করোনাকালে ক্লান্তিহীন টিম খোরশেদের ১০০ লাশ দাফন

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২২ পিএম, ১১ জুলাই ২০২০ শনিবার

করোনাকালে ক্লান্তিহীন টিম খোরশেদের ১০০ লাশ দাফন

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের শুরু থেকেই নানা কর্মসূচি নিয়ে কাছ করে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। সেই সাথে রয়েছেন তার টিমের সদস্যরা। যে টিম বর্তমানে টিম খোরশেদ হিসেবেই পরিচিত। এই টিমের সদস্যরা ক্লান্তিহীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তাদের এই টিম ১০০ তম লাশ দাফন করেছেন। এদিনও তারা ক্লান্তিহীনভাবে কাফন দাফন কাজ সম্পন্ন করেছেন।

এ প্রসঙ্গে মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ জানান, ১১ জুলাই আমাদের ১০০ তম দাফন দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ১১ টায় বিশিষ্ট সূতা ও গার্মেন্টস ব্যাবসায়ী এমারত হোসেন খান (৬৭) লালমাটিয়ার সিটি হাসপাতালের আইসিইউতে করোনার চিকিৎসা চলাকালে ইন্তোল করেন। করোনার কারণে নিউমোনিয়া হয়ে ফুসফুস অকার্যকর হয়ে তার মৃত্যু হয়। এর আগে পরিবারের আহবানে গত ৬ জুলাই টিম খোরশেদ বাসা থেকে মরহুমকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে সহায়তা করেছিলেন। ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টায় মরহুমের শেষ যাত্রায় তার গোসল, কাফন, জানাযা ও দাফন সম্পন্ন করেছি।

এই কাফন দাফন সম্পন্ন করার আগে গভীর রাতে খোরশেদের এক সাংবাদিক বন্ধু ফোন করে জানান, তার চাচা করোনায় আক্রান্ত হয়ে সাজেদা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু সাজেদার ৪ টি আইসিইউতেই সংকটাপন্ন রোগী আছে। তাই তার চাচাকে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের আইসিইউতে আনতে হবে। তিনি এম্বুলেন্স ও আনার মত লোক পাচ্ছেন না, সহায়তা দরকার। তাৎক্ষণিক টিম খোরশেদ স্বেচ্ছাসেবকদের তৈরী হতে বলি। এত রাতেও ফোন পাওয়া মাত্র হাফেজ শিব্বির, রাফী, আক্তার ও নাইম প্রস্তুত হয়ে যায়। ফোন করেন মডেল গ্রুপের ফ্রী এম্বুলেন্সকে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে এম্বুলেন্স হাজির হয়ে যায়। পরে কাচপুর থেকে করোনা পজিটিভ রোগী এনে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করে বাসায় ফিরতে রাত আড়াইটা বেজে যায়।

জানা যায়, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং কাউন্সিলর ও মহাগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। মানুষকে সচেতন করা থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তিনি। দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্যই একজন নিবেদিত মানুষ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পরেই প্রথমবারের মত হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে বিতরণ, মাস্ক বিতরণ, সরকারি ত্রাণ বিতরণ, ব্যক্তিগত ত্রাণ বিতরণ, টেলি মেডিসিন সেবা, সবজি বিতরণ, ৩০ পার্সেন্ট ভর্তূকি মূল্যে খাদ্য বিতরণ, ভর্তূকি মূল্যে ডিম বিতরণ, প্লাজমা ডোনেশন, অক্সিজেন সাপোর্ট সহ নানা কার্যক্রম করে যাচ্ছেন টিম খোরশেদ।

সেই সাথে খোরশেদ ঘোষণা দেন নারায়ণগঞ্জে করোনা উপসর্গ কিংবা এ রোগে কেউ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে দাফনের ব্যবস্থা করবেন। এরপর থেকেই তিনি একের পর এক লাশের কাফন দাফন সম্পন্ন করে চলছেন। নিজ ধর্মালম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মালম্বীদেরও লাশের সৎকার করে যাচ্ছেন মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। যা নিয়ে দেশের পাশাপাশি বর্হিবিশে^ও আলোচনায় চলে এসেছে। তাকে নানা উপাধিতে ভূষিত করে যাচ্ছেন। কেউ বলছেন, ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ কেউ বলছেন ‘হিরো অব করোনা’।

আর কাউন্সিলর খোরশেদের এই কাজের পিছনে রয়েছেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। যারা কাউন্সিলর খোরশেদের সাথে সাথে নিজেদের জীবন বাজি রেখেও আল্লাহর খুশি করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। খোরশেদের সাথে সাথে তারাও পরিবার পরিজন বিচ্ছিন্ন থেকে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দিন কিংবা রাত যে কোনো সময় ফোন আসার সাথে সাথেই তারা ছুটে যাচ্ছেন। অনেক সময় কাউন্সিলর খোরশেদেও অনুপস্থিতিতেও তারা কাজ করে যাচ্ছেন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও