বিপাকে অটো রিকশা চালকেরা (ভিডিও)

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:০১ পিএম, ১৬ জুন ২০২০ মঙ্গলবার

বিপাকে অটো রিকশা চালকেরা (ভিডিও)

করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে মানুষ যখন দিশেহারা তখন জীবিকা নির্বাহের জন্য বেছে নেয় ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা চালানোর পথ। কিন্তু আজকে যখন রোগী নিয়ে আমলাপাড়া এলাকার ক্লিনিকে নামিয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন সদর উপজেলার দিকে তখনই ট্রাফিক পুলিশ অটোরিকশা আটকে রাখে। দিশেহারা অটোরিকশা চালক জরিমানার টাকা যোগাড় না করতে পেরে দিকবিদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

শহরের নিউ মেট্রো হল মোড়ে পুরাতন ডিবি অফিস বর্তমান ট্রাফিক অফিসের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, ১০ থেকে ১২টি ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা জব্দ করে রাখা হয়েছে। আর বাইরে কয়েকজন অটোরিকশা চালক ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ট্রাফিক পুলিশের উর্ধ্বতনদের অনুরোধ করেও অটোরিকশা ছাড়িয়ে নিতে পারছেন না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অটোরিকশা চালক বলেন, ‘আমি গার্মেন্টেসে কাজ করতাম। কিন্তু কিছুদিন আগে গার্মেন্টস থেকে নিষেধ করে দিয়েছে। যার জন্য কোন পথ খুঁজে না পেয়ে অটোরিকশা চালাতে শুরু করেছি। তবে আমার সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা কেউ জানেনা আমি অটোরিকশা চালাই। তারা জানে আমি গার্মেন্টেসে এখনও কাজ করি। যার জন্য নাম পরিচয় না দেওয়ার অনুরোধ করছি।’

তিনি বলেন, ‘খুব কষ্টে সংসার চলাতে হচ্ছে। অটোরিকশা চালিয়ে দিনে ১০০০ টাকা উপার্জন করতে কষ্ট হয়। আর এর মধ্যে অটোরিকশার জমাও আছে। সকালে ফতুল্লার সস্তাপুর থেকে আমলাপাড়া একটি ক্লিনিকে রোগী নিয়ে আসি। সেখানে রোগী ও তার স্বজনদের নামিয়ে দিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় চাষাঢ়া মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ অটোরিকশা আটক করে। পরে সেখান থেকে এখানে (মেট্রো হল মোড়ে অফিসে) এনে আটকে রাখে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি অনেক অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা কথা শুনেনি। জরিমানা ১৫০০ টাকা দিলে তবেই গাড়ি ছাড়বে। এখন এতো টাকা কোথায় থেকে যোগাড় করবো। তাই ঘুরছি যদি দয়া করে ওনার গাড়িটা ছেড়ে দেয়।’

সাবু ও আবু বক্কর নামে আরো দুই অটোরিকশা চালকও ওই ব্যক্তির মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন নিজেদের অটোরিকশা ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য। তাদের দাবি, তারাও অসুস্থ রোগী নিয়ে আসে। ক্লিনিকের সামনে রোগী নামিয়ে যাওয়ার পথে তাদের আটক করা হয়। তবে শুধু তাদের গাড়ি নয় আরো অনেক অটোরিকশা আটক করা হয়েছে। ১৫০০ টাকা জরিমানা পরিশোধ করলেই তাদের অটোরিকশা ছাড়া হবে এমনটা জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা।

ট্রাফিক পুলিশের শাহেদ নামে সদস্য তাদের অটোরিকশা আটক করেছে বলে জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় কিংবা বঙ্গবন্ধু সড়কে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব যানবাহন অবৈধ বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। এর পর থেকে নগরীতে দিনের বেলায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা কিংবা রিকশা প্রবেশে বাধা দেয় পুলিশ। এর আগেও একাধিকবার পুলিশ রিকশা জব্দ করে কিংবা জরিমানা করে।

অটোরিকশা চালকদের জানানো শাহেদ নামে কোন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যকে পাওয়া যায়নি চাষাঢ়া ট্রাফিক বক্সে। আর অন্য যেসব সদস্য ছিলেন তারাও কোন কথা বলতে রাজি নয়।

চাষাঢ়া ট্রাফিক বক্সের ইনচার্জ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সোহরাবউদ্দিন মজুমদার বলেন, ‘ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এগুলো শহরে প্রবেশ করতে পারবে না। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে তাদের তেমন বাধা দেয়া হয় না। কিন্তু পুলিশ সুপারের নির্দেশনা রয়েছে করোনায় সংক্রামণ রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে যানবাহনের নজরদারী রাখতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় এসব অটোরিকশাগুলো সেই নিয়ম মানছে না। একটি অটোরিকশায় ৭ থেকে ৮জন যাত্রী নিয়ে যাতায়ত করছে। বার বার নিষেধ করার পরও তারা সেটা মানছে না। সেজন্য তাদের আটক করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, একটি অটোরিকশা আটক করার পর চালকরা কৌশল অবলম্বন করে বলে রোগী নিয়ে এসেছি। হাসপাতালে রোগী নামিয়ে দিয়ে এসেছি। কিন্তু এদের মধ্যে থেকে যারা সত্য বলে তাদের আমরা ছেড়ে দিচ্ছি। তাদের কখনো আটক করা হয় না। তারপর যদি কারো গাড়ি আটক করা হয় তার প্রমাণ দিলে আমরা তাকে ছেড়ে দিবো। তবে যারা আইন অমান্য করছে তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও