বিপন্ন মানবিক বিপর্যয়ে আলোর দূতিরা

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৩ পিএম, ৩০ জুন ২০২০ মঙ্গলবার

বিপন্ন মানবিক বিপর্যয়ে আলোর দূতিরা

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত হয়ে পরে মানুষের জীবনযাপন। অনেকে আপনজনের নিকট থেকেও দূরে সরে গিয়েছিলেন। তবে সবাই নয়। অনেকে আপন না হয়েও শুধুমাত্র মানবিকাতর খাতিরে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সেসব করোনা যোদ্ধাদের গল্প উঠে এসেছে নিউজ নারায়ণগঞ্জের ফেসবুক লাইভে টকশোতে।

২৯ জুন সোমবার রাত ১০টায় নিউজ নারায়ণগঞ্জের লাইভ টকশো ‘বিপন্ন মানবিক বিপর্যয়ে ‘আলোর দূতি” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মেজবাউর রহমান পলাশ, টিম খোরশেদ থেকে হাফেজ শিব্বির, ওরা ১১ জন থেকে রিপন ভাওয়াল, আমরা করোনা যোদ্ধা থেকে আল-আমিন।

মেজবাউর রহমান পলাশ বলেন, ‘আমার বাবা নাই। বলতে পারেন যে আমি এতিম। আপাতত কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম সাইফউল্লাহ বাদল সাহেব আমার গার্ডিয়ান, আমার মুরুব্বি। আমি প্রথমে ওনাকে বলি যে আমি এরকম কিছু করতে চাই। কাশিপুর ইউনিয়নের মানুষের চিকিৎসা সেবা সহজ করতে চাই। দাফন-কাফনও চেষ্টা করব করার জন্য। কিন্তু কাশিপুরের কেউ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়। চিকিৎসা সেবা যেন ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারি। তিনি আমাকে সহযোগিতা করেন। পরে আরো দুইটি সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করি। এবং কাজ শুরু করি।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমার পরিবার একটু ভয় পেয়েছিল। কিন্তু পরে এ কাজের জন্য আরো উৎসাহ দিয়েছে। আমার মা বলেছেন যে, ‘তুমি যাও। তোমার বাবা মানুষের সেবায় ছিল। তাঁকে এই কাজ করেছে তাঁকে আটকাতে পারি নাই। তোকেও আটকাবো না। মানুষের পাশে দাঁড়াও আল্লাহ যেটা ভালো মনে করেন সেটাই করবেন ।”

তিনি আরো বলেন, ‘এছাড়া এলাকাবাসীও আমাকে উৎসাহ দিয়েছে আমার কাজে প্রেরণা দিয়েছে। আমি আর্থিক স্বাবলম্বি না। এলাকার অনেক বড় ভাইয়ের আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে আমি মানুষের পাশি দাঁড়িয়েছি। কিছু মানুষ প্রথমে আড় চোখে দেখেছে। কিন্তু উৎসাহ দেওয়া মানুষগুলোর সংখ্যাই বেশি।’

রিপন ভাওয়াল বলেন, ‘এই কাজের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের সেবা করা। মূলত পৃথিবী থেকে সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এই করোনাতে এইভাবে আমিও মারা যেতে পারি। করোনার দুর্যোগে যখন নিজের নিকটাত্মীয়ও এগিয়ে আসছিল না। তখন মন থেকে একটিই ভাবনা আসলো যে এটিই সময় মানুষের জন্য কিছু করার, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। আমাদের টিমের নাম একাত্তরের চেতনায় ওরা ১১ জন হলেও সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০ জন।

তিনি বলেন, ‘আমি ৬ বোনের একমাত্র ভাই। যখন আমি প্রথম বলি যে আমি কাজ করতে চাই। তাঁরা কান্নাকাটি করেছে। তবে আমার স্ত্রী অনেক সাহসী। শুরুতে আমি চেয়েছিলাম যে যদি কাজ করি তাহলে স্ত্রী-সন্তানকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিব। কিন্তু আমার স্ত্রী বলে যে, ‘তুমি মরে গেলে আমি বেঁচে থেকে কি করব? যদি হয় তোমারো হবে আমারো হবে।’

টিম খোরশেদের অন্যতম সদস্য হাফেজ শিব্বির বলেন, ‘টিম খোরশেদ দলে আমি প্রথম মৃত ব্যক্তিকে ইসলামী শরীয়ত সম্মানের সাথে যেভাবে গোসল করানো হয় সেই গোসল আমার নেতৃত্বে হয়। এবং আমার নেতৃত্বে জানাজা দেওয়ার পরে তাঁকে মাটি দেওয়া হয়। জানাজা এবং গোসল আমার নেতৃত্বে হয়।

তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ জানাজা আমার নেতৃত্বে হয়েছে। আবার অনেক জায়গায় ইমাম সাহেব উপস্থিত থাকেন। তখন ইমাম সাহেবকে দিয়ে জানাজা পড়ানো হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী গর্ববোধ করেন যে তাঁর স্বামী এমন একটি মহৎ কাজ করতে পারছে। এই ভালো কাজের ফল ইনশাআল্লাহ পরিবারের সবাই পাবো। আমি যখন এই কাজে আসি তখন আমার স্ত্রী ৭ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা ছিল। করোনার মধ্যেই আমার একটি মেয়ে সন্তান হয়েছে। তাঁর পরেও আমাকে উৎসাহ দিয়েছে।’

আল আমিন বলেন, ‘আমার পরিবারের পক্ষ থেকে এই কাজটি সহজেই মেনে নিয়েছেন। এই কাজটিকে আসলে সেবা হিসেবে নিয়ে এসেছে আমাদের পরিবার। যে কারণে সহজেই আমি এই কাজের সাথে যুক্ত হতে পেরেছি। আমাদের সন্তান আছে। কিন্তু তারপরেও কেউ ভয় পায়নি। কেউ আমাকে আটকায়নি।’


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও