শহরে তীব্র যানজট, নেপথ্যে অবৈধ স্ট্যান্ড যানবাহন

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৪ পিএম, ২৪ জুন ২০২০ বুধবার

শহরে তীব্র যানজট, নেপথ্যে অবৈধ স্ট্যান্ড যানবাহন

নারায়ণগঞ্জে গণপরিবহন সহ সকল যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতেই ফের যানজটের চিত্র দেখা যাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ গাড়ির স্ট্যান্ড ও অবৈধ গাড়ি চলাচলের ফলে এই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে যাত্রী ও নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

২৪ জুন বুধবার দুপুরে শহরের সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে কালীবাজার এলাকার সড়ক, বঙ্গবন্ধু সড়ক সহ মূল সড়কের তীব্র যানজট দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জে কলেজের পাশে একটি বেবি ও সিএনজি স্ট্যান্ড রয়েছে, এছাড়া ফ্রেন্ডস মার্কেটের পাশে একটি অটো ও সিএনজি স্ট্যান্ড রয়েছে। আর এই দুটি স্ট্যান্ডের গাড়ি এ্যালোপাথারিভাবে সড়কে পার্কিং করে রাখা হয়। যেকারণে এই সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। তাছাড়া অটো রিকশা সহ শহরের বাইরের অনেক যানবাহন বিনা অনুমতিতে শহরে প্রবেশ করে এই যানজটের সৃষ্টি করছে। এছাড়া চাষাঢ়া খাজা মার্কেটের পাশেও লেগুনা ও অটো স্ট্যান্ড রয়েছে। লিংক রোডের মোড়েও একাধিক গাড়ির স্ট্যান্ড রয়েছে। এভাবে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ি পার্কিং সহ নানা কারণে এই যানজট দেখা যাচ্ছে।

ছাদেক নামের যাত্রী বলছেন, সেন্ট্রাল খেয়াঘাট থেকে চাষাঢ়া যেতে ৪০ মিনিট সময় লেগে যাচ্ছে। অথচ হেঁটে গেলে এর আগে পৌঁছতে পারতাম। কালীর বাজার এলাকায় ঢোকা যাচ্ছেনা। চারদিকে শুধু জ্যাম।

মুন্নি হক বলছেন, এই করোনা পরিস্থিতিতেও শহরে এতো যানজট কেন। প্রয়োজন অপ্রয়োজনে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে। তার উপরে অনিয়মের কারণে শহরে সেই আগের যানজটের চিত্র দেখা যাচ্ছে। এতে করে যানজটের ভোগান্তিতে ফের পড়তে হচ্ছে।

এখানে উল্লেখ্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃক শহরে বৈধ ইজারা দেয়া স্ট্যান্ড রয়েছে মাত্র ৫টি। এগুলো হলো কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, নিউ মেট্রো হল সম্মুখস্থ সড়কে বাস, বেবী ও টেম্পু স্ট্যান্ড, মীর জুমলা রোড বেবী স্ট্যান্ড (বাস টার্মিনাল সংলগ্ন), জিমখানা সড়ক বেবীট্যাক্তি স্ট্যান্ড, চাষাঢ়া শহীদ মিনার সংলগ্ন বেবী স্ট্যান্ড। এছাড়া নিতাইগঞ্জ ও থানা পুকুরপাড় সংলগ্ন এস এম মালেহ রোডের ক্ষতিপূরণ ফি আদায়, চারারগোপ রাস্তার ক্ষতিপূরণ ফি আদায়, ১১নং ওয়ার্ডের আইইটি স্কুল মোড় থেকে বরফকল ঘাট মোড় এবং এসিআই মোড় ক্ষতিপূরণ ফি আদায় (এসিআই ফ্যাক্টরীর নিজস্ব গাড়ি ব্যতিত), থানা পুকুরপাড় লোড আনলোড স্ট্যান্ড রয়েছে। তবে শহরে বৈধ তালিকার চেয়ে অবৈধ স্ট্যান্ডের পরিমাণ অনেক বেশী।

এর মধ্যে নিতাইগঞ্জ, জিমখানা, ডায়মন্ড চত্বর এবং ইসদাইর অক্টো অফিসের মোড়ে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড রয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়াতেই রয়েছে কমপক্ষে ৮টি অবৈধ স্ট্যান্ড। যার মধ্যে চাষাঢ়ায় খাজা সুপার মার্কেটের সামনে মুক্তারপুরগামী লেগুনা স্ট্যান্ড এবং বিপরীত দিকে সুগন্ধা বেকারীর সামনে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় গামী অবৈধ লেগুনা স্ট্যান্ড। এছাড়াও চাষাঢ়ায় পৌর সুপার মার্কেটের সামনে অবৈধ বেবীট্যাক্তি ও টেম্পু স্ট্যান্ড। এছাড়া চাষাঢ়ায় সোনালী ব্যাংকের সামনে মুক্তারপুর গামী অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড ছিল যা সম্প্রতি পুলিশ সুপারের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হয়েছে। চাষাঢ়ায় রাইফেল ক্লাবের বিপরীতে রয়েছে সাইনবোর্ডগামী একটি অবৈধ লেগুনার স্ট্যান্ড। রাইফেল ক্লাবের পরে আজগর ফিলিং স্টেশনের পাশে রয়েছে অবৈধ একটি সিএনজি ও একটি টেম্পুর স্ট্যান্ড। সরকারী মহিলা কলেজের সামনে বিকল্প সড়কে রয়েছে ফতুল্লা-পাগলাগামী একটি বেবীট্যাক্সির অবৈধ স্ট্যান্ড। এছাড়া ২নং রেলগেট সংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের সামনে, অগ্রনী ব্যাংকের সামনে, কালিরবাজার এলাকাতেও রয়েছে কয়েকটি বেবীট্যাক্সির অবৈধ স্ট্যান্ড।

এসব অবৈধ স্ট্যান্ড ছাড়াও শহরে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ যান চলাচল করে থাকে। অটো রিকশা, শহরের বাইরের রিকশা যার শহরে প্রবেশের অনুমোদন নেই। মূলত করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসন যখন করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত তখন থেকে এসব অবৈধ যান শহরে ঢোকা শুরু করে। পরবর্তীতে সেই চর্চা অব্যাহত রেখেছে। যেকারণে অতিরিক্ত যানবাহনের ফলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও