তিনজনের সিন্ডিকেট ঢুকছে হাসপাতালে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৫ পিএম, ২৫ জুন ২০২০ বৃহস্পতিবার

তিনজনের সিন্ডিকেট ঢুকছে হাসপাতালে

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল এবার তিনজনের একটি সিন্ডিকেট প্রবেশ করতে যাচ্ছে যার নেতৃত্বে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতা। সেই নেতার নেতৃত্বেই ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নতুন করে একটি সিন্ডিকেট প্রবেশ করতে যাচ্ছে। আগামী দিনে তাদের কর্তৃত্বেই থাকবে হাসপাতালের টেন্ডারবাণিজ্যগুলো। সে লক্ষ্যেই তারা এখন থেকে কাজ করে যাচ্ছে। যদিও এমপি সেলিম ওসমান এ হাসপাতালের কর্মকান্ডে স্বচ্ছতার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

ইতোমধ্যে এ হাসপাতালের সুপারের ব্যক্তিগত পিএ সিদ্দিকুর রহমানকে বদলী করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের অধীনে ন্যাস্ত করা হয়েছে। সেখানে সময় সুযোগ বুঝে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানান, আগে এ হাসপাতালের নিয়ন্ত্রনে ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা জিএম ফারুক, খানপুর এলাকার জামান সরদার, মাহাবুবুর রহমান, জিএম মারুফ প্রমুখ। এরাই মূলত হাসপাতালের খাবার সহ বিভিন্ন সামগ্রী প্রদানের ঠিকাদারী বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রন করতো। প্রায় এক যুগেরও বেশী সময় ধরেই তাদের নিয়ন্ত্রনে ছিল এসব সেক্টরগুলো। কিন্তু এখন সেখানে হানা দিতে যাচ্ছে ত্রিরত্মের সিন্ডিকেট। এরই মধ্যে তারা আগামী অর্থ বছরে হাসপাতালের টেন্ডারে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। সেখানে যাতে বাইরে থেকে অন্য কেউ টেন্ডারে অংশ নিতে না পারে সে লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছেন। মূলত ওইসব টেন্ডারের অন্যতম একজন কুশীলব ছিলেন সিদ্দিকুর রহমানভ দীর্ঘবছর ধরে তিনি এ হাসপাতালের পিএ পদে থাকলেও ঘুরেফিরে হাসপাতালে থেকে যেত। বিগত দিনে এমপি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির প্রভাবশালীদের সঙ্গেও তিনি থাকতেন।

এর আগে ২১ জুন বিকেল ৪টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এর জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভা শেষে সেলিম ওসমান সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের এই হাসপাতালের নামে অনেক বদনাম রয়ে গেছে। সেটি নিয়েই আমরা আজকে সভায় দীর্ঘ আলোচনা করে দেখেছি দীর্ঘ দিন ধরে এই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পিএ তার কোন বদলী নেই। সে দীর্ঘদিন রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে তার কোন বদলী নেই। সেই টেন্ডার পরিচালনা করে সেই টেন্ডার দেয়। বিভিন্ন এন্টার প্রাইজের নাম দিয়ে খানপুর এলাকার একই ব্যক্তি এই টেন্ডার নিয়ে থাকে। সময় কাল ক্ষেপন করে একটি ইংরেজি পত্রিকায় টেন্ডারের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। যা সাধারণ মানুষ জানতে পারেনা টেন্ডারেও অংশ নিতে পারেনা। হাসপাতালে অনেক সমস্যা ছিল। রোগীদের বেডে পাখা ছিল না। বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা ছিলনা। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যক্তিগত ভাবে এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সহযোগীতা নিয়ে সেই সকল সমস্যা গুলোর সমাধান করেছি। নিরাপত্তার স্বার্থে সিটি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করে দিয়েছিলাম। যে সকল জায়গা দিয়ে হাসপাতালের জিনিসপত্র পাচার হয় দেখা গেল কয়েক মাসের মধ্যে সেই সমস্ত জায়গাগুলোর সিসি ক্যামেরা নষ্ট করা হয়। ওই ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে আমি এবং আমার কমিটি মোবাইল ফোনে হাসপাতালের অবস্থা দেখতে পারতাম। কিন্তু একটা দুষ্টু চক্র এ কাজে লিপ্ত রয়েছে। তারা কিছুতেই ক্ষ্যান্ত হচ্ছে না। আমাদের মনে হয় আমাদের হাসপাতালের একটা অডিট করা প্রয়োজন। হাসপাতালের বর্তমান সুপার ডাক্তার গৌতম সহ উনার আগে যারা ছিলেন তাদের সবারই একই কথা এমন সিস্টেম আগে থেকেই চলে আসছিলো। যার খেসারত আমরা এখন দিচ্ছি। যারা পাপী তারা দেশের এই দুর্যোগের সময়ও ক্ষ্যান্ত হচ্ছেন না।

তিনি আরো বলেন, অন্যান্য হাসপাতালে গুলোতে দেখা যায় রোগীর জায়গা দিতে পারেনা। অথচ আমি গত ৫ বছরে দেখলাম না খানপুর হাসপাতালে সিট গুলোতে রোগী সম্পন্ন হয়েছে। আমার কাছে বিভিন্ন সময় অভিযোগ আসে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পিএ এর শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠান এবং কিছু কিছু ক্লিনিকে উনার নামে বেনামে মালিকানা আছে বলে খবর পাওয়া গেছে। যেকোন উপায়ে আমাদের এগুলো তদন্ত করে বের করতে হবে এবং যাতে করে তার কোন কার্যক্রম না চলে সেজন্য মন্ত্রনালয়ে আমি চিঠি দিবো। নয়তো যারা আজকে সম্মুখ যুদ্ধ করছে তারা বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়বেন। প্রয়োজনে আমরা অন্য লোক আনবো। আর এসব কাজের সাথে যদি এলাকার কেউ জড়িত হয়ে থাকেন তাহলে তারা ওই এলাকায় থাকতে পারবেন বলে আমার মনে হয়না। আর নয়তো তাদের কাছ থেকে বিশাল অংকের ক্ষতিপূরন আদায় করা হবে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও