত কেউ প্রবেশ না করতে পারে কিংবা ওই এলাকার কেউ অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হতে পারে। গত ৩ এপ্রিল শুক্রবার রাতে পালপাড়া এলাকার বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে একটি মুখ গেইট দিয়ে তালা দেওয়া হয়। এছাড়াও অন্যদিকে ফকিরটোলা মসজিদের পাশে টিন দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পাইকপাড়া
বন্দরে মারা যাওয়া ওই নারী তার বাবার বাড়ি শহরের পাইকপাড়া এলাকাতেও গিয়েছিলেন। সেখানেও একটি বহুতল ভবনসহ দুটি বাড়িকে লকডাউন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত লকডাউন অব্যাহত থাকবে। এই লকডাউনের মেয়াদ আগামী ১৪ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

পাঠানটুলি
সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলী এলাকার একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাসহ ৯টি পরিবারের ২৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত ৩ এপ্রিল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় নাসিক ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়। এ বাড়ির একজন নারী যিনি বাড়িওয়ালা তিনি বন্দরে করোনায় মৃত নারীকে গোসল করিয়েছিলেন।

বাবুরাইল
শহরের এক নং বাবুরাইল এলাকাতে ফয়সাল সুজন (৪৬) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। তিনি ব্যবসায়িক কাজে ভারত ও চিনে যাতায়াত করতেন। জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে শনিবার ৪ এপ্রিল সকালে তাঁর মৃত্যুর পর গুজবে মরদেহ দাফনের জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে দুপুরে পুলিশের প্রহরায় দাফন করা হয়।তার মৃত্যুর পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ ও স্থানীয় কাউন্সিলর আফসানা আফরোজ বিভা জানিয়েছেন, সুজন একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার প্রয়োজনে বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেন। তিনি গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে সর্দি, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত শুক্রবার রাত ১টায় হাঠাৎ বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে বেড়ে গেলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যায় সে। ইতোমধ্যে পরিবারের ১৩ সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

কাশীপুর
নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আবু সাঈদ মাতবর (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় কাশীপুর ‘বড় আমবাগান’ এলাকার দুই শতাধিক পরিবারকে লকডাউন করে দিয়েছে প্রশাসন। এসময় এলাকায় প্রবেশের চারদিকের রাস্তায় পাহারা বসিয়েছে পুলিশ। যাতে কেউ প্রবেশ কিংবা বাহির হতে না পারে। ৪ এপ্রিল রাত ১টায় উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ‘বড় আমবাগান’ এলাকার উত্তরে হেয়ায়েতুল­াহ খোকনের বাড়ি থেকে দক্ষিণে বাংলাবাজার ব্যাংকের মোড় পর্যন্ত এবং প‚র্বে হাসেমবাগ লেন মোড় থেকে পশ্চিমে প্রধান বাড়ির মেইন রোড পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেন সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক।

আমলাপাড়া ও গলাচিপা
শহরের আমলাপাড়া ও গলাচিপা এলাকার দুটি বাড়িতে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে আমলাপাড়া এলাকার একজন সনাতন ধর্মালম্বী স্ব উদ্যোগে গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর পরেই ওই বাড়িতে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়।

অপরদিকে শহরের গলাচিপা এলাকার একটি বাড়িতেও সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। ওই বাড়িতে তিনজন রয়েছে যারা বন্দরে ৩০ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া নারীর আত্মীয় স্বজন। এ কারণেই ওই তিনজনের বাড়িতে যান সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

চাষাঢ়া
শহরের উত্তর চাষাঢ়ায় একটি বাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। গত শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সদর মডেল থানা পুলিশ এ লকডাউন করে দেন। দুই তিনদিন আগে একজন ভারত থেকে এসে গোপনে এ বাড়িতে উঠেন। তারপর থেকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা থাকলেও তিনি তা না থেকে ঘুরে বেড়ান। পরে তাদেরকে লকডাউন করে দেয়া হয়।

বেইলি টাওয়ার
চাষাড়ায় বেইলী টাওয়ারে বসবাসরত এক ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় বেইলি টাওয়ারকে অঘোষিত লকডাউন করে দেয়া হয়েছেন। গত ২৩ মার্চ রাতে ওই ডাক্তারের জ্বর আসে। গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত তিনি বাসায় ছিলেন। এরপর গত ২৫ মার্চ তিনি ডাক্তার দেখাতে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনায় আক্রান্ত সন্দেহ হলে সেখানকার ডাক্তাররা তাকে করোনা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। ডাক্তারদের পরামর্শে তিনি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে করোনার পরীক্ষা করান। পরীক্ষা শেষে রেজাল্ট পজিটিভ আসে। পরবর্তীতে এই ঘটনায় বেইলি টওয়ারকে লকডাউন করে দেয়া হয়।

বন্দরের রসুলবাগ
গত ২৯ মার্চ শিউলী ওরফে পুতুল নামে ৪৫ বছর বয়সী এক নারী রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেদিনই তাকে বন্দর নিয়ে এসে দাফন করা হয়। নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা শেষে ২ এপ্রিল করোনার পজেটিভ রিপোর্ট ধরা পড়ে। এ ঘটনায় জানার পর রাতেই প্রশাসন ও পুলিশ সেখানে উপস্থিত হন। রাতেই বন্দরের রসুলবাগ এলাকার জামাল সোপ কারখানা থেকে রসুলবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কটি লক ডাউন করে দেয়া হয়। সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সাথে নিহত নারীকে দাফনের আগে গোসল করানো নারীর বাসাও লকডাউন করেছে প্রশাসন। এছাড়া চিকিৎসা সেবা দেওয়ায় ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয় সহ ৭জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার রসুলবাগ জামে মসজিদ ও বাগবাড়ি জামে মসজিদে জুমআর নামাজ হয়নি। পাইকপাড়া এলাকায় ওই নারী বাবার বাড়ির বাবা-মা সহ পরিবারের সকলকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

লামাপাড়া
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ফতুল­া প‚র্ব লামাপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি ও পাশের সড়কটি লকডাউন করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এই বাড়িতে করোনা আক্রান্ত এক রোগী শনাক্ত হওয়ায় ৫ এপ্রিল রোববার দুপুর ৩টা হতে ওই লাকডাউনের ঘোষণা দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক। তিনি জানান, প‚র্ব লামাপাড়া এলাকায় স্বপ্নানীড় নামে একটি ভবনে এক করোনা রোগী ছিল। দুদিন আগে তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার করোনার পরিজিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে। একারণে সতর্কতাম‚লক হিসেবে ওই বাড়ি সহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। সেখানে বসানো হয়েছে পুলিশের প্রহরা। ইতোমধ্যে এসব বাড়িতে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরো দেয়া হবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও