লিংক রোডে চলতে ছোট যানবাহন যাত্রীদের কোমর ভাঙে!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪৪ পিএম, ২৭ জুলাই ২০২০ সোমবার

লিংক রোডে চলতে ছোট যানবাহন যাত্রীদের কোমর ভাঙে!

নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দৈর্ঘ মাত্র ৮.৪ কিলোমিটার। অথচ এতটুকু সড়কই যেন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত লিংক রোডটি মেরামত করতে দুই দফায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। কিন্তু এত টাকা ব্যয় করা হলেও ফলাফল দেবে যাওয়া ভাঙাচোড়া এবড়োথেবড়ো অবস্থা। বড় যানবাহন চলাচল করতে পারলেও ছোট যানবাহনের যাত্রীদের রীতিমতো কোমর ভেঙ্গে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায় সড়কটির ভয়াবহ অবস্থার চিত্র। নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া মোড় থেকেই সড়ক দেবে গেছে। আবার কোথাও কোথাও ফুলে ফেপে টিউমারের মত তৈরী হয়েছে। সড়কে টিউমারের মত ফুলে যাওয়া অংশ অপসারণ করে ইট ফেলে জোড়াতালির মেরামত করার চেষ্টা করা হলেও আবারো দেবে গিয়ে নিচু হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় বড় যানবাহন চলাচল করতে পারলেও রিকশা ইজিবাইকের মত ছোট যানবাহন চলাচলে ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণকে। এরকম জোড়াতালির মেরামত প্রতি মাসেই হয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন এই সড়কের নিয়মিত যানবাহন চালকেরা।

সিএনজি চালক শফিকুল ইসলাম জনান, ‘এই সড়ক যতবার ঠিক করে ততবার নষ্ট হয়। লকডাউনের মধ্যেও দেখছি ঠিক করতে। কিন্তু এখন অবস্থা খারাপ। এর আগেও প্রতি মাসেই ঠিক করতে দেখছি। রাস্তা ঠিক মতো মেরামত করা হলে তো টিকবো। দুই নাম্বার জিনিস দিয়া রাস্তা মেরামত করে। এক সপ্তাহ না যাইতেই আবার আগেম মত হইয়া যায়। দুর্নীতি না কইরা যদি ঠিক মতো মেরামত করতো তাইলে বেশি দিনই টিকতো।’

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড নির্মাণের পর থেকে ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জবাসীর যোগাযোগ স্থাপনে নতুন দিগন্ত তৈরী হয়েছে। সড়কটির সংস্কারের জন্য সব থেকে বেশি খেটেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। যে কারণে বিভিন্ন সভা সমাবেশে ক্রেডিট নিতে ভুলেন না তিনি। নির্বাচনি সভার বক্তব্যেও তিনি বার বার উল্লেখ করেছেন যে ১৮ কোটি টাকা দিয়ে তিনি লিংক রোডটি তিনি মেরামত করেছেন। লিংক রোড নিয়ে তাঁর গুরুত্ব বোঝাতে সড়কটি মেরামতে দুর্নীতি হলে ছাড় না দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি।

কাজের শুরুতেই কাদাপানিতে পিচ ঢালাই ফেলে নিজেদের অনিয়মের কার্যক্রম তুলে ধরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। সেসময় গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে মেরামত কাজের টেন্ডার পাওয়া এই প্রতিষ্ঠান। এছাড়া নি¤œমানের নির্মাণ সরঞ্জাম ব্যবহার, পরিমাণে কারচুপি সহ একের এক অভিযোগ উঠতে থাকে তাঁদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সত্যতা অনেকটাই প্রকাশ পায় যখন মেরামত কাজ শেষ হওয়ার এক মাস না পেরুতেই টিউমারের মত ফুলে উঠে লিংক রোড জুড়ে। সংবাদ প্রকাশের পর জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হলেও আবারো আগের অবস্থায়। এভবে প্রতি মাসে অন্তত একবার করে জোড়াতালির মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

সাংসদ শামীম ওসমানের ছাড় না দেওয়ার ঘোষণার পর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এত অভিযোগ উঠার পরেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। শুধুই স্ট্যান্টবাজিতে পরিণত হয়েছে তাঁর সেই বক্তব্য।

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য সাংসদ শামীম ওসমানের মুঠোফোনে প্রথমবার ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি একটু পেশেন্টকে ভর্তি করাতে হাসপাতালে এসেছি। পেশেন্টের অবস্থা খুব কারা পরি কথা বলি।’ এই বলে ফোন কেটে দেওয়ার পর বিকেলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তিতে রাতে ফোন কা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

একই প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও