জঞ্জালের ভাগাড় থেকে স্বচ্ছ জলাধারে শিশুকিশোরদের জলকেলির দূরন্তপনা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৩ পিএম, ২৯ জুন ২০২০ সোমবার

জঞ্জালের ভাগাড় থেকে স্বচ্ছ জলাধারে শিশুকিশোরদের জলকেলির দূরন্তপনা

কয়েক বছর আগেও নারায়ণগঞ্জ শহরে জলাধার বলতে ছিল হাতে গোনা কিছু পুকুর। যেখানে তীব্র তাপদাহে গোসল করে শরীর জুড়িয়ে নিতে পারতো নগরবাসী। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জলাধার সংরক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্পের আওতায় বাবুরাইল ও জিমখানা লেক সংস্কারে বদলে গেছে দৃশ্যপট। একসময় যে খালগুলো ছিল জঞ্জালের ভাগাড় সেখানে এখন প্রতিনিয়ত দেখা যাচ্ছে শিশু কিশোরদের লাফ-ঝাঁপ আর জলকেলি। শিশুদের এই দূরন্তপনা দেখে স্বচ্ছ পানিতে গা ভিজিয়ে নেওয়ার লোভ সামলাতে না পেরে পানিতে নামতে দেখা যায় বেশ কিছু যুবককেও।

জানা গেছে, ৩ বছর আগেও নারায়ণগঞ্জ শহর এলাকায় জনসাধারণের গোসল করার জন্য পুকুর বলতে চাষাঢ়ার রামবাবুর পুকুর, বার ভূইয়ার পুকুর, দেওভোগের জিউস পুকুর, মাসদাইর আদর্শ স্কুলের সামনের পুকুর ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জলাধার সংরক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্পে বদলে গেলে সে চিত্র।

রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) উদ্যোগে শহরের জিমখানা-দেওভোগ এলাকায় প্রস্তাবিত শেখ রাসেল নগর পার্ক এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত শীতলক্ষ্যা থেকে ধলেশ্বরী পর্যন্ত বাবুরাইল খাল উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্পের কারণে বদলে গেছে দেওভাগ, জিমখানা, জল্লারপাড় ও বাবুরাইল এলাকার চিত্র। বিগত দিনে ওই সকল এলাকার যে জলাধারগুলো বর্জের ভাগাড় হিসেবে পরিচিত ছিল সেগুলো এখন পরিণত স্বচ্ছ জলাধারে। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নাসিকের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে শহরের জিমখানা-দেওভোগ এলাকায় প্রস্তাবিত শেখ রাসেল নগর পার্কের কাজ প্রায় ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। নাসিকের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ওই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সবুজে ঘেরা ওয়াকওয়ে, ময়লা নিষ্কাশন, সিটিং প্ল্যান, পানির রিজার্ভ করা, লেকের পূর্ব পাশের ঘাটলা নির্মাণ, প্যাভিলিয়ন, হাতিরঝিলের আদলে লেকের মাঝে ব্রীজ ও আলোকসজ্জা, ড্রেনসহ পাবলিক টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানি পানের ব্যবস্থা থাকবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে করা হচ্ছে।’

৮০’র দশকে শীলতক্ষ্যা নদীর সঙ্গে ধলেশ্বরী নদী পর্যন্ত এই সংযোগ খাল দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্য নিয়ে নৌকাযোগে নারায়ণগঞ্জে আসতো বেপারিরা। কিন্তু ৯০ সালের পর থেকে এই খাল অস্তিত্ব হারাতে থাকে। অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় এই খাল। দূষণমুক্ত, সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা থেকে ধলেশ্বরী পর্যন্ত বাবুরাইল খাল ৩ বছর আগে পুনরুদ্ধার করেন নাসিক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।

সিটি করপোরেশনের সূত্রমতে, ২৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্পের আওতায় বাবুরাইল খাল খনন, দুই পাড় সংস্কার করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও দৃষ্টিনন্দন লেক করা হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী মীনা হোটেলের পাশ থেকে ম-লপাড়া মোড় পর্যন্ত খাল খনন, খালের দুই পাড় সংস্কার, ওয়ার্কওয়ে নির্মাণ এবং দৃষ্টিনন্দন লেক নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ম-লপাড়া ব্রিজের নীচে আগে যেভাবে নৌকা চলাচল করতো সেই ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে জিমখানা-দেওভোগ এলাকায় প্রস্তাবিত শেখ রাসেল নগর পার্ক এবং শীতলক্ষ্যা থেকে ধলেশ্বরী পর্যন্ত বাবুরাইল খাল উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ না হলেও লেকের স্বচ্ছ পানিতে শনিবার দুপুরে দাপড়ে বেড়াতে দেখা গেছে শিশু কিশোরদের। আষাঢ়ের মাঝামাঝি চললেও শনিবার সূর্যের খরতাপ ছিল অনেকটা গ্রীষ্মের মতোই। দু’টি লেকেই বেশ কিছু শিশু কিশোরদের লাফ-ঝাঁপ আর জলকেলি ছিল চোখে পড়ার মতো। শিশুদের এই দুরন্তপনা দেখে স্বচ্ছ পানিতে গা ভিজিয়ে নেওয়ার লোভ সামলাতে না পেরে পানিতে নামতে দেখা যায় বেশ কিছু যুবককেও। স্থানীয়রা জানান, আগে এসকল লেকে মানুষ গোসল করাতো দূরের কথা জঞ্জাল আর বর্জ্যরে ভাগাড়ের কারণে লেকের পাড়ে এসে দাড়ানোও যেতনা। কিন্তু বর্তমানে এসকল স্থান পরিণত হয়েছে নগরবাসীর বিনোদন কেন্দ্রে। তাপদাহে শরীর জুড়িয়ে নিতে যেমন শিশু কিশোররা স্বচ্ছ পানিতে গোসল করছে তেমনি বিকেল বেলাতেও লেকের পাড়েও নামে সব বয়সী মানুষের ঢল।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও