করোনার ভয় নেই কাইকারটেক হাটে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৯ পিএম, ৬ জুলাই ২০২০ সোমবার

করোনার ভয় নেই কাইকারটেক হাটে

করোনার ভয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই চলছে নারায়ণগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী কাইকারটেক হাট। দেখে মনে হয় যেন করোনা ভাইরাসের জন্য ন্যুনতম ভয়ও নেই ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে, আতংক তো দূরের কথা। যেখানে সেখানে যে কেউ হাঁচি-কাশি দিচ্ছেন, এতে ভ্রুক্ষেপ নেই কারও। অন্তত মাস্ক ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করছে না কেউ। আর হাটে এতো মানুষের ভীরে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা তো সম্ভব নয়ই।

৫ জুলাই রোববার সকালে ব্রহ্মপুত্র পাড়ের প্রায় আড়াইশত বছরের পুরনো গ্রামীণ হাটটিতে সরেজমিনে বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়। প্রতি রোববার সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাইকারটেক এলাকায় এ হাটটি বসে।

সিভিল সার্জনের দেয়া তথ্যমতে, গত ৮ মার্চ দেশের প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী হিসেবে নারায়ণগঞ্জের ২জন ব্যক্তিকে সনাক্ত করা হয়। তারপর থেকে ধীরে ধীরে নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ৪ জুলাই শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনাভাইরাসে সংক্রমণ শনাক্ত ছিল ৫ হাজার ২৯১ জন। এর মধ্যে সোনারগাঁও উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নতুন করে ৪ জনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। এ নিয়ে মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয় ১৯১৪ জনের যার মধ্যে ৪৬৫ জনের করোনা পজেটিভ। ১৫ জন মারা গেছেন এবং সুস্থ হয়েছেন ৩৩১ জন।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, কাইকারটেক হাটে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা, মাছ ধরার জাল, মাছ, বাশ, বাশ-বেতের তৈরি সামগ্রী, কাঠ, কাপড়, গরু-ছাগল, পাখিসহ অনেক কিছুই নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। সপ্তাহে শুধুমাত্র রোববার হাটবার হওয়ায় এদিন ক্রেতা বিক্রেতাদের উপচে পরা ভীর লক্ষ্য করা যায় ব্রহ্মপুত্রের তীরের এই কাইকারটেকে।

দেখা যায়, দোকানীরা হরেক রকমের মাছের শুটকি সাজিয়ে বসেছেন। ময়রা তার দোকান সাজিয়েছেন হরেক রকমের মিষ্টি দিয়ে। দূর দূরান্ত থেকে গৃহ পালিত পশু বিক্রি করতে নিয়ে আসছেন পশু পালকরা। পাশেই হরেক রকমের নিমকি, পাকোড়া গরম গরম ভাজছেন দোকানীরা। কিন্তু তাদের মধ্যে কাউকে মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। এমনকি হাটে আসা লোকজনের মধ্যে বেশিরভার লোককেই মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়না। খাবারের দোকানের কাছেই নির্দিধায় হাঁচি-কাশি দিচ্ছেন লোকজন।

এ বিষয়ে ক্রেতা সানি বলেন, ‘এখানে এসে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে কোনো করোনা নাই। এই হাটে এসে ন্যুনতম সচেতনতা মানতে দেখছি না কাউকে। যেখানে করোনা এতো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জে, সেখানে প্রশাসনের নজরদারি এখানে অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। একবার লকডাউন দেয়ার পরে পুনরায় আমরা লকডাউন হতে পারে বলে শুনছি। অথচ দেখে মনে হচ্ছে না যে এই ঐতিহ্যবাহী হাটের দিকে প্রশাসন বিন্দু পরিমানেও নজর দিচ্ছে।’

বিক্রেতা মেহেদি হাসান বলেন, ‘মানুষের মন থেইকা করোনার ভয় উইঠা গেছে। মাস্ক পরতে পরতে মানুষ অতিষ্ট হইয়া গেছে। খাইয়া বাঁচতে হইলে এই করোনা লইয়াই বাঁচতে হইব।’

সোনারগাঁ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘এ বিষয়টি সত্য যে মানুষ এ হাটে সচেতনতা মানছেন না। আমি নিজেও গত সপ্তাহে হাটে গিয়ে বিষয়টি উপলব্ধি করেছি। তাদের সচেতন করার চেষ্টা করেছি, মাস্ক বিতরণ করেছি এবং জরিমানাও করেছি। তবুও তাদের মধ্যে পরিবর্তন নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে আমরা যতই জেল-জরিমানা করিনা কেন, নিজেরা সচেতন না হলে তাদের সচেতন করনা সম্ভব নয়। এখন নিজ নিজ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি, ইমাম এবং শিক্ষকরা যদি স্থানীয়দের বলেন, তবেই হয়ত তাদের সচেতন করা সম্ভব।’


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও