করোনায় ফি নির্ধারণে সন্দেহজনক রোগী কমেছে, প্রয়োজনীয় বেড়েছে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৮ পিএম, ৭ জুলাই ২০২০ মঙ্গলবার

করোনায় ফি নির্ধারণে সন্দেহজনক রোগী কমেছে, প্রয়োজনীয় বেড়েছে

কোভিড-১৯ পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ করায় কোন উপসর্গ নেই তারপরও মনের সংকোচ দূর করতে কিংবা নেগেটিভ রিপোর্টের জন্য যারা করোনা পরীক্ষা করতেন সেসব অহেতুক নমুনা পরীক্ষা কমছে। ফলে যাদের নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন তারাই আসছেন করোনা পরীক্ষার জন্য এমনটাই জানিয়েছেন ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায়। তবে তিনি বলেছেন, ফি নির্ধারণ করা হলেও পরীক্ষার জন্য আসা সন্দেহভাজন রোগীদের সংখ্যা কমেনি।’

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় সরেজমিনে শহরের খানপুর এলাকায় ৩০০ শয্যা হাসপাতালে (কোভিড ডেটিকেটেট হাসপাতাল) গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালে করোনার নমুনা সংগ্রহ বুথে কোন সন্দেহজনক রোগী নেই। নমুনা সংগ্রহকারীরাই শুধু সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন। তাছাড়া হাসপাতাল প্রাঙ্গনও ফাঁকা।

বুথে থাকা নমুনা সংগ্রহের সদস্যরা বলেন, ‘৮০জনের তালিকা করা হয়েছে। তার মধ্যে ৫০জন নমুনা দিয়েছেন। আরো ৩০জন বাকি আছে। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এখন তাদের ইচ্ছে মতো যখন খুশি আসতে পারেন।’

ফি নির্ধারণের পর কি সন্দেহজনক রোগীদের নমুনা প্রদানের সংখ্যা কমেছে? তারা বলেন, আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে রোগী কমেছে বলে মনে হচ্ছে না। আগের মতোই আছে।

উল্লেখ্য গত ১ জুলাই থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য ফি নির্ধারণ করেন সরকার। ফলে করোনার বুথে এসে নমুনা পরীক্ষা করালে প্রত্যেককে ২০০ টাকা, বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করলে ৫০০ টাকা ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নমুনা পরীক্ষার ফি ২০০ টাকা।

এখন করোনার নমুনা প্রদানকারী সংখ্যা কম থাকলেও শুরুতে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে সন্দেহজনক রোগীদের লম্বা লাইন দেখা যেতো। কাউন্সিলর শওকত হাসেম শুকু সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সদস্যরা এসব লাইন সামলাতে কাজ করেছেন। তাছাড়া নমুনা পরীক্ষার জন্য একদিন কি দুইদিন আগেও সিরিয়াল দিয়ে রাখতে হতো। তাছাড়া সিরিয়াল না দিয়েও অনেকই হাসপাতালের সামনে এসে ভীড় করতেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শওকত হাসেমন শকু বলেন, ‘অহেতুক নমুনা প্রদানকারীর সংখ্যা কমে গেছে। তবে এখন যারা করছে সবাই প্রয়োজনে।’

ফি নির্ধারণের পর নমুনা প্রদানের সংখ্যা কি কমেছে? তিনি বলেন, ‘নমুনা প্রদানের সংখ্যা কমেনি। বরং বেড়েছে। কিন্তু এখন কোন বিশৃঙ্খলা নেই। সবাই তার নিজের সুবিধা মতো সময়ে নমুনা দিতে পারছেন। আগের যে প্রক্রিয়া ছিল এখনও তাই আছে। শুধু ২০০ টাকা দিতে হচ্ছে।’

৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় বলেন, ‘করোনার নমুনা প্রদানকারীদের সংখ্যা কমেনি। তবে অহেতুক ও অপ্রয়োজনীয় যারা নমুনা দিতেন তাদের সংখ্যা কমে এসেছে। এতে করে সবাই সুন্দর ভাবে তাদের নমুনা প্রদান করতে পারছেন।’

তিনি বলেন, ‘এতো কিছুর মধ্যেও একটি ভালো খবর গত শুক্রবার আমরা ১২৬জনের নমুনা সংগ্রহ করি। যার মধ্যে মাত্র ২৬জন পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এতে বুঝা যায় আক্রান্ত কমে আসছে। তাই এখন যারা প্রয়োজন একমাত্র তারাই আসছেন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও