স্যাভলনের স্থলে ‘স্যাভল’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৩ পিএম, ২৫ জুন ২০২০ বৃহস্পতিবার

স্যাভলনের স্থলে ‘স্যাভল’

করোনা ভাইরাস সংক্রামণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্লাভস, হেডক্যাপ ইত্যাদি সুরক্ষা সামগ্রীর চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। যেসব জিনিসের সঙ্গে মানুষ পরিচিত কিংবা ব্যবহারও জানতো না আজ উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নি¤œবিত্ত সকলেই জানেন। হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ঘন ঘন হাত জীবাণুমুক্ত করা, মাস্ক দিয়ে সুরক্ষা তৈরি করা অথবা পিপিই পরে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা। ফলে যেসব সামগ্রী আগে ফার্মেসীতে পাওয়া যেতো এখন এসবের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সেগুলো মিলছে ফুটপাতে। অতিরিক্ত দাম বিক্রি করলেও এগুলোর গুণগত মান নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন? কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে তেমন কোন তৎপরতাও নেই।

২৫ জুন বৃহস্পতিবার সকালে শহরের চাষাঢ়া সোনালী ব্যাংকের সামনে ফুটপাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সামগ্রী বিক্রি করছিলেন হকাররা যেখানে ছিল মাস্ক, গ্লাভ, হেডক্যাপ, স্যাভলন, এন৯৫ মাস্ক, কেএন৯৫ মাস্ক, প্লাস্টিকের গ্লাভস ইত্যাদি।

তবে এসব কিছু কতটা স্বাস্থ্য সম্মত তার কোন উত্তর নেই বিক্রেতাদের কাছে। কারণ স্যাভলন এর জায়গায় বোতলে লেখা স্যাভল, হ্যান্ড স্যানেটাইজারের বোতলে কোন নামই নেই, মাস্কগুলো খুলে রাখা হয়েছে। একই মাস্ক কেউ হাত দিয়ে ধরে দেখছেন আবার কেউ মুখে লাগিয়ে দেখে রেখে যাচ্ছেন। কিছু স্যাভলনের বোতলে নামের বানান ঠিক থাকলেও দাম মুছে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও এগুলো গুণগত মান সম্পন্ন তার কোন সিলও নেই।

স্যাভলনের জায়গায় স্যাভল হাতে নিয়ে এক ক্রেতা বলেন, ‘মাত্র মাসখানেক আগেও আমি নিয়েছি ২৫০টাকায় একটি স্যাভলনের বোতল। কিন্তু এখন দাম চাইছে ৩৫০ টাকা। সব সুরক্ষার জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।’

তাছাড়া স্যাভলনের জায়গায় স্যাভল লেখার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা এগুলো মিটফোর্ড থেকে কিনে আনি। ভালো না হলে কি দোকানদার এগুলো বিক্রি করতো। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।’

এদিকে ক্রেতা স্যাভলনের জায়গায় স্যাভল কিনলেও তারা বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন না। যে তারা নকল স্যাভলন কিনছিলেন। আর নকল স্যাভলন অতিরিক্ত দাম দিয়ে কিনছিলেন ক্রেতারা। এ নকল স্যাভলন ব্যবহার করে কতটা জীবাণুমুক্ত থাকতে পেরেছেন এ নিয়েও রয়েছে সংশয়।

মাস্ক কেন ক্রেতারা ধরছেন আবার মুখে লাগিয়ে দেখার পর না কিনে রেখে যাওয়া মাস্ক কেন বিক্রি করছেন ক্রেতাদের কাছে জানতে চাইলে বিক্রেতারা কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।

স্যান্ড স্যানেটাইজারও সাদা বোতলে ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। ১০০ মিলিগ্রামের একটি বোতল হ্যান্ড স্যানেটাইজার দাম ৩০টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এগুলো কতটা স্বাস্থ্য সম্মত?

বিক্রেতারা বলেন, এগুলো মিটফোর্ড থেকে কেনা এগুলো দু নাম্বার করার কিছু নেই। কিন্তু এগুলো কতটা স্বাস্থ্য সম্মত। বলার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রেতা বোতলের মুখ খুলে ক্রেতাদের হাতে দিয়ে ঠান্ডা অনুভব হলেই ভালো বলা হচ্ছে।’

কিন্তু হ্যান্ড স্যানেটাইজার ঠান্ডা লাগার কোন বিষয় নয় ম্যানথল দেওয়া হলে এটি ঠান্ডা অনুভব হয়। এগুলো কতটা জীবাণুনাশক পরীক্ষার কোন রিপোর্ট এতে নেই।

ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন। যার মধ্যে মাস্ক ব্যবহার সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। এছাড়াও সুরক্ষার হিসেবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, জামা কাপড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখা। ঘরের আসবাবপত্র জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য বলা হচ্ছে। যার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে প্রায় প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু এসব স্বাস্থ্য সুরক্ষার সামগ্রীর গুণগত মান নিয়ে কোন অভিযান দেখা যায়নি।

ক্রেতাদের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হোক। কেন না এগুলো মানুষ ব্যবহার করে যদি কোন উপকার না পায় তাহলে মানুষ বেশি করোনায় আক্রান্ত হবে। আর এভাবে রাস্তায় সবাই যদি সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি করে তাহলে তাদের কি কি করা প্রয়োজন। আর দামও নির্ধারণও করা হোক। যাতে অতিরিক্ত দাম না নিতে পারে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও