মরদেহকে সম্মান দিন, সামনে মরণ কামড় : কাউন্সিলর শকু

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৭ পিএম, ১৬ জুলাই ২০২০ বৃহস্পতিবার

মরদেহকে সম্মান দিন, সামনে মরণ কামড় : কাউন্সিলর শকু

‘কখনো একজন আবার কখনো দুইজন কিংবা তারও বেশি করোনায় আক্রান্ত কিংবা সন্দেহজনক করোনা রোগীর মরদেহের শেষকৃত্যের কাজ টিম নিয়ে করে যাচ্ছেন কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু। আর মরদেহ দাফন কিংবা সৎকার করতে গিয়ে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্বজনদের পক্ষ থেকে মরদেহকে নূন্যতম সম্মান পর্যন্ত দেখানো হয় না। তাই তিনি মৃতব্যক্তির আত্মার শান্তির জন্য আত্মীয় স্বজনদের সম্মান দেখানোর অনুরোধ করেন। আর এটা নিজেদের স্বেচ্ছাশ্রমের প্রাপ্তি হিসেবে মনে করবেন বলে জানান তিনি।

১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে কথাগুলো বলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু। নিজ এলাকায় নারায়ণগঞ্জের একমাত্র কোভিড-১৯ ডেডিকেটেট হাসপাতাল (৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল) হওয়ায় কেউ মারা গেলে তিনিই এগিয়ে যান। মরদেহ দাফন কিংবা সৎকার করে চলেছে। বিগত ৪ মাস ধরে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কতগুলো মরদেহ শেষকৃত্যের কাজ করেছেন এ বিষয়ে তথ্য দিতে অনিহা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি মনে করেন এতে করে স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম ও মরদেহের প্রতি অসম্মান করার সামিল।

শওকত হাসেম শকু বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে এখন কোভিড-১৯ পজেটিভ শনাক্ত হওয়ার সংখ্যা কমে এসেছে। অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। আবার অনেকেই ঘরে থেকেই সুস্থ হয়ে গেছেন। সত্যিইটি অনেক সুসংবাদ। যার জন্য আমরাও নিজের ইচ্ছা মতো বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। হোক সেটা জরুরী প্রয়োজন কিংবা অহেতুক। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি না। তাই তাদের জন্য বলতে চাই সামনের দিনগুলো খারাপ আসছে। এখনের চেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিও হতে পারে। তাই সাবধান থাকতে হবে।’

ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন করোনার ৫ম ধাপে রয়েছি। আগামী ঈদের মধ্যে কিংবা পরে ৬ষ্ঠ ধাপে উত্তীর্ণ হবো। আর তখনই করোনায় আক্রান্ত সংখ্যা বাড়বে। আমার মনে হচ্ছে তখনই একটা মরণকামড় দিবে।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এখন আক্রান্ত সংখ্যা কম হলেও এখন যারা হাসপাতালে এসে ভর্তি হচ্ছেন। ডাক্তার, নার্স সহ স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারপরও তাদের মধ্যে অনেকেই মারা যাচ্ছেন। দিন দিন এ মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যেটা আমার কাছে খুব ভয়ের বিষয়। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

শওকত হাসেম শকু বলেন, এখনও পর্যন্ত অনেক মরদেহ দাফন ও সৎকার করেছি। মানুষের মধ্যে এখন ভয় দেখা না গেলেও স্বজনেরা যখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তখন ঠিকই তাদের মধ্যে ভয় দেখা যায়। স্বজনের মরদেহও ধরতে চায় না। অ্যাম্বুলেন্স ধরে কান্না করে কিন্তু মরদেহ ধরতে চায় না। স্বজন করোনায় মারা গেছে শুনলে ফোন দিয়ে বলে লাশ দাফন করে দেন। একটি বারের জন্য কাছেও আসে না। এটা খুব দুঃখজনক। তাই সবার প্রতি অনুরোধ মরদেহের প্রতি নূন্যতম সম্মান দেখান। একটি আমি আপনি সবাই মারা যাবো। তাই বলে মৃতদেহের সম্মান করবো না। আত্মীয় স্বজনদের কাছে অনুরোধ মরদেহের প্রতি নূন্যতম সম্মান দেখেলেই আমরা এটাকে মন থেকে প্রাপ্তি হিসেবে গ্রহণ করবো। সবাই মরহুমের প্রতি সম্মান দিবেন।

প্রসঙ্গত কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু গত ১৫ মার্চ থেকে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে ও সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে মাস্ক বিতরণের মধ্যে দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। এর ধারবাহিকতায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়। এরপরই শুরু হয় হ্যান্ড স্যানেটাইজার, সাবান সহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে কর্মহীন হয়ে পরা অসহায় ও অনহারী মানুষের পরিবারের জন্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্যে শুরু হয় ওয়ার্ড জুড়ে জীবাণুনাশক পানি ছিটানো কার্যক্রম। পর্যায় ক্রমে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সহ অন্যান্য কার্যক্রমও চালিয়ে যান কাউন্সিলর শওকত হাসেম।

বর্তমানে উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে হলো কোভিড ডেডিকেটেট হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগী, ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উন্নতমানের খাবার, ফল সহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করছেন। হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য সুবিধায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও হাসপাতালে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ দাফন ও সৎকার করে যাচ্ছেন।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও