বাড়িতে বাড়িতে ঝুলছে টু লেট

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৩ পিএম, ২৬ জুন ২০২০ শুক্রবার

বাড়িতে বাড়িতে ঝুলছে টু লেট

সারাদেশজুড়েই চলছে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। সেই সংক্রমণের তুলনায় পিছিয়ে নেই নারায়ণগঞ্জ বরং আক্রান্তের সংখ্যায় দেশের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। আর এই সংক্রমণের কারণে প্রথম থেকেই নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঘরে থাকার জন্য বলা হচ্ছে। এমতাবস্থায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষজন বিপাকে পড়ে গেছেন। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষজন। ফলে তাদেরকে বাধ্য হয়েই নারায়ণগঞ্জ ছাড়তে হচ্ছে। সেই সাথে খালি হয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের বাড়িগুলো। শহরের প্রায় প্রত্যেকটি বাড়ি কিংবা প্রত্যেকটি বিল্ডিংয়েই ঝুলছে বাসাভাড়া দেয়ার বিজ্ঞাপন ‘টু লেট’।

সূত্র বলছে, গত ৮ মার্চ দেশের প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় নারায়ণগঞ্জে। আর এর পর থেকেই ধীরে ধীরে নারায়ণগঞ্জ করোনা রোগী শনাক্ত বাড়তে থাকে। প্রথমে সংক্রমণের গতি ধীর থাকলেও এবার দ্রুত গতিতেই এগিয়ে চলছে করোনা। সেই সূত্র ধরে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জবাসীকে নারায়ণগঞ্জবাসীকে সতর্ক করা হচ্ছে। সেই সাথে তাদের কর্মস্থলও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেখা দেয় অর্থ সংকট। আর এই অর্থ সংকট সামলাতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষজনকে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে গ্রামের দিকে যেতে হচ্ছে।

জানা যায়, দেশের শিল্পাঞ্চল জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নারায়ণগঞ্জ জেলা। ফলে এই জেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজন বসবাস করে থাকেন। নারায়ণগঞ্জের মোট জনসংখ্যার প্রায় অধিকাংশই অন্যান্য জেলার বাসিন্দা। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে অনেকেই কাজ হারিয়েছেন, তাদের শ্রেণি কাঠামোর পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে অনেক মানুষ হতদরিদ্র হতে হয়েছে। ফলে তারা যে বাসায় ভাড়া থাকতেন সেই বাসার ভাড়ার ভার বইতে পারছেন না। যার কারণে ছেড়ে দিচ্ছেন বাসা সেই সঙ্গে ছাড়ছেন নারায়ণগঞ্জ।

করোনা পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বাড়িতেই তিন চারটে করে ফ্ল্যাট ফাঁকা রয়েছে। ভাড়াটিয়া চেয়ে ‘টু লেট’ লেখা বিজ্ঞাপন ঝুলানো থাকলেও বাড়ির মালিকরা ভাড়াটিয়া খুঁজে পাচ্ছেন না। সেই সাথে যারা বর্তমানে ভাড়াটিয়া রয়েছেন তাদের মধ্যেও কেউ কেউ বাসা ছেড়ে দেয়ার কথা জানিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ শহরের আদর্শ চাষাড়া এলাকার বাসিন্দা একরামুল হক রাসেল। চাকরি করেন একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে। তিনিও বাড়ির মালিককে জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী মাস থেকে বাসা ছেড়ে দেবেন। সে অনুসারে বাড়ির মালিকও ‘টু লেট’ ঝুলিয়েছেন।

কেন বাসা ছেড়ে দিচ্ছেন জানতে চাইলে রাসেল বলেন, সীমিত বেতনে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতাম। সেখানে যে বেতন পেতাম তার অর্ধেক চলে যেত বাসা ভাড়াতে। পরিবার নিয়ে ওই বাসায় থাকতাম। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিগত দুই মাস ধরে ঠিকমতো বেতন পাচ্ছি না। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকেই এখন পর্যন্ত কোনো মাসেই পূর্ণ বেতন পাইনি। যে কারণে বাসা ভাড়া আর কুলাতে পারছি না এছাড়া সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, বাড়ি মালিককে অনুরোধ করেছিলাম কমপক্ষে এক মাসের ভাড়া মওকুফের জন্য। কিন্তু তিনি জানালেন পারবেন না। তাই পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে একটি মেসে উঠেছি। আর এভাবে চলতে থাকলে আর কিছুদিন পর মেসও ছাড়তে হবে।

এদিকে কিছু কিছু বাড়িওয়ালা আছেন যারা শুধুমাত্র বাড়িভাড়ার ওপর নির্ভরশীল। এরই মধ্যে ফতুল্লা এলাকার কয়েকজন বাড়িওয়ালা এক মাসের জন্য বাড়িভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন। আবার কিছু কিছু বাড়িওয়ালা বলছেন, বিদুৎ বিল ও গ্যাস বিল মওকুফ করলে তারা বাড়িভাড়া মওকুফ করতে পারবেন।

নুরুজ্জামান নামে এক বাড়িওয়ালা জানান, করোনা ভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে সবাইকে তো চলতে হবে। বাসাভাড়া ছাড়া চলতে পারি না। ভাড়াটিয়া বাড়ি চলে গেলেও আমরা তো কোথাও যেতে পারছি না। বাসা ভাড়ার উপড়ই আমাদের নির্ভর করে চলতে হচ্ছে। ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে চলে যাক এটা কোনো বাড়ির মালিকই চান না। কিন্তু আমরা তো নিরুপায়। সেই সাথে নতুন করেও ভাড়াটিয়া পাচ্ছি না। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর পরই তিনটি বাসা খালি রয়েছে। যা এখনও পূর্ণ হয়নি। পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে থাকবো সে চিন্তায় রয়েছি।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও