আওয়ামী লীগ নেতার চাচার কাফন দাফনে কাউন্সিলর খোরশেদ

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:০২ পিএম, ৭ জুলাই ২০২০ মঙ্গলবার

আওয়ামী লীগ নেতার চাচার কাফন দাফনে কাউন্সিলর খোরশেদ

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ কাফন দাফন ও সৎকার করে সারাবিশ^ব্যাপী আলোচনায় চলে এসেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। দলমত নির্বিশেষে তার এই সেবামূলক কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ইতোমধ্যে মাকছুদুল আলম খন্দকার ও তাদের টিমের ৯৭ তম দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আর এই ৯৭ তম দাফনে নারায়ণগঞ্জের একজন আওয়ামী লীগ নেতার চাচার দাফন কাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাকছুদুল আলম খন্দকার তার ব্যক্তিগত একাউন্ট থেকে জানিয়েছেন, ৬ জুলাই সোমবার আমাদের ৯৭তম দাফন ছিল। এদিন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার ২নং ওয়ার্ডের মিজমিজি নিবাসী ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাজুর চাচা অহিদ মিয়া করোনা পজিটিভ হয়ে নারায়নগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

মরহুমের ভাতিজা রাজু ও ভেন্ডার ইকবাল হোসেনের আহবানে আমরা সোমবার রাত ১০ টায় খানপুর হাসপাতাল থেকে মরদেহ এনে মাসদাইর কবরাস্তানে গোসল ও কাফন সম্পূর্ণ করে মিজমিজি কবরাস্তানে জানাযা ও দাফন সম্পন্ন করেছি। আমাদের এইটিমে ছিলেন হাফেজ শিব্বির আহমেদ, লিটন, শহীদ, শফিউল্লাহ রাফি ও রিয়াদ প্রমুখ।

এর আগে নারায়ণগঞ্জ গত ৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের হস্তক্ষেপে করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রাজু জানিয়েছিলেন, গত ৩০ জুন থেকে আমার চাচা অহিদুল ইসলাম মেম্বার (৬৬) এবং চাচী জয়দুন নেছা (৫৮) জ্বর, ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা’সহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে করোনা পরীক্ষার কোন রিপোর্ট না থাকায় কেউ ভর্তি নেয়নি। এমন দুঃসময়ে নারায়ণগঞ্জের জনপ্রিয় নেতা শামীম ওসমান আমাদের এই দুশ্চিন্তা দূর করতে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং কাউন্সিলর ও মহাগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পরেই প্রথমবারের মত হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে বিতরণ, মাস্ক বিতরণ, সরকারি ত্রাণ বিতরণ, ব্যক্তিগত ত্রাণ বিতরণ, টেলি মেডিসিন সেবা, সবজি বিতরণ, ৩০ পার্সেন্ট ভর্তূকি মূল্যে খাদ্য বিতরণ, ভর্তূকি মূল্যে ডিম বিতরণ, প্লাজমা ডোনেশন, অক্সিজেন সাপোর্ট সহ নানা কার্যক্রম করে যাচ্ছেন টিম খোরশেদ।

সেই সাথে খোরশেদ ঘোষণা দেন নারায়ণগঞ্জে করোনা উপসর্গ কিংবা এ রোগে কেউ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে দাফনের ব্যবস্থা করবেন। এরপর থেকেই তিনি একের পর এক লাশের কাফন দাফন সম্পন্ন করে চলছেন। নিজ ধর্মালম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মালম্বীদেরও লাশের সৎকার করে যাচ্ছেন মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। যা নিয়ে দেশের পাশাপাশি বর্হিবিশে^ও আলোচনায় চলে এসেছে। তাকে নানা উপাধিতে ভূষিত করে যাচ্ছেন। কেউ বলছেন, ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ কেউ বলছেন ‘হিরো অব করোনা’।

আর কাউন্সিলর খোরশেদের এই কাজের পিছনে রয়েছেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। যারা কাউন্সিলর খোরশেদের সাথে সাথে নিজেদের জীবন বাজি রেখেও আল্লাহর খুশি করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। খোরশেদের সাথে সাথে তারাও পরিবার পরিজন বিচ্ছিন্ন থেকে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দিন কিংবা রাত যে কোনো সময় ফোন আসার সাথে সাথেই তারা ছুটে যাচ্ছেন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও