অসহায়দের হাসি ফোটানো র‌্যাবের সেই আলেপ করোনায় আক্রান্ত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০১:০৯ পিএম, ২৬ মে ২০২০ মঙ্গলবার

অসহায়দের হাসি ফোটানো র‌্যাবের সেই আলেপ করোনায় আক্রান্ত

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব) মানেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বদা কঠোর। যে কোন ছোট বড় অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ না করা একটি কঠোর বাহিনী। যাদের নাম শুনলে ভয়ে অপরাধীরা কেঁপে উঠে। যারা সব সময় আইন শৃঙ্খলা ও অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষকে নিয়ম মেনে চলা ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে কঠোর হুশিয়ারী দেয় থাকেন। যার জন্য সর্বদাই মানুষ র‌্যাবকে ভয় পেয়ে এসেছেন। কারণ এ না বুঝি র‌্যাব কোন অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি দেয়। আর সেই কঠোর র‌্যাব সদস্যের জন্যই মানুষ চোখের জল ফেলে, সর্বদা তার সুস্থতার জন্য দোয়া করেন। যার চলে যাওয়ার খবরে এক নজর দেখতে ছুঁটে আসেন। তিনি আর কেউ না র‌্যাব-১১ এর সদ্য বিদায়ী সিনিয়র সহকারী পরিচালক অথবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আলেপ উদ্দিন।

যিনি কখনো তপ্তরোধ কঠোর অবস্থানে থেকে মানুষকে সচেতন করেছেন বাধ্য করেছেন করোনার মহামারী থেকে বাঁচতে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ঘরে থাকতে। আবার সেই তিনিই সেসব ঘরে থাকা কর্মহনী অনহারী মানুষের জন্য কাঁধে করে নিয়ে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। সেই আলেপ উদ্দিনই কোভিড-১৯ পজেটিভ শনাক্ত হয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন। যদিও এর আগে র‌্যাব-১১ এর অনেক সদস্যই করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়ে আইসোলেশনে থেকে বর্তমানে সুস্থ হয়ে কাজে যোগদান করেছেন।

২৫ মে সোমবার রাতে মোবাইল ফোনে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি আলেপ উদ্দিন নিজে নিশ্চিত করেছেন। এর আগেও র‌্যাব-১১ এর দপ্তরে থাকে ডিউটি পালনের সময় অনেকে আক্রান্ত হলেও তিনি কয়েক বার পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল।

রাত ৯টায় আলেপ উদ্দিন আক্রান্ত হওয়ার পর ফেসবুক বন্ধুদের পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্ট্যাটাসেও আক্রান্তের বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি তার সহধর্মীনির ছবি সহ স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘দশ মিনিটের জন্য এসেছিরেন তিনি (স্ত্রী) আমার একাকি জীবনে সঙ্গ হতে, তবুও কাছে আসতে পারলেন না, দুর থেকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, সকলকে জেলখানা থেকে পজেটিভ ঈদ মোবারক।’

আলেপ উদ্দিন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘কোভিড-১৯ পজেটিভ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে আইসোলেশনে রয়েছি। সব নিয়ম মেনে চলছি। বর্তমানে সুস্থ আছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

এর আগে আলেপ উদ্দিন নারায়ণগঞ্জে র‌্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে থাকা অবস্থায় গত ২৫ মার্চ থেকে শহরের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে অভিযান শুরু করেন। সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মানুষকে মাইকে সচেতন করেন। করোনার বিষয়ে স্বাস্থ অধিদপ্তর থেকে দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেন। তারপর থেকে ধারাবাহিক ভাবে রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

একই ভাবে রাতের অন্ধকারেও লকডাউনে অসহায় কর্মহীন হয়ে অনাহারে থাকা মানুষের জন্য কাধে করে নিয়ে প্রতি ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। কখনো বলেছেন, দরজা খুলুন আমি র‌্যাব থেকে এসেছি, আপনাদের জন্য খাবার নিয়ে। আবার কখনো বলেছেন আপনার বাসায় শিশু বাচ্চা আছে থাকলে এই নিন দুধ কিনে খাওয়াবেন। তবুও ঘর থেকে বের হবেন না। প্রয়োজন হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন তবুও স্বাস্থ্য বিধি মেনে ঘরে থাকবেন। কেউ না খেয়ে থাকবেন না। আপনাদের পাশে র‌্যাব আছে।

দিনের বেলায় যে কঠোর র‌্যাবকে মানুষ তখন দেখেছিল রাস্তায় কঠোর সেই র‌্যাব সদস্যকে রাতে খাবার সহ দেখে পরম আত্মীয় কিংবা মহান সৃষ্টিকর্তার পাঠানো দ্রুত হিসেবেই মনে করেছিলেন। আশা ভরসার স্থান হিসেবে খুঁজে নিয়েছিলেন।

আলেপ উদ্দিন জানিয়েছিলেন, প্রায় ৮ হাজার অসহায় কর্মহীন মানুষের মধ্যে তিনি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও নগদ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন। আর ওইসব কিছু দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন মডেল গ্রুপ, আরকে গ্রুপ, প্রাণ গ্রুপ, ইস্কয়ার নিট, নিট কনসার্ন সহ ব্যক্তি পর্যায়ের অসংখ্য শুভাকাক্সক্ষী। তিনি এও বলেছিলেন এগুলো আমার নয়। আমার কিছু বন্ধু প্রতীম ছিলেন যারা নিজেরা সহাস করে খাবার পৌছে দেওয়া কিংবা বিতরণ করতেও ভয় পেতেন। আর তাই আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন যাতে মানুষকে এগুলো সঠিক ভাবে দেওয়া হয়। আমি একজন সেবক ও বহনকারী হিসেবে মানুষের ঘরে ঘরে নিয়ে এসব কিছু পৌঁছে দিয়েছি মাত্র। আর এগুলো করে যখন মানুষের মুখে হাঁসি দেখেছি সেটাই আমার বড় প্রাপ্তি। তাদের হাসিই আমার তৃপ্তি দিয়েছে।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে র‌্যাবের সদস্য আলেপ উদ্দিনের জন্য আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধব, সাংবাদিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সহ বিভিন্ন শ্রেনির পেশার মানুষ দোয়া করেছেন। যাতে তিনি দ্রুত এ করোনার মহামারী থেকে জয়ী হয়ে মানুষের মধ্যে দ্রুত ফিরে আসেন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও