মন্টি বাহিনীর বিরুদ্ধে এসপির কাছে অভিযোগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৯ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২০ বুধবার

মন্টি বাহিনীর বিরুদ্ধে এসপির কাছে অভিযোগ

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ও আগামী দিনের জন্য চাঁদা মুক্ত ফুটপাতে হকার পরিচালনা করার জন্য পুলিশ সুপারের সহযোগিতা চেয়েছেন হকাররা। আর এসময় মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টির নেতৃত্বে চাঁদা উঠানোর অভিযোগ করা হয়।

২৯ জুলাই বুধবার দুপুরে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পুলিশ সুপার বরাবরে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। দুই পাতার অভিযোগপত্রে ৩৭ জন হকার স্বাক্ষর করেন।

অভিযোগ করা হয়, শহরের ২নং রেলগেইট সিটি করপোরেশনের পাবলিক টয়লেট থেকে ১নং রেলগেইট বন্ধন পরিবহনের কাউন্টার পর্যন্ত ফুটপাতের হকার বসে। আওয়ামীলীগের সরকার আমলে আমরা কখনো কোন বিষয়ে চাঁদা বা সালামী দেয়া হত না। কিন্তু দীর্ঘ ৬ থেকে ৭ মাস যাবৎ ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা পুরো এলাকার দোকান প্রতি বিদ্যুৎ বিল নামে ২০ টাকা করে উত্তোলন করে। আমাদের এই হকারদের মধ্যে কোন কমিটি বা ইউনিয়ন না থাকায় , এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারতাম না।

২১ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চেম্বারের হকারদের কাছ থেকে ঈদ উপলক্ষে ও এখন থেকে ২০ টাকার বদলে ৪০ টাকা করে দোকান প্রতি দেওয়ার চাপ দেয় চাঁদাবাজ জহিরুল ইসলাম সিকু, মোতালেব, মিরাজ সহ ৪ থেকে ৫জন। এতে চাঁদাবাজ উদ্দেশ্যে আমরা বলি, আপনার নেতার সাথে সাক্ষাত করার ব্যবস্থা করে দিন। তাকে ঈদকে সামনে রেখে বুঝিয়ে আমরা ২০ টাকা করে ধারাবাহিকতা রাখি। এতে চাঁদাবাজরা বলেন,‘ নেতা পাক্কা রোড আছে, এখানে আসবে না। তিনি বলে দিসে এই টাকায় দিতে হবে।’

এসময় জড়ো হওয়া হকারদের সাথে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়ে চাঁদাবাজরা। এ সময় চাঁদাবাজদের মধ্যে সিকু ও মিরাজ আরেক চাঁদাবাজাকে বলে উঠে, ‘ওই মন্টি ভাই সেন্টু ভাইরে ফোন লাগা, ওগো দেখাইয়া দিুম, উঠাইয়া দিমু। এমন উচ্চ সুরে কথা, হকাররা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ হয়ে চাঁদাবাজ জহিরুল ইসলাম সিকু, মোতালেব, মিরাজ সহ ৪ থেকে ৫জনকে দেওভোগের দিকে ধাওয়া দেয়।

এদিকে বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে ফুটপাতে হকার বসার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে হকারা। এসময় চাঁদাবাজাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারীও দেয়। এছাড়া আন্দোলনের পর থেকেই বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত দখলে নেয় হকাররা।

উল্লেখ্য সারাদেশজুড়ে নারায়ণগঞ্জের সমালোচিত ঘটনার মধ্যে অন্যতম হলো হকারদের সাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সরাসরি সংঘর্ষ। সেদিন ঘটে গিয়েছিল অনেক লঙ্কাকান্ড ঘটনা। সে ঘটনায় সারাদেশব্যাপী আলোচনায় চলে এসেছিল নারায়ণগঞ্জ। কিন্তু ওই লঙ্কাকান্ডের পরেও হকাররা এখনও শান্ত হচ্ছেন না। কয়েকদিন পরপর ফুটপাতে বসা নিয়ে পুলিশের কড়াকড়ি শুরু হলেই হকাররা হুংকার ছাড়ছেন। সেই সাথে ফুটপাতে বসার দাবী জানিয়ে আসছেন।

তারই ধারাবাহিকতায় এবারও ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে হকাররা নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে বসার জন্য আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। তবে প্রতিবারের মতো এবারও নারায়ণগঞ্জের সর্ব মহল হকারদের বিরুদ্ধে একাট্টাভাবে মতামত পোষণ করে আসছেন। তারা কোনভাবেই হকারদের ফুটপাতে বসার ব্যাপারে সমর্থন দিচ্ছেন না।

এর আগে গত ৯ জুলাই দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে গেলে জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলে দিয়েছেন, আপনারা রাস্তায় নামবেন কেন? আপনাদের বহুবার বলা হয়েছে। আমরা আপনাদের কষ্টের সাথে একমত। বিকল্প ব্যবস্থা মেয়র করবে। আপনারা মেয়রের সাথে প্রয়োজন হলে বার বার বসেন তাকে বুঝান। উনি উনার মতো করে ব্যবস্থা করবেন। আমরা জেলা প্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসন আপনাদের রাস্তায় বসতে দিতে পারি না। কোনভাবেই এই কাজটা করে দিতে পারি না।

এদিকে গত ১৪ জুলাই হকার নেতারা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের সাথে দেখা করতে গেলে তিনি বলেন, আইনের ব্যতয় ঘটবে এমন কোনো কাজের অনুমতি দিতে পারি না।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও