করোনার আসল যুদ্ধ শুরু, মার্কেট গণপরিবহন সব খোলা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১২ পিএম, ৩১ মে ২০২০ রবিবার

করোনার আসল যুদ্ধ শুরু, মার্কেট গণপরিবহন সব খোলা

করোনা ভাইরাসের আসল যুদ্ধ শুরু হয়েছে ৩১ মে থেকে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ভয়াবহতা বৃদ্ধি সত্ত্বেও লকডাউন শিথিল করে গণপরিবহন, দোকান-পাট সহ সকল প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। তাছাড়া জীবন-জীবিকার চাহিদা মিটাতে নারায়ণগঞ্জবাসীর সিংহভাগ কর্মমুখি হয়ে উঠছে। আর তাতেই করোনার প্রকৃত যুদ্ধ দেখা যাচ্ছে। কারণ প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। সেখানে খোলা ময়দানে অদৃশ্য করোনাকে সঙ্গী করে নিত্য নৈমিত্তিক কাজ সারতে হবে। আর তাতে করে করোনা যুদ্ধের জয় পরাজয়ের হিসেবটাও পরিষ্কার হয়ে যাবে।

জানাগেছে, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতিতে চলমান সাধারণ ছুটি আগামী ৩০ মে শেষ হচ্ছে। ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিতভাবে খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। একই সঙ্গে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহনও (বাস, লঞ্চ ও ট্রেন) চালু হবে ওইদিন থেকে।

১৫ জুন পর্যন্ত অফিস, গণপরিবহনসহ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে সেই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে ২৮ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এর আগে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন অফিস ও গণপরিবহন চালুর চালু হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। ফরহাদ হোসেন গতকালই বলেছিলেন, ছুটি ৩০ মে শেষ হচ্ছে। ছুটি আর বাড়ছে না। কিন্তু কিছু বিধি-নিষেধসহ নাগরিক জীবন সুরক্ষিত রেখে আমরা সীমিত আকারে অর্থনৈতিক কর্মকা- চালু করতে যাচ্ছি। তবে সবকিছু একেবারে খুলে দেয়া হচ্ছে না। আমরা খুলতে যাচ্ছি তবে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী মহিলারা আপাতত অফিসে আসবেন না।

প্রতিমন্ত্রী অবশ্য তখন গণপরিবহন চালু হচ্ছে না বলে জানিয়েছিলেন। পরে আবার রাতে জানানো হয় সীমিত আকারে চলবে গণপরিবহনও। একইসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, মার্চ মাসের শুরুতে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী প্রথম ধরা পড়ে। পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যেতে থাকলে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ছিল। তবে এখনও করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি নেই। দফায় দফায় কযেকগুণ করে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সংখ্যা এখন প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার করে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সর্বমোট আক্রান্ত ৪৪ হাজার ৬০৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছে ৬১০ জন। এমনকি করোনার ‘হটস্পট’ নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিন শতাধিক আক্রান্ত হচ্ছে। সেই সংখ্যা কখনো কখনো প্রায় দেড়শ তে গিয়ে ঠেকছে। এই ভয়াবহতার মধ্যে লকডাউন শিথিল করে শর্ত সাপেক্ষে সকল প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া গণপরিবহনও সীমিত আকারে চালু করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এদিকে সীমিত আকারে গণপরিবহন চালু করার ফলে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

শ্রমজীবী জনগণ বলছে, জীবন বাঁচাতে হলে আগে পেটের ক্ষুদা মিটাতে হবে। নিজের কথা চিন্তা করে পরিবারের সদস্যদের অনাহারে রাখতে পারিনা। তাই করোনার আগে জীবন জীবিকার কথা চিন্তা করতে হয়। যেকারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকির তুলনায় কাজের বিষয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে হচ্ছে। আর কাজ করতে গেলে সামাজিক দূরত্ব সহ নানা নিয়ম কানুন পালন করা সম্ভব না।

সচেতন মহল মনে করছেন, করোনার কারণে দারিদ্রতা ও অভাব আমাদের আরো ঝাপটে ধরেছে। তাই মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত পরিবারগুলো করোনার ভয়কে তোয়াক্কা না করে কাজের দিকে অগ্রসর হবে। যদিও করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে হলে সচেতন থাকার বিকল্প নেই। কিন্তু জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে গেলে তা সম্পূর্ণরুপে মানা অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়। সেই অবস্থান থেকে জনগণ এখন উভয় সংকটে পড়েছে বলা চলে। তবে এই পরিস্থিতিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে।

চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা ভাইরাসটি যত বেশি সংক্রামিত হবে এর ভয়াবহত তত বৃদ্ধি পাবে। আমাদের দেশে এর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে জনগণের জীবন জীবিকার কথাও চিন্তা করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় যতটুকু সম্ভব সচেতনতা অবলম্বন করে নিরাপদে থাকা যাতে করে ভাইরাসটি আমাদের মাধ্যমে পরিবার স্বজনদের আক্রান্ত করতে না পারে। তা না হলে দিন দিন এর প্রকোপ আরো বাড়বে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও