বুধবার থেকে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলা লকডাউন

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪১ পিএম, ৭ এপ্রিল ২০২০ মঙ্গলবার

বুধবার থেকে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলা লকডাউন

পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ৭ এপ্রিল রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ‘করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে ৮ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলাকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হলো। তবে জরুরী পরিসেবা যেমন চিকিৎসা, খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ ইত্যাদি এর আওতাবহির্ভূত থাকবে। অসামরিক প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে কাজ করবে।’

এর আগে ৫ এপ্রিল রাতে জেলা প্রশাসনের জরুরী সভায় ৬ এপ্রিল থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকা, বন্দর উপজেলা ও সদর উপজেলার এলাকায় লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর পর থেকে কঠোর হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রচুর টহল ও কাজ করলেও জনগন সচেতন হচ্ছে না। যে সড়ক দিয়ে সেনাবাহিনী, র‌্যাব কিংবা পুলিশ টহল দেয় সেখানে লোকজন সরে গেলেও পরে আবার চলে আসে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৪১ জন যাদের মধ্যে ১৫ জনই নারায়ণগঞ্জের। এ নিয়ে দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্তে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইনে বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

এরই মধ্যে জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, আক্রান্তদের মধ্যে যাদের সাথে কথা হয়েছে তাদের প্রবাসীদের সংস্পর্শে আসার তথ্য আমরা তেমন একটা পাইনি। এখন এটি লোকাল কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে। এখন আর এ রোগ বিস্তারের জন্য প্রবাসীদের প্রয়োজন হচ্ছেনা। তাই সকলকে এখনি সচেতন হতে হবে, ঘরে অবস্থান করতে হবে। কোনভাবেই বাইরে বের হওয়া যাবেনা।

মরণঘাতী ভয়াবহ করোনা ভাইরাসে ঢাকার পরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দারা। ঢাকার পরই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা। এজন্য নারায়ণগঞ্জকে করোনার ক্লাস্টার বলছে আইইডিসিআর। পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সোমবার ব্রিফিংয়ে বলেন, “নারায়ণগঞ্জে ক্লাস্টার হিসেবে চিহ্নিত করেছি, সেখানে বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ওখান থেকে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে।”

ক্লাস্টার এলাকার বিষয়ে ফ্লোরা বলেন, “যদি কোথাও একই জায়গায় কম দূরত্বের মধ্যে একাধিক রোগী থাকে তখনই আমরা সেটাকে ক্লাস্টার হিসেবে আইডেন্টিফাই করে ইনভেস্টিগেশন করে থাকি।”

ইতোমধ্যে করোনা উপসর্গে নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া এলাকাতে সিদ্দিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তি মারা গেছে। ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে তিনি মারা যান।

নারায়ণগঞ্জে সঙ্গীত জগতের আলোচিত মুখ ‘হিরো লিসান’ ইন্তেকাল করেছেন যাঁর প্রকৃত নাম খাইরুল আলম হিরো (৩০)। প্রচন্ড জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগে ৭ এপ্রিল ভোরে তিনি মারা যান। পরে শহরের দেওভোগ এলাকার বাসা থেকে তার মৃতদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর চেষ্টা করলে আশেপাশের লোকজনের বাধায় সেটা ফেলে রেখেই চলে যান চালক। ওই সময়ে পরিবারের লোকজনও আসেনি ধরতে।

শহরের চাষাঢ়া মাসুদা প্লাজার মালিক চৌধুরী মুহাম্মদ হাসানের শরীরে করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল আইইডিসিআরের দেওয়া রিপোর্টে সেটা উল্লেখ করা হয়। এর আগে সোমবার দিনগত রাত ১২টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থার মারা যান।

নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৮নং ওয়ার্ডে করোনা আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম ফারুক আহমেদ (৫০)। সে নারায়ণগঞ্জ শহরের শীতলক্ষ্যায় বসবাস করেন। ৬ এপ্রিল দুপুরে তিনি মারা যান। খবর পেয়ে সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা এলাকায় ফারুকের বাড়ি ও আশপাশ লকডাউন করে দেওয়া হয়।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলায় ব্রাদার্স রোড এলাকায় গিয়াসউদ্দিন (৬০) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। ৫ এপ্রিল রোববার বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

শহরের দেওভোগ আখড়া রথবাড়ি এলাকাতে চিত্তরঞ্জন ঘোষ নামের একজনের মৃত্যু ঘটে। তিনি শহরের সোনারবাংলা মার্কেটে একটি কাপড়েরর দোকানের কর্মচারী।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে আবু সাইদ মাতবর (৫৫) নামের হোসিয়ারী ব্যবসায়ী মারা গেছেন। গত ৪ এপ্রিল সকাল ৯টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু সাইদ মাতবর মারা যান। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুচিন্তানগর এলাকার বাসিন্দা। মৃতের বাড়ি বাংলাবাজার আমবাজার আম্মাজান মঞ্জিলে। তিনি মৃত আলী হোসেন চেয়ারম্যানের ছেলে। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

এর আগে শিউলী ওরফে পুতুল নামে ৪৫ বছর বয়সী এক নারী প্রচন্ড জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। গত ২৯ মার্চ তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেল সেখানকার ডাক্তার তাকে ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেন।  কিন্তু সেটা না করে বন্দরে তার বাসায় নিয়ে আসে। পরদিন গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেদিনই তাকে বন্দর নিয়ে এসে দাফন করা হয়। নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা শেষে গত ২ এপ্রিল করোনার পজেটিভ রিপোর্ট ধরা পড়ে। এ ঘটনায় জানার পর রাতেই প্রশাসন ও পুলিশ সেখানে উপস্থিত হন। রাতেই বন্দরের রসুলবাগ এলাকার জামাল সোপ কারখানা থেকে রসুলবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কটি লক ডাউন করে দেয় হয়। সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও