শীতলক্ষ্যায় বাতাসে দুলে নৌকা,পারাপারে যাত্রী ভোগান্তি (ভিডিও)

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৮ পিএম, ২৬ মে ২০২০ মঙ্গলবার

শীতলক্ষ্যায় বাতাসে দুলে নৌকা,পারাপারে যাত্রী ভোগান্তি (ভিডিও)

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে শীতলক্ষ্যা নদী পারাপারে মানুষের ভীড়। তবে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে নদী পারাপারে ট্রলার বন্ধ থাকায়। এক নৌকায় ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী নিয়ে পারাপারে যেমন করোনা সংক্রামণের ঝুঁকি তদরূপ নদীতে ঢেউ থাকায় নৌকা ডুবির শঙ্কাও ছিল। তবে এসব পর্যবেক্ষণ করার জন্য খেয়াঘাটের ইজারাদার কিংবা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তাদের দেখা যায়নি।

২৬ মে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুরে সরেজমিনে শহরের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এ দৃশ্য। সকাল থেকেই সূর্য ছিল মেঘে ঢাকা। ফলে নদীতে প্রচুর বাতাস বইছিল। আর বাতাসের জন্য নদীতে প্রচুর ডেউ উঠেছে। এর মধ্যে খেয়া পারাপারের নৌকাগুলো কখনো উপরে উঠছে আবার কখনো নিচে নামছে। ফলে ভয়ে নৌকার নারী যাত্রীরাও চিৎকার শুরু করেন। তাছাড়া কোন কোন নৌকায় পানি ছিটকে ভেতরে চলে আসে। আবার নৌকা পাশে বসে থাকা যাত্রীদের পোশাকও ভিজে যায়। এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতেও প্রতিটি নৌকায় কম করে ২০জন সর্বোচ্চ ২৫জন যাত্রী নিয়ে পারাপার করছিল মাঝিরা।

এদিকে খেয়াপারাপারের নৌকায় যাত্রীদের ভীড় থাকলেও বন্ধ ছিল সেন্ট্রাল খেয়াঘাট। জেটিতেই বাধা ছিল ট্রলারগুলো। ট্রলার মাঝিরা থাকলেও ছিল না ইজারাদার কিংবা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তাও।

নৌকার মাঝি রহিম উদ্দিন বলেন, ‘সকাল থেকেই নদীতে প্রচুর বাতাস। এপার থেকে ওই পারে যেতে যেখানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগতো সেখানে ২০ থেকে ২৫ মিনিট লেগে যাচ্ছে। বাতাসে নৌকা পিছিয়ে নিয়ে যায়। এগুতেই কষ্ট হয়। আর সেই সঙ্গে নদীতেও অনেক ঢেউ। নদীর ঢেউ নৌকার সঙ্গে বারি লেগে পানি ভেতরে চলে আসে। যাত্রীরাও ভিজে যায়।’

৮ থেকে ১০জন যাত্রী নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও অতিরিক্ত যাত্রী কেন নেওয়া হচ্ছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘একজন যাত্রী ৫ টাকা ভাড়া দেয়। ১০জন যাত্রী নিলে কেউ ১০টাকা ভাড়া দিতে চায় না। তাছাড়া এ বাতাসে ১০জন যাত্রী নিয়ে নদী পারাপার করতে যত কষ্ট হয় ২০ জন যাত্রী নিয়ে পারাপার হলেও একই কষ্ট হয়। আর যাত্রীরাও ঘাটে ভীড় হয়ে যায় তাই কে আগে পার হবে সেজন্যও দৌড়ে উঠে পড়ে।’

এসময় নৌকার মাঝি আবু তালেব বলেন, ‘১০ জন যাত্রী নিলে নৌকা বাতাসে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। কিন্তু বেশি যাত্রী হলে নৌকা ভর বেশি হয়। তখন সহজে বাতাস বেশি দুরে নিতে পারে না। আর ১০ জন যাত্রীর জন্য যে পরিশ্রম হয় ২০জন যাত্রীর জন্য একই পরিশ্রম হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘একজন নৌকার মাঝি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজ করেন। আরেকজন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত আবার কেউ কেউ গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত। যার জন্য একজন মাঝি ৬ ঘন্টায় খুব বেশি খেয়াপারাপার করতে পারে না। একজন নৌকার মাঝি দিনে সর্বোচ্চ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার বেশি আয় করতে পারে না। তাছাড়া নৌকার জমাও দিতে হয়।’

নৌকার যাত্রী মশিউর রহমান বলেন, ‘নদীতে যে ঢেউ উঠেছে তাতে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু এমন সময় ট্রলারগুলো বন্ধ রেখেছে। কেন বন্ধ রেখে কেউ জানে না। সরকার তো বন্ধ রাখার কোন ঘোষণাও নেই।’

তিনি বলেন, ‘নৌকার মাঝিরা ২০ জনের কম যাত্রী নিয়ে যেতে চায় না। কোন কোন নৌকায় ২৫জন যাত্রীও নিয়ে পারাপার হচ্ছে। আমি নৌকার পাশে বসে ছিলাম নদীর ঢেউয়ে আমার প্যান্ট ভিজে গেছে। নৌকার ভেতর পানি উঠে এসেছে। এটা খুব ভয়ের ছিল।’

অবিলম্বে ট্রলার চালু করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে খেয়া নৌকাগুলোর যাত্রী পারাপারে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যও আহবান জানান তিনি।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর