ধর্ষিতা শিশুটি ব্যাথায় ধনুকের মত বাকা হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০২:০৫ পিএম, ৩০ জুন ২০২০ মঙ্গলবার

ধর্ষিতা শিশুটি ব্যাথায় ধনুকের মত বাকা হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে

মায়ের কোলে ভর দিয়ে ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে হাসপাতালের বিছানায় বসে আছে। মায়ের চোখ বার বার চেষ্টা করছে জল যেন মেয়ের সামনে না পরে। ব্যাথায় ধনুকের মতো বাকা হয়ে আছে মেয়েটির শরীর। তার চোখ মুখে যন্ত্রনা যেন স্পষ্ট। বিছানা থেকে নেমে হেঁটে টয়লেটে যাওয়ার সামর্থ্যটুকুও তার নেই। কখনো কোলে বা কখনো ধরে টয়লেটে নিয়ে যাচ্ছে তার মা। তবুও বার বার ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পরে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। পাশেই ফ্যাকাশে মুখ নিয়ে বসে দেখছে ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীরা।

২৯ জুন সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের গাইনী বিভাগে সরেজমিনে এ চিত্র লক্ষ্য করা যায়। ২৬ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায় চতুর্থ শ্রেনির ১১ বছর বয়সী এ স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়।

সোমবার সকালে ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীর বড় বোন বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে রোববার রাতে বড় বোনের অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের সুকুমপট্টি এলাকা থেকে অভিযুক্ত ৪০ বছর বয়সী আলম জমাদারকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠায়। ৩০ জুন মঙ্গলবার পুলিশের নারী সদস্যদের উপস্থিতিতে মেয়েটির শারীরিক পরিক্ষা করার পর তাকে আদালতে নেয়ার কথা রয়েছে বলেও জানা যায়।

মামলার বাদী ওই স্কুল ছাত্রীর বড় বোন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রান্না করার লাকড়ী দেওয়ার কথা বলে আমার বোনকে ডেকে নিয়ে যায় প্রতিবেশি আলম জমাদার। একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে হাত, পা ও মুখ বেঁধে ওই স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরে ওকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও হুমকি ধমকি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু বাড়িতে এসে ও আমার মাকে সব কিছু বললেও মা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু শনিবার সকাল থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে রোববার সকালে ওকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারের কাছ থেকে জেনে ও ডাক্তার কাছ থেকে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে রোববার রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করি। পরে পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক আলম জমাদারকে গ্রেপ্তার করে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি এ আলামের যেন কঠোর শাস্তি হয়।’

ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ের সাথে যে এসব হয়েছে তা জেনেছি একদিন পর। জানার পর কি করবো বুঝতে পারিনি। লজ্জায় কাউকে বলতে পারিনি। আমি চা বিক্রি করি, পড়ালেখা জানি না। তাই আমার মেয়ে মামলা করেছে। আমার মেয়ে ফোরে পড়ে মাত্র। এতো ছোট যে এখন শরীরিক অবস্থা খুব খারাপ। আল্লাহ জানে কি হয়। আমি এখন কিছু চাই না। আমার মেয়ের সাথে যা হইছে তার বিচার চাই।’

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন,‘অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে আলম জমাদারকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগ স্বীকার করে আলম। পরে সোমবার সকালে শিশুটির বোনের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শিশুটি চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছে।’

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শিশুটির শারীরিক অবস্থার তুলনামূলক ভাবে উন্নতি হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় ধর্ষণ মনে হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে পরীক্ষার পরই নিশ্চিত ভাবে বলা যাবে।’


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও