মাস্ক না পড়তে নানা অজুহাত

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৩ পিএম, ২৭ জুন ২০২০ শনিবার

মাস্ক না পড়তে নানা অজুহাত

‘মাস্ক পরলে গরম লাগে, শ্বাস নিতে পারি না, টাকা নেই মাস্ক কিনতে পারি না’ এমন নানা অজুহাতে নারায়ণগঞ্জে মাস্ক না ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেক সচেতন মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলেও অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। তবে মাস্ক ব্যবহারে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

২৭ জুন শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে মাস্ক না ব্যবহারের দৃশ্য। মাস্ক ব্যবহার না করার কারণ জানতে চাইলে তারা ওইসব অজুহাত দেখান। তবে অনেকেই জানেন না মাস্ক কেন পরবেন। মাস্ক পরা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা নিয়ে মানুষের মধ্যে রয়েছে অজ্ঞতা। তাই মাস্ক পরার উপকারীতা সম্পর্কে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির আহবান জানিয়েছেন নগরীর সচেতন মানুষেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এলাকায় নদী পারাপারে মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার তেমন কোন বলায় নেই। তাছাড়া তাদের মধ্যে অনেকেরই মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায় না। এছাড়াও উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নি¤œবিত্ত পর্যন্ত অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। তবে এর মধ্যে নি¤œ শ্রেনি পেশার মানুষের সংখ্যা বেশি। যারা দিন মজুর, রিকশা চালক, শ্রমিক শ্রেনি।

কেন মাস্ক পরবেন?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ‘করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি মাস্ক ব্যবহার করে তাহলে সংক্রামণ ছাড়ানোর ঝুঁকি ৭০ ভাগ কমে যায়। আর সেই সঙ্গে সুস্থ্য ব্যক্তিও যদি মাস্ক ব্যবহার করে তাহলে সংক্রামণের সংখ্যা ৯০ ভাগ কমে যায়। যদি আক্রান্ত ব্যক্তি বা সুস্থ ব্যক্তি কেউ মাস্ক ব্যবহার না করে তাহলে অধিক ঝুঁকি বেড়ে যাবে। এমনকি শুধু সুস্থ্য ব্যক্তি বা আক্রান্ত ব্যক্তি পরেন তাহলেও ঝুঁকি কমবে না। তাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করার জন্য বলছেন।’

সরেজমিনের চিত্র
দিগুবাবু বাজারের কাঁচা সবজি গাড়ি থেকে অনলোড করছেন ফরিদউদ্দিন। তিনি মাস্ক ব্যবহার ছাড়াই পন্য উঠানামা করছেন। আশে পাশে অনেকেই রয়েছেন যাদের অনেকেরই ফরিদউদ্দিনের মতো মাস্ক ব্যবহার করছেন না।

কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘মাস্ক পরলে শ্বাস নিতে পারি না। দম আটকে আসে। আর গামে মাস্ক ভিজে যায়। তাই ব্যবহার করি না।

মাস্ক ব্যবহার না করলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি? তিনি বলেন, ‘তাহলে এখন থেকে মাস্ক পরবো।’

নিতাইগঞ্জ এলাকায় পণ্য লোড আনলোড করা শ্রমিক তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘শুরুতে কয়দিন পরেছি। এখন পরি না। কারণ প্রতিদিন একটা করে মাস্ক কিনতে হয়। মাস্ক কিনতে টাকা লাগে। এক বস্তা আটা ময়দা গাড়ি থেকে নামিয়ে গোডাউনে নিলে টাকা পাই ৫ টাকা। আর একটা মাস্কের দাম ২০ টাকা। আর প্রতিদিনই মাস্ক নষ্ট হয়ে যায়। এতো টাকা কই পাবো।’

উকিলপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী কার্তিক দাস বলেন, ‘আমি টিভিতে দেখেছি গেঞ্জি কাপড়ের মাস্কই ভালো। এটা করোনা ভাইরাস থেকে ভালো কাজ করে। আর এটা প্রতিদিন ধুয়ে নেওয়া যায়। যার জন্য গেঞ্জি কাপড়ের মাস্কই ব্যবহার করছি। কিন্তু এটা স্বাস্থ্যকর কিনা জানি না।’

তিনি বলেন, ‘মাস্ক কোনটা কার্যকর আর কোনটা কার্যকর না সেটা বুঝা খুব কষ্টকর। সার্জিকেল মাস্ক পরলে ভালো না যেকোন মাস্কই ভালো এটা কিন্তু কেউ বলে নাই। তাই মাস্ক নিয়ে মানুষের মধ্যে একরকম অনিহা তৈরি হয়েছে। এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে প্রচার প্রচারণা করা প্রয়োজন।’

এদিকে জেলা প্রশাসকের সভায় আলোচনা হয় মাস্ক ব্যবহারের জন্য। যারা মাস্ক ব্যবহার করবে না তাদের কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযানও পরিচালিত হয়েছে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও