‘আম্মা কইছে বেতন দিলে তরমুজ কিইনা দিব’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৫ পিএম, ১২ মে ২০২০ মঙ্গলবার

‘আম্মা কইছে বেতন দিলে তরমুজ কিইনা দিব’

‘আমার আম্মার গার্মেন্টের মালিক বেতন দেয় না। তাই আম্মার সাথে আইছি বেতন নিতে। আজকে অনেক গরম তাই আম্মারে কইছি আজকে বেতন দিলে তরমুজ কিইনা বাসায় নিয়া যামু। আম্মার বেতন না নিয়া আমি যামু না।’

১২ মে মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বাংলাদেশ নীটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) কার্যালয়ের সামনে কথাগুলো বলছিল ১০ বছরের শিশু নাঈম। আলপাইন নিট ফেবরিক্স লিমিটেডের শ্রমিক সুলতানা বেগমের সন্তান সে। মায়ের বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনে মাকে সঙ্গ দিতে তপ্ত রোদেও নাঈম এসেছে।

বকেয়া বেতন পরিশোধ ও ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বাংলাদেশ নীটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) কার্যালয়ের সামনে ফকির গার্মেন্টস, ফাহিম অ্যাপারেলস ও আলপাইন নিট ফেবরিক্স লিমিটেডের শ্রমিকেরা ওই সমাবেশ করে।

এর আগে সকাল ১১টা থেকে চাষাঢ়া শহীদ মিনারে তিনটি গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা জড়ো হতে শুরু করে। পরে সেখান থেকে একটি মিছিল করে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক ঘুরে বিকেএমইএর কার্যালয়ের সামনে প্রায় ১ ঘণ্টা অবস্থান করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন নারায়ণগঞ্জ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলার উপ মহাপরিচালতের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

নাঈমের মা সুলতানা বেগম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘বাবা (নাঈম) তরমুজ খাইতে চাইছে আমি সেইটাও ওর মুখে দিতে পারি নাই। তিন মাস ধইরা মালিক বেতন দেয় না। এতদিন খাইয়া না খাইয়া বাইচা আছিলাম। এখন আর পারি না। ছেলেটারে একমাস ধইরা খালি আলু ভর্তা দিয়া ভাত খাওয়াই। আমাগো সন্তানেরে তাঁরা (গার্মেন্ট মালিক) মানুষের সন্তান মনে করে না? আমাগো কি সন্তান নিয়া একটু ভালো খাইতে ইচ্ছা করে না?’

সুলতানা বেগম আরো বলেন, ‘ছেলেটা গ্রামে থাকে সেইখানেই স্কুলে ক্লাস ফাইভ’এ পড়ালেখা করে। লকডাউনের আগে বেড়াইতে আইছিলো। কে জানতো এইখানে আটকায়া যাইবো। গ্রামে মামার বাড়িতে থাকলে অন্তত ভালো-মন্দ খাইতে পারতো। এখন সেইটাও ওরে দিতে পারতাছি না। আজকে বেতন নিতে আসার সময় জেদ করতাছিল তাই নিয়া আইছি। ভাবছিলাম বেতন নিয়া তো বাসায় চইলা যামু। কিন্তু আজকেও বেতন দিলো না। কবে দিবো তাও জানি না। সবাই চাষাঢ়া আইছে তাই ওরে নিয়াই আমিও আইছি।’

বকেয়া বেতনের দাবিতে সালমা বেগমের মতই এসেছেন অবিরণ বেগম (৫৫)। অভাবের তাড়নায় ৬ মাস আগে বিধবা মেয়ে আর ৮ বছরের নাতিকে নিয়ে গ্রাম থেকে শহরে এসেছিলেন তিনি। ৫ মাস ধরে কাজ করছেন আলপাইন নিট ফেবরিক্স লিমিটেডে। মাত্র দুই মাসের বেতন পেয়েছেন, বকেয়া পড়েছে বাকি ৩ মাসের।

নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, ‘গ্রাম থেইকা আইলাম একটু ভালো থাকার আশায়। কিন্তু এখন আরো বিপদে পইরা গেলাম। প্রথম দুই মাসের বেতন দিয়া ভালোই চললাম। আমার বেতন আটকানোর পরে মাইয়ার বেতন দিয়া কোনো রকমে চললাম। এখন মাইয়ারও কাজ নাই। নতুন আইছি তাই দোকানেও বাকি খাইতে পারি না। কাউরে চিনি না কার কাছে চামু। বাড়িওয়ালার দয়াতে ভাড়া দিতে হয় নাই। কিন্তু খাওনের টাকাও এখন নাই। গার্মেন্ট খোলার পরে বাড়িওলাও কইছে একটু একটু কইরা ভাড়া দিতে। কিন্তু দিমু কেমনে। গার্মেন্ট মালিক যে বেতনই দেয় না।’

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলার উপ মহাপরিদর্শক সৌমেন বড়–য়ার মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চষ্টে করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও