বয়স্ক ভাতার জন্য তীব্র রোদে সিরিয়াল, জ্ঞান হারালেন বৃদ্ধ

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৪ পিএম, ২৫ জুন ২০২০ বৃহস্পতিবার

বয়স্ক ভাতার জন্য তীব্র রোদে সিরিয়াল, জ্ঞান হারালেন বৃদ্ধ

বয়স্ক ভাতার জন্য ষাটোর্ধ্ব জহিরুল হক সকাল ৯টায় ব্যাংকে এসেছিলেন। তাঁর মতই আরো অনেকে এসেছেন। যে কারণে কাগজ জমা দিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ক্লান্ত শরীরে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরম সইতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে পরেন তিনি। সেখানে প্রত্যক্ষদর্শী একজন নারী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা মাথায় পানি ঢাললে কিছুটা সুস্থ বোধ করেন।

২৫ জুন বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ করপোরেট ব্রাঞ্চে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এমন চিত্রই দেখা যায়। তাঁর মতো আরো কয়েক’শ মানুষ বয়স্ক ভাতার জন্য তীব্র রোদে এভাবেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। করোনা সংক্রমণের ভয় থাকলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মত পর্যাপ্ত জায়গা ব্যাংকটিতে নেই। নেই কোনো জীবাণুনাশক টানেল কিংবা হাত ধোয়ার ব্যবস্থা।

এমতাবস্থায় কয়েক’শ মানুষ বয়স্ক ভাতার জন্য ব্যাংকের ভেতরেও গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকেই অবস্থান নিয়েছে ব্যাংকের বাইরে প্রখর রোদে। রোদ সইতে না পেরে অনেকে অসুস্থ হয়ে পরেন। অনেকে জ্ঞান হারিয়ে পরে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. সুলতান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘ব্যাংকের মধ্যে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। যে কারণে অনেকে ভাতার টাকা তোলার জন্য ব্যাংকের বাইরেই সিরিয়াল দিয়েছেন। কিন্তু বাইরে প্রচন্ড রোদ থাকলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ছায়ার জন্য ত্রিপাল টাঙানো কিংবা এই ধরণের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তীব্র রোদের কারণে ব্যাংকের গেইটের সামনে ষাটোর্ধ্ব একজন বৃদ্ধ অজ্ঞান হয়ে পরে যান। তিনি কাপড়েই প্রশ্রাব করে দেন। সেখানে অবস্থিত একজন নারী এবং কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক এসে মাথায় পানি ঢেলে এবং পানি খাওয়ালে তিনি সুস্থ হন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তিনি বলেন যে, ‘আমরা মাইকিং করেছি সরকারের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। আমরা আর কি করব?’ আমরা যখন বলি যে ব্যাংকে যখন তাঁরা আসে তখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অবশ্যই দায়িত্ব থাকে। উত্তরে তিনি বলেন যে, ‘আমাদের যতটুকু ব্যবস্থা নেওয়ার আমরা নিয়েছি। জনগন যদি না মানে আমাদের আর কিছু করার নেই।’

এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ করপোরেট ব্রাঞ্চ এর এসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার পরিতোষ চন্দ্র দে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘রোদের জন্য অনেকে অসুস্থ হয়ে পরেছেন। আমরা খবর পেয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। নিরাপদ দূরত্বের ব্যবস্থা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংকের স্টাফ কম। তারপরেও এমন অবস্থা দেখে কাউন্টার আরো একটি বাড়িয়ে দিয়েছি। আমাদের হাতে যতটুকু করার ছিল আমরা করেছি।’

উল্লেখ্য, ব্যাংটির এই ব্রাঞ্চে ৭ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। সুস্থ হয়েছেন ৩ জন। এছাড়া করোনার উপসর্গ নিয়ে ছুটিতে আছেন আরো ৫ জন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও