পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন নভেলের কাফন দাফনে টিম খোরশেদ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৪ পিএম, ২৫ জুন ২০২০ বৃহস্পতিবার

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন নভেলের কাফন দাফনে টিম খোরশেদ

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের শুরু থেকেই নানা কর্মসূচি নিয়ে কাছ করে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। সেই সাথে রয়েছেন তার টিমের সদস্যরা। যে টিম বর্তমানে টিম খোরশেদ হিসেবেই পরিচিত। ইতোমধ্যে এই টিমের সদস্যদের ১০০তম দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে।

আর এই দিনগুলোতে তারা সকল কার্যক্রমের পাশাপাশি অনেক মানুষের লাশ কাফন দাফন করেছেন টিম খোরশেদের সদস্যরা। যখন কোনো আত্মীয় স্বজন কাফন দাফনে এগিয়ে আসছেন না এমনকি পরিবারের সদস্যরাও এগিয়ে আসছেন না ঠিক সে সময়ে মাকছুদুল আলম খন্দকার ও তার টিমের সদস্যরা মৃতদের পরম আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।

করোনাকালিন সময়ে মারা মৃতদের কাফন দাফন সহ সকল দায়িত্ব পালন করছেন তারা। দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্যই একজন নিবেদিত মানুষ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় এবার এক পরিবারহীন মৃত ব্যক্তির দায়িত্ব নিয়ে কাফন দাফন করেছেন মাকছুদুল আলম খন্দকার ও তার টিমের সদস্যরা। আর ওই ব্যক্তির নাম হলো নভেল। এক সময় তার সাথে পরিবারের সদস্যরা থাকলেও বর্তমানে তার সাথে কেউ ছিলেন না।

এ প্রসঙ্গে মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ জানান, ২৫ জুন বৃহস্পতিবার দেড়টায় আমাদের ৮৮ তম দাফন। ছোটবেলায় আমরা দেখেছি সরকারি কর্মকর্তার জৈষ্ঠ পুত্র মোস্তাফিজুর রহমান নভেল অনেক হ্যান্ডসাম একজন মানুষ ছিলেন। বিয়ে করেননি। সময়ের তালে সবার পরিবার হলে নভেল পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা হয়ে যান। পরিবারহীন নভেল থাকতে শুরু করেন বিভিন্ন মেসে।

সেই সূত্র ধরে ৬৬ বছর বয়সেও তার মৃত্যু হয়েছে মেস বাড়ীতে একাকী অযত্ম অবহেলায়। মৃতদেহ দেখে মনে হয়েছে অনেকদিন ধরে যত্ম বা ভাল খাবারের ছোঁয়া পাননি। অবশেষে কয়েক জন ভাগিনা ও এক ভগ্নিপতির আহবানে টিম খোরশেদ তার গোসল, কাফন, জানাযা ও দাফন সম্পন্ন করে রাত দেড়টায়। এই টিমে ছিলেন হাফেজ শিব্বির, আক্তার শাহ, সুমন, লিটন, রাফী, রিয়াদ, এসকে জামান ও নাঈম।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং কাউন্সিলর ও মহাগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পরেই প্রথমবারের মত হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে বিতরণ, মাস্ক বিতরণ, সরকারি ত্রাণ বিতরণ, ব্যক্তিগত ত্রাণ বিতরণ, টেলি মেডিসিন সেবা, সবজি বিতরণ, ৩০ পার্সেন্ট ভর্তূকি মূল্যে খাদ্য বিতরণ, ভর্তূকি মূল্যে ডিম বিতরণ, প্লাজমা ডোনেশন, অক্সিজেন সাপোর্ট সহ নানা কার্যক্রম করে যাচ্ছেন টিম খোরশেদ।

সেই সাথে খোরশেদ ঘোষণা দেন নারায়ণগঞ্জে করোনা উপসর্গ কিংবা এ রোগে কেউ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে দাফনের ব্যবস্থা করবেন। এরপর থেকেই তিনি একের পর এক লাশের কাফন দাফন সম্পন্ন করে চলছেন। নিজ ধর্মালম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মালম্বীদেরও লাশের সৎকার করে যাচ্ছেন মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। যা নিয়ে দেশের পাশাপাশি বর্হিবিশে^ও আলোচনায় চলে এসেছে। তাকে নানা উপাধিতে ভূষিত করে যাচ্ছেন। কেউ বলছেন, ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ কেউ বলছেন ‘হিরো অব করোনা’।

আর কাউন্সিলর খোরশেদের এই কাজের পিছনে রয়েছেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। যারা কাউন্সিলর খোরশেদের সাথে সাথে নিজেদের জীবন বাজি রেখেও আল্লাহর খুশি করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। খোরশেদের সাথে সাথে তারাও পরিবার পরিজন বিচ্ছিন্ন থেকে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দিন কিংবা রাত যে কোনো সময় ফোন আসার সাথে সাথেই তারা ছুটে যাচ্ছেন। অনেক সময় কাউন্সিলর খোরশেদেও অনুপস্থিতিতেও তারা কাজ করে যাচ্ছেন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও