হারিকেন দিয়ে ইউএনওগিরি করেছি, স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে ১০ কিলোমিটার

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৪০ পিএম, ১৩ জুলাই ২০২০ সোমবার

হারিকেন দিয়ে ইউএনওগিরি করেছি, স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে ১০ কিলোমিটার

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সচিব আব্দুল মান্নান বলেছেন, ২ বার নেগেটিভ হয়েছিল আমার ছেলে। আমার স্ত্রীকেও আমি হারিয়েছি। টেস্ট নিয়ে আমাদের হতাশা আছে। আমার ছেলে তাও তৃতীয়বার টেস্ট করার পর সে পজিটিভ আসে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার ছেলে আমার স্ত্রীর সাথে ছিল ৪ দিন একটানা এবং এক পায়ে দাঁড়ানো ছিল। মাকে ছেড়ে সে ১ ঘণ্টার জন্য যায়নি, মাও ছেলেকে ছাড়েনি। শেষ নিঃশ্বাস পড়েছে আমার ছেলের মুখে। আমার ছেলে সারাক্ষন সাথেই ছিল, আমার মেয়ে এবং ছোট ছেলেও ছিল। দাফন করে এসে দেখলাম ৪ দিন থাকার পরও আমার ছেলের রিপোর্ট আসছে নেগেটিভ। পরে আমরা বললাম যে নেগেটিভ তো তার হতে পারেনা। পরে আরেকটি জায়গায় টেস্ট করালাম সেখানেও নেগেটিভ। দুবার আসার পর আমি ভাবলাম কি করা যায়। ছেলেকে বললাম। আমার ছেলে ডাক্তার হবার কারণে সে বলছে কোভিডের যে চরিত্র আমার কোনভাবেই নেগেটিভ হতে পারেনা। এবং আমার ছোট ভাই ও বড় বোনেরও নেগেটিভ হতে পারেনা। যেহেতু মৃত্যুর আগে সকলেই মাকে জড়িয়ে ধরেছে।

সচিব আরো বলেন, পরে তৃতীয় বার আমার ছেলের টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করি এবং ১৩ দিন তারা হাসপাতালে ছিল। আমার ছেলের বয়স ২৭ বছর তাকে আল্লাহ রক্ষা করেছে। আমি যদি দুইটা নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে বসে থাকতাম যে বাবা ঘরেই থাক যেহেতু নেগেটিভ। তাহলে জানিনা কি হতো। এজন্য টেস্ট নিয়ে আমাদের হতাশা রয়েছে। নেগেটিভ ফলস হতে পারে কিন্তু পজিটিভ মানে পজিটিভ। এর মধ্যে দুর্বৃত্তরা আবার কোন টেস্ট না করেই বলছে নেগেটিভ। তাদের কোন রেহাই নাই। নারায়াণগঞ্জেও যদি কোন এমন হয়ে থাকে তাহলে সিভিল সার্জন ব্যবস্থা নেবে আমি বলে যাচ্ছি। বিদেশেও পাঠিয়ে দিচ্ছে টেস্ট না করে ফলস সার্টিফিকেট দিয়ে এসব দূর্বৃত্তরা। এয়ারপোর্টে নামার পর আমার বাংলাদেশের মানুষকে আবার ফেরত দিচ্ছে। এই রিজেন্টের মত, জেকেজির মত আরো আছে আমরা তল্লাশি করছি, কাউকেই ছাড়বোনা। দেশ নিয়ে দেশের মানুষ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে এদের ছাড় নেই।

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, আমার পরিবারে ডাক্তার দুইজন হয়েছি কিন্তু আমার স্ত্রীর মৃত্যুর সময় কিন্তু কাজে লাগেনি। আপনাদের মিনিমান নৈতিক দায়িত্ব, বেতন পাচ্ছেন এবং সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন সেগুলোর জন্য আপনার দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যান্য সার্ভিস থেকে আপনাদের সার্ভিসের অনেক বেশী সুবিধা। আমি সবাইকে প্রমোশন দিতে চাই। করোনার বাইরেও যদি অন্য কোন রোগের রোগী আসে এবং চিকিৎসা না করেন সেটিও আমরা সহ্য করবোনা।

তিনি বলেন, হারিকেন দিয়ে ইউএনওগিরি করসি। স্ত্রীকে ফোন করতে ১০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে কথা বলতাম। এখন তো সেই অসুবিধা নেই, আছে ভিডিও কলের সুবিধাও। আমাদের সুযোগ সুবিধা ও বেতনের টাকা তো হালাল করতে হবে। রোগী যদি আপনার এখানে সেবা পায়নি বলে চলে যায় এটা আমি ভালোভাবে নেবনা। আপনার এখানে সার্ভিস পাচ্ছেনা বলে ঢাকায় ভীড় জমাচ্ছে, এটা আর হতে দেয়া যাবেনা।

এতে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে সালমা তানজিয়া, জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, খানপুর করোনা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায়, আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সায়মা আফরোজ ইভা, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও