নারায়ণগঞ্জ থেকে দূর পাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১৯ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২০ বুধবার

নারায়ণগঞ্জ থেকে দূর পাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

পবিত্র ঈদ উল আযহাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ থেকে দূর পাল্লার বাসের ভাড়া কয়েকগুণ বেড়েছে। করোনায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর নির্দেশনা থাকলেও তার পরিবর্তে পরিবহন মালিকেরা শতভাগ বাড়িয়ে নিচ্ছে অভিযোগ যাত্রীদের। করোনার সময়ে উপার্জন না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের’ মতো দাবি যাত্রীদের। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ভাড়াই তারা রাখছেন। এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছেন।

২৯ জুলাই বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরেজমিনে শহরের খানপুর, চাষাঢ়া ও উকিলপাড়া এলাকার ৫টি বাস কাউন্টার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

টিকেট বিক্রেতাদের সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে মাওয়া, ভাঙা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুয়াকাটা, মাগুরা, যশোর, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, সিলেট সহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে শ্যামলী পরিবহন, যাতায়াত সুপার লিমিটেড, মালঞ্চ পরিবহন, আর পি স্পেশাল রোকেয়া, সীমান্ত পরিবহন, আর পি পরিবহন, সোদিয়া সহ বিভিন্ন পরিবহনের বাস। আর তাই প্রতি ঈদে নারায়ণগঞ্জের কর্মস্থল থেকে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য এসব পরিবহনের ভীড় করে যাত্রীরা। তবে আসন্ন ঈদুল আযহাকে ঘিরে অগ্রিম টিকেট বিক্রিতে যাত্রীদের তেমন কোন ভীড় নেই।

সরকারি কদম রসূল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সোহেল রানা। গ্রামের বাড়ি জামালপুর হলেও নারায়ণগঞ্জে খন্ডকালীন চাকরি ও বিভিন্ন বাসায় গিয়ে টিউশন পড়িয়ে নিজের পড়ালেখার খরচের পাশাপাশি পরিবারকেও সহায়তা করতেন। কিন্তু করোনায় সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাসায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানোও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে খুব কষ্টে তার জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতে জামালপুর যাওয়ার জন্য বেশি দামে মালঞ্চ পরিবহনের অগ্রিম টিকেট কিনেছেন তিনি।

সোহেল রানা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘গত ঈদুল ফিতরে টাকার অভাবে বাড়িতে যাইনি। এবারও শুরুতে ভেবে ছিলাম যাবো না। কিন্তু কয়েকদিন আগে বন্যার পানি ঘরের ভেতর ঢুকে গেছে। পরিবারের সবাই কষ্টে আছে। তাই বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে। কিন্তু এমন পরিস্থিতেও ঈদের নামে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। যেখানে স্বাভাবিক ভাড়া ছিল ৩৫০ টাকা তা ৬০ শতাংশ বেড়ে ৫৬০ টাকা করা হয়। কিন্তু এখন ৫৬০ টাকার টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে ১০০০ টাকায়।’

তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘বেশি ভাড়া নিচ্ছে কিন্তু তাদের কিছুই বলা যাচ্ছে না। বেশি ভাড়া কেন? জিজ্ঞাসা করলেই বলে, ‘ইচ্ছে হলে যান না হলে অন্য কোথাও দেখেন’। এমনিতেই ইনকাম নেই তার উপর এ অতিরিক্ত ভাড়া আমাদের মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো অবস্থা। অবিলম্বে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী যাওয়ার জন্য টিকেটের সন্ধান করছেন হাফছা আক্তার। তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘যাতায়াত সুপার লিমিটেডে যোগাযোগ করি। সেখানে ৩০০ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা দাম চাইছে। যা সরকারের ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর পরও কয়েকগুন বেশি।’

রাজশাহী যাবেন মৃতুঞ্জয় রায়। তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আর পি স্পেশাল রোকেয়া নামে পরিবহনে ৪০০ টাকার ভাড়া ১০০০ টাকা চাইছে। কোন ভাবেই কম করবে না তারা।’

সজিব সাহা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘সীতাকুন্ড যাওয়ার ভাড়া ছিল ৩০০ টাকা। সীমান্ত পরিবহনে এখন সেই ভাড়া চাইছে ৭০০ টাকা। তবে দুই সিটে একজন বসে যাওয়ার কারণে এতো ভাড়া বেশি নিচ্ছে।’

সীমান্ত পরিবহনের সুপার ভাইজার দিদার হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুইটি সিটের জন্য একজনের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তাই ভাড়া একটু বেশি। কিন্তু যাত্রী নেই। অন্যান্য বছর সিট দেওয়া যেতো না এবার যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এক গাড়িই ফিলাপ হচ্ছে না।’

আর পি স্পেশাল রোকেয়া পরিবহনের টিকেট বিক্রেতা মো. সজিব নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘করোনার জন্য সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ শতকরা ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে বাস মালিক আমাদের ৯০০ টাকায় টিকেট বিক্রি করার জন্য বলেছেন। তাই আমরা এ দামে বিক্রি করছি। কেন ৬০ শতাংশের বেশি নেওয়া হচ্ছে সেটা মালিক পক্ষ বলতে পারবে।’

অনন্ত পরিবহনের ম্যানেজার (নারায়ণগঞ্জ) মো. মাসুম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘মূলত ঈদে গাড়িগুলো এখান থেকে যাত্রী নিয়ে গেলেও আসতে হয় খালি। যার জন্য ভাড়া একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে এটাও বাস মালিক সমিতির নির্দেশনা অনুযায়ী।’

তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে আরো বলেন, ‘বিগত বছরের ঈদের ৫ থেকে ৭দিন আগেই গাড়ির সব সিট বুকিং হয়ে যায়। কিন্তু এবার খুব খারাপ অবস্থা। তাই গাড়ির খরচ তুলতে কিছুটা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।’

যাতায়াত সুপার লিমিটেড পরিবহনের মালিক মিজানুর রহমান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘প্রতিযোগিতার জন্য সরকার নিধারিত ভাড়ার চেয়ে আমরা সব সময় কম ভাড়া নিয়েছি। এখন ৬০ শতকরা বৃদ্ধির কারণে ভাড়া বেড়েছে। তবে এখনও কম নেওয়া হচ্ছে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘যারা বেশি দামে টিকেট কিনেছে, তারা প্রয়োজনে পরিচয় গোপন করেও জানালে ওইসব পরিবহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পুলিশ, বিআরটিএকে বলা হবে যাতে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। যাতে কোন ভাবে বেশি দামে টিকেট বিক্রি করতে না পারে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও