গণ পরিবহন ছাড়াই নাড়ির টানে নারায়ণগঞ্জ ছাড়ছে সাধারণ মানুষ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫০ পিএম, ২৩ মে ২০২০ শনিবার

গণ পরিবহন ছাড়াই নাড়ির টানে নারায়ণগঞ্জ ছাড়ছে সাধারণ মানুষ

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের শঙ্কায় এবারের ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ ও বাহিরের ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই শক্ত অবস্থানে ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন। তবে শেষের দিকে সেই শক্ত অবস্থান থেকে কিছুটা সড়ে আসে পুলিশ প্রশাসন। নিজস্ব পরিবহণে যাতায়াত করার সুযোগ করে দেয়া হয়। আর এই সুযোগে গণপরিবহণ ছাড়াই নিজস্ব পরিবহণে কিংবা ভাড়া করে পরিবহণে নাড়ীর টানে নারায়ণগঞ্জ ছাড়তে শুরু করে সাধারণ মানুষজন। জীবন ও জীবীকার তাগিদে অন্য জেলা থেকে আসা কিংবা নারায়ণগঞ্জ থেকে অন্য জেলায় যাওয়া প্রায় সকলেই বাড়ি ফিরেছেন।

এর আগে গত ১৯ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম বলেছিলেন, ঈদের আগে আর কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না। ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যতিত কাউকেই জেলায় প্রবেশ করতে কিংবা বের হতে দেওয়া হবে না। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-মুন্সীগঞ্জের পথে যারা রয়েছেন তাদের ফিরে যেতে হবে। নারায়ণগঞ্জ দিয়ে কোনোভাবেই ঢাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

ঠিক একইভাবে গত ২০ মে নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থা না। আমরা চাচ্ছি, সোজা কথা কেউ বাইরে যেতে চাইলে তাঁকে সেখানে বসিয়ে রাখা হবে। এমনও হতে পারে তাঁর ঈদ রাস্তায় বসে কাটাতে হতে পারে। ঢাকা কিংবা নারায়ণগঞ্জ থেকে আমরা কাউকে বাড়িতে যেতে দিবো না। আমরা এ বিষযে কঠোর থাকবো।’

কিন্তু এর পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা আছে যাঁরা ঈদে বাড়িতে যেতে চান, পুলিশ যেন তাঁদের চলাচলে বাধা না দেয়। তাঁরা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। একই সাথে পুলিশ প্রশাসন থেকেও একই নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর থেকে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষজন নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা শুরু করে। যা এখনও বহাল রয়েছে।

২৩ মে শনিবার সকাল নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়ি ফেরা মানুষের জটলা। তাদের হাতে ও কাঁধে ব্যাগ। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই অনেকটা স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই মানুষ প্রাইভেট কার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল যোগে নারায়ণগঞ্জ ছাড়তে শুরু করেছেন।

একই অবস্থায় দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রবেশ পথ সাইনবোর্ড এলাকায়। তবে সেখানে চাষাড়া থেকে একটু বেশি জটলা লক্ষ্য করা গেছে।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চাষাঢ়া এলাকায় এসেছেন মানিক মিয়া। তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্ট চাকরি করেন। তিরি তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাবেন টাঙ্গাইল জেলায়।

তিনি বলেন, প্রশাসনের কড়াকড়িতে প্রথমে ভেবেছিলাম এবাই হয়তো ঈদ নারায়ণগঞ্জেই করতে হবে। কিন্তু দুইএকদিন ধরে একটু শিথিল হয়ে এসেছে। তাই বাড়ি যাওয়ার জন্য রওয়ানা হয়েছি। বাড়িতে বাবা মা আছেন। পরিস্থিতি যে রকমই থাকুক না কেন সবাই মিলে ঈদ করতে পারাটা স্বস্তিদায়ক বিষয়।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর