নারায়ণগঞ্জে নামেই করোনা হাসপাতাল!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫০ পিএম, ১২ মে ২০২০ মঙ্গলবার

নারায়ণগঞ্জে নামেই করোনা হাসপাতাল!

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্র ৩০০ শয্যা হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব উদ্বোধন করে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টও দেওয়া হচ্ছে। ফলে জানা যাচ্ছে কারা আক্রান্ত হয়েছেন আর কে সুস্থ আছেন। তবে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তারাই পাচ্ছেন না যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা। হাসপাতাল যেখানে চিকিৎসার প্রয়োজনে সেখানে পরীক্ষা হয় কিন্তু চিকিৎসার সু-ব্যবস্থাই নেই। সিটি করপোরেশনের মেয়র, সাংসদ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতি, সামাজিক সহ সর্বস্তরের মানুষের দাবিতে দ্রুতই ল্যাব হয়েছে কিন্তু উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকাই সবই মুখ থুবুড়ে পড়েছে।

রোববার বিকেলে ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় জানান, শনিবার রাতে আইসোলেশনে করোনা আক্রান্ত নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

এরপর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্র ঘোষণা করলেও এর আনুষ্ঠানিক কোন পরিবর্তন এখনও হয়নি। ১০ শয্যার আইসিইউ ও ৪০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট ঘোষণা করা হয়। ইতোমধ্যে আইসোলেশন ইউনিটে তৈরি করা হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসার সরঞ্জাম নেই। তাছাড়া এখনও তৈরি হয়নি আইসিইউ। ফলে আসেনি অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর সহ চিকিৎসার সরঞ্জাম। তাছাড়া হাসপাতালটিতে ৩৯ জন ডাক্তার, নার্স ও ওয়ার্ডবয় ইতোমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আলাদাভাবে আইসোলেশনে রয়েছেন। যার মধ্যে ডা. গৌতম রায় নিজেও আইসোলেশনে। ফলে হাসপাতাল চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে।

হাসপাতালটি বর্তমানে তদারকি করছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. শামসুদ্দোহা সরকার সঞ্চয়।

হাসপাতালে বিশেষ করে এন-৯৫ মাস্ক, ওয়ানটাইম পিপিই, নেই ফেইস সিড, কিংবা উন্নত মানের গ্লাভসও। যার কারণেই হাসপাতালে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়া ডাক্তার, নার্স ও ওয়ার্ডবয়রা আক্রান্ত হচ্ছেন।

ওইসব নার্সরা জানান, ‘আইসোলেশন ইউনিট করা হলেও সেখানে চিকিৎসার কিছুই নেই। রোগীর জন্য শয্যা ছাড়া অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর, গরম পানির ব্যবস্থা কিছুই নেই। তাছাড়া আইসিইউ করা হলেও সেটা এখনও পর্যন্ত নির্মাণকাজ চলমান। কবে কাজ শেষ হবে কেউ বলতে পারেন না।’

ইতোমধ্যে রোববার দুপুরে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে অক্সিজেনের অভাব, ডাক্তার নার্স নাই এগুলো যেন দ্রুত করা হয় সেজন্য সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শুধু নামে করোনা হাসপাতাল যেন না হয়। কারণ যেহেতু সব দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছে সেহেতু সংক্রামনের হারও দ্রুত বাড়তে পারে।’

এখনও পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের অভিযোগ, ঢাকায় কিংবা অন্য হাসপাতালে তাদের স্বজনরা ভালো ভাবে অক্সিজেন না পাওয়ায় মারা গেছেন। তাদের ওই অভিযোগের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের করোনা হাসপাতালে অতিদ্রুত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় এ হাসপাতালেও রোগীরা অক্সিজেনের অভাবে মারা যাবে।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনেরা বলেন, পরীক্ষা করে হয়তো করোনা শনাক্ত হওয়া যাবে। কিন্তু উন্নত চিকিৎসা না পেলে শনাক্ত হয়ে উল্টো ভয় আরো বাড়বে। চিকিৎসার অভাবে মানুষ মারা যাবে। তাই দ্রুত এ হাসপাতালে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে জানতে ৩০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. শামসুদ্দোহা সরকার সঞ্চয় এর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও