চাষাঢ়ায় বোমা হামলার স্মৃতিচারণ ওই সময়ের এসপি মালিক খসরুর

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৭ পিএম, ১৫ জুলাই ২০২০ বুধবার

চাষাঢ়ায় বোমা হামলার স্মৃতিচারণ ওই সময়ের এসপি মালিক খসরুর

২০০১ সালের ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বোমা হামলার সময়ে নারায়ণগঞ্জে কর্মরত ছিলেন পুলিশের সাবেক এআইজি মালিক খসরু। তিনি ছিলেন ওই সময়ের পুলিশ সুপার। ১৯ বছর তিনি নারায়ণগঞ্জ এসে সেই রাতের ঘটনার কিছু স্মৃতি বর্ণনা করেছেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ক্যান্সার আক্রান্ত ক্রিকেট কোচ শাওনের চিকিৎসায় তার হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া অনুষ্ঠানে মালিক খসরু উপস্থিত ছিলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শামীম ওসমান যিনি ওই বোমা হামলাতে আহত হন।

সাবেক এআইজি মালিক খসরু বলেন, ‘যখন বোমা পরলো তখন শহীদ মিনারের পাশেই যে পেট্রোল পাম্প ছিল আমি যাচ্ছিলাম। বোমার আওয়াজ হলো। কিছুই টের পাইনি। দেখলাম সবকিছু উপরে চলে আসলো। আমি দৌড়ে রুমে ঢুকেছি। আমার বডিগার্ড বলল স্যার এখানে যাইয়েন না আরো বোমা থাকতে পারে। ওই সব কেয়ার করি নাই। গেছি। লাশ পড়ে আছে মানুষ কাতরাচ্ছে। রক্ত ছড়াচ্ছে মাংস ছুটে যাচ্ছে। হাত চলে গেছে। কি ভয়াবহ দৃশ্য। তখন আমি একা রুমে ঢুকেছিলাম। আমার পিছে বডিগার্ড ঢুকেছিল। পরে অনেকে ঢুকলো।’

তিনি আরো বলেন, ‘শামীম ওসমান আহত। ওকে হাসপাতালে ভর্তি করে আমি সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফোন করলাম। ওনি বললেন যে ঠিক আছে তুমি সাবধানে থাকো। কাজ করো। পুরো জিনিসটি সামাল দিয়েছিলাম। শামীম তো তখন আহত। সমস্ত ডাক্তার নার্স সবাইকে জোর করে ঘর থেকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে বললাম যে পুলিশ লাইনে যতলোকের ব্লাডগ্রুপ করা আছে যত রক্ত লাগে আমরা দেবো। এইভাবে কিন্তু লড়েছিলাম। এগুলো করতে গেলে মানুষের পাশে থাকতে হয় না হলে হয় না। আমি এসপি হিসেবে না পাবলিক সার্ভেন্ট, চাকর ছিলাম। সেই পরিচয়ে আমি কাজ করেছি।’

প্রসঙ্গত ২০০১ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের মেয়াদের শেষদিকে ১৬ জুন চাষাঢ়া আওয়ামীলীগ অফিসে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। রাতে পৌণে আটটার দিকে তখনকার এমপি শামীম ওসমান যখন জনগণের কথা শোনার জন্য সাক্ষাৎ দিচ্ছিলেন ঠিক তখনি বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। সেই হামলায় আওয়ামীলীগের ২০ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান। গুরুতর আহত হন শামীম ওসমানসহ অর্ধশতাধিক লোক। চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলার সভাপতি চন্দন শীল, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রতন দাস আরো অনেকেই। সে ঘটনায় সেদিনই নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা দুটি মামলা (একটি বিস্ফোরক ও অন্যটি হত্যা) দায়ের করেন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও