ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও সত্য বলবো : আইভী

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:২০ পিএম, ৩০ জুলাই ২০২০ বৃহস্পতিবার

ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও সত্য বলবো : আইভী

দীর্ঘদিন পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলেছেন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রচারিত বাসভূমির আলোকিত প্রবাস নামে ফেসবুক লাইভে আইভীর বক্তব্যে উঠে আসে তাঁর বিগত দিনে মেয়র হওয়ার গল্প, এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে সম্পর্ক, শহরের হকার নিয়ে সিটি করপোরেশনের ভূমিকা, বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়া, রাজউকের জমি বিক্রি করা, নিজ বাবা প্রয়াত পৌর পিতা আলী আহাম্মদ চুনকাকে জামায়াত সখ্যতা বানানোর অপ্রপয়াস ইত্যাদি। প্রায় ঘণ্টাখানেকের ওই লাইভে দেওয়া আইভী বক্তব্য এখন টক অব দ্য টাউন।

শামীম ওসমানের সঙ্গে আমার কোন দ্বন্দ্ব নাই

সঞ্চালক আকিদুল ইসলাম অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে মতবিরোধ দ্বন্দ্বের ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। জবাবে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘এটাকে দ্বন্ধ বলা যাবে না। এটা তো হতেই পারে। আপনাদের একটি ঘরে যদি ৫টি ভাইবোন থাকে সেখানে কি দ্বিমত থাকতে পারে না? দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বিমত হয় না? একটা ব্যবসায়ী বিজনেসম্যান দুই ভাই আছে সেখানে কি সম্পত্তির ভাগাভাগি হয় না? ঝগড়াঝাটি ভাইয়ে ভাইয়ে হচ্ছে না? হয়তো সুতরাং এটা আলাদা ভাবে দেখার কিছু নেই। যেহেতু আমরা রাজনীতি আমরা করি সেহেতু নেতৃত্বের একটি লড়াই থাকবেই, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবেই। কিন্তু সেই নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা কতটুকু স্বাভাবিক থাকে সেটা হলো দেখার ব্যাপার।’

আইভী বলেন, ‘এখন দেখতে হবে আমরা প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে আমরা কি অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নামলাম ? আমরা কি ন্যায়ের পক্ষে প্রতিযোগিতা করছি? আমরা কি সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিযোগিতা করছি? নাকি নিজেদের আখের গোছানোর জন্য করছি? নাকি নারায়ণগঞ্জকে নিজের রাজত্ব মনে করে নিজেরে পকেটে নেওয়ার জন্য করছি? সেটা একটা দেখার বিষয়।’

‘তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের নাম নিলে শামীম ভাইয়ের নামটা আমার সঙ্গে চলে আসে এ করণে যে, আমি ২০১১ সালে ওনার সঙ্গে নির্বাচন করেছিলাম বলেই হয়তো এ বিষয়টা বেশি করে প্রকাশ পেয়েছে। এনিওয়ে, আমরা একই দল করি। অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শের অনুসারী। সুতরাং শুধু যে ওনার আর আমার মধ্যে এরকম আছে তা না, আমি বলবো, বাংলাদেশের মধ্যে এমন কোন জেলা নেই যেখানে বড়গুলোর মধ্যে সম্পর্কের একটু টানাপোড়েন থাকে না। আবার দেখেন, ক্রাইসিস মোমেন্টে কিন্তু সেই টানাপোড়েরগুলো থাকে না। মনে করেন, আজকে যদি যেকোন ক্রাইসি দেখা দেয় আমার কিংবা আমার দলের যেকারো হোক, ব্যক্তিগত ভাবে যদি শামীম ওসমানের হলো বা আমারও হলো বা যেটাই হলো আমরা কিন্তু দলগত ভাবে কেউ বসে থাকতে পারবো না। তখন আমরা সবাই একই সুরে দলের পক্ষে বা নেত্রীর পক্ষে কথা বলবো। কিন্তু সেটা এক জিনিস। সেটা দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে।’

ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও সত্য বলবো

নারায়ণগঞ্জের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আইভী বলেন, ‘আপনি যদি সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমাকে বলতে বলেন তাহলে আমি কোন অন্যায় দেখে চুপ করে থাকতে পারবো না। সেটা আমার দলের হোক, আপন ভাই হোক অথবা আমার সন্তানও যদি হয়, সে যদি কোন অন্যায় কাজ করে আমি সেটার প্রতিবাদ করবোই। এটা আমার জন্মগত অভ্যাস বলেন, স্বভাবে বলেন আর ব্যবহার বলেন, যেটাই বলেন না কেন এটা আমার হয়ে গেছে। কারণ আমি এটা শিখেছি আমার বাবার কাছ থেকে যে, ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও সত্য কথা বলতে হবে। সত্য বলার সত সাহস অনেকের নাই বলেই কিন্তু অনেক সময় আমরা পিছিয়ে যাই সামাজিকভাবে, সব কিছুতে। এখন নারায়ণগঞ্জে প্রেক্ষাপট এরকম যে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাকে প্রতিবাদ করতেই হয়। সেখানে সেটা যেকেউ হতে পারে। সেটা আমার বড় ভাই শামীম ওসমানও হতে পারে, সেটা অন্য দলের কেউ হতে পারে, বিভিন্ন ভাবেই হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে জায়গা জমি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কিছু টানাপোড়েন আছে।’

‘আপনি যে হকারদের মুক্ত করে এ শহরকে পরিচ্ছন্ন করে যে জায়গাটিতে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছিলেন সেই জায়গাটির সাথে এমপি সাহেবের খুব ঘনিষ্ট কিছু মানুষজনের ব্যবসায়ী কিছু সম্পর্ক জড়িত রয়েছে। যার জন্য ওনি চাচ্ছিলেন না যে আপনি ওই এলাকাতে পুনর্বাসন করেন।’

সঞ্চালকের প্রশ্নের জবাবে মেয়র আইভী বলেন, ‘আমি মনে করি কথাটা কতটুকু সঠিক আমি জানি না। কারণ যেখানে হকাররা আছে সেখানে হকাররা এখনও আছে। তারা কিন্তু দোকানগুলো বিক্রি করে দিয়ে রাস্তায় চলে এসেছে। আর যে জায়গাটা আছে, সেই জায়গাটা হলো রাজউকের জায়গা। আমি রাজউকের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালে একটা মামলা করেছি, রাজউক যাতে নারায়ণগঞ্জের কোন জায়গা বিক্রি করতে না পারে। রাজউক এ জায়গাগুলো বিক্রি করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি নারায়ণগঞ্জের জনগনকে সাথে নিয়ে, নাগরিক কমিটি সহ সকল জনগন, তখন হকাররাও আমার সঙ্গে ছিল। তখন শামীম ওসমান বাংলাদেশে ছিলেন না ওনি দেশের বাইরে ছিলেন। ওনি কানাডাতে ছিলেন। তখন আমি আন্দোলন করেছি। এটা এক এগারোর সময়ও করেছি, আগেও করেছি। এ দুটা সময় আমরা আন্দোলন করে, মামলা করে আমরা এ জায়গাগুলো রক্ষা করার চেষ্টা করছি এবং জায়গাগুলো আমার দখলে ছিল।’

আইভী বলেন, ‘প্রেসক্লাবের পিছনে যে জায়গাটা ছিল সেখানে আমাদের একটি মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড ছিল। যেহেতু মাইক্রোবাসগুলো রাস্তার মধ্যে ছিল সেহেতু আমি রাস্তা থেকে সরিয়ে রাজউকের জায়গায় নিয়ে এবং রাজউকের ম্যাপে সেটা কার পার্কিং-ই দেখানো আছে। কিন্তু আমি জানি না মামলা চলাকালীন অবস্থায় কোন অদৃশ্য হাতের ইশারায়, পত্রিকাতে বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে রাজউক গোপনে এ জায়গা বিক্রি করে দিয়েছে। আমাদের মন্ত্রী মহোদয়ের ঘনিষ্ট বন্ধুর কাছে এটা বিক্রি করেছে। এ জায়গাগুলো এখনো ফাঁকা রয়েছে। আমরা জানি, তবে যে ভদ্র লোক এ জায়গটা কিনেছে ওনি আবার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এই যে গোপনে কেনাবেঁচা হয়ে গেলো, লিজ নিয়ে এসে নারায়ণগঞ্জের জায়গা গোপনে বিক্রি করা হলো তাহলে সেটা তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থ কতটুকু দেখলো। এক দিকে আমরা আন্দোলন করছি জায়গাগুলো রক্ষা করার জন্য যাতে বিক্রি করতে না পারে। এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে যখন আমি জানিয়েছি ওনি নিজে বলেছেন, জায়গা বিক্রি করা যাবে না। নারায়ণগঞ্জের চাহিদা অনুযায়ী সেখানে রাজউক কাজ করে দিবে। কিন্তু বিক্রি করতে পারবে না। এ কথা বলার পরও কিভাবে রাতারাতি জায়গা বিক্রি হয়ে গেলো এবং দেখেন ওনি ওই জায়গা যে বিক্রি হয়ে গেলো সেজন্য কোন শব্দ নাই। কিন্তু হকারদের ফুটপাতেই বসাবে। কেন? হকারদের যে জায়গাটা আছে সেটাও রাজউকের জায়গা। সেটাও বিশাল বড় জায়গা। যেটা হকাররা এখন আছে আমি দখলে রেখেছি। আমার সঙ্গে মামলাও চলমান রয়েছে।’

বড় এমপির বন্ধু রাজউকের জায়গা কিনেছেন

আইভী বলেন, ‘এ জায়গাগুলো পূর্বে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার ছিল। নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে রাজউক অধিগ্রহণ করেছিল ১৯৬০ সালে। কথা ছিল যে, পৌরসভার উন্নয়ন করে দিবে। পরবর্তীতে আমরা জায়গাগুলো ফেরত চেয়েছিলাম। মার্কেট যেগুলো করা হয়েছে ডিআইটিতে সেগুলোও সিটি করপোরেশনকে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কারণ ঢাকা ও চট্টগ্রামে সব ফেরত দিয়েছে মার্কেট ও জায়গা। নারায়ণগঞ্জকে অর্ডার হওয়ার স্বত্ত্বেও ১৯৮২ বা ১৯৯২ সালে সেই জায়গাগুলো ফেরত দেয়নি। ২০০৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আমি ফাইলগুলো দেখে লেখালেখি শুরু করি যখন আমাকে দিচ্ছে না রাজউক। আর তখনই আমি রাজউকের বিরুদ্ধে মামলা করি। জায়গাগুলো রাখার চেষ্টা করলাম। কিন্তু আমার বড় ভাই শ্রদ্ধেয় এমপি মহোদয় এসে সেই জায়গাগুলো বিক্রি করার চেষ্টা করলো এবং ওনার বন্ধু কিনে নিলেন এবং ওখানে এ অবস্থায় আছে। আরেকটা বিক্রি পাঁয়তারা করছে রাজউক। কিন্তু বিক্রি যাতে না হয় আমি মামলা করেছি। সেখানে হকার্স মার্কেট হোক অথবা কার পার্কিং হোক সেটা নারায়ণগঞ্জের মানুষ যা যায় সেই কাজটা রাজউক করে দিক।

একদিকে মায়াকান্না অপরদিকে বিক্রি এ কেমন জনপ্রতিনিধি?

আইভী আরো আমাদের জমির মালিক দেওয়ার কোন প্রয়োজন নাই। জমির মালিক রাজউকই থাকুক। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের জনগণের স্বার্থে সেই কাজটা করতে হবে। কিন্তু গোপনে কারো কাছে বিক্রি হবে তা হবে না। এটা কেমন জনপ্রতিনিধি আপনি একদিকে মায়া কান্না করবেন আরেক দিকে গোপনে জায়গা বিক্রি হয়ে যাবে সেটা দেখবে না। এটা নারায়ণগঞ্জের মানুষ বরদাস্ত করবে না।’

টেন্ডারে আমার কোন সম্পৃক্ততা নাই

‘মেয়র আইভীর অধীনে বা সিটি করপোরেশনে যেসব উন্নয়নমূলক কাজ হয় এবং এর জন্য যে বাজেট হয় সেখানে তারই প্রিয় কিছু মানুষ কাজ করার সুযোগ পান। এবং তাদের প্রিয় মানুষকেই কাজ দেয়া হয়?’ প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমার বিরুদ্ধে একটা প্রপাগান্ডা। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাজ দেওয়ার কোন সুযোগ নাই। এ কাজগুলো এখন সবই ই-টেন্ডার। ই-টেন্ডারের মাধ্যমে সমস্ত কাজ হয়। তাহলে আমার প্রিয় মানুষগুলো যদি কাজ পায় তাহলে ঢাকার শহরের ১০ থেকে ১২জন আমার এখানে এসে কাজ করছেন, যাদেরকে আমি চিনিও না, জানিও না। আপনার শ্বশুর বাড়ির পাশে আমার একটি বড় খাল খনন হচ্ছে দেড়শ কোটি টাকার। এটার ঠিকাদার কিন্তু ইমাম বিল্ডার্স নামে এক ভদ্র লোক ওনার নাম হলেন জহির সাহেব। আমিতো আগে ওনাকে চিনতাম না। এখন ওনি নারায়ণগঞ্জে এসে কাজ করে তাহলে কি আমার প্রিয় হয়ে গেলো। এখন ওনারা যেটা বুঝাতে চায় সেটা হলো, কিছুতো দলের ছেলেরা কাজ করেই। আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সব আমলেই করে। আমি কিন্তু বিএনপির আমলেও পৌরসভা চালিয়েছি, তত্ত্বাবধায়ক আমলে চালিয়েছি আর আওয়ামীলীগ আমলেও চালিয়েছি। আমার এখানে দলমত নির্বিশেষ সকলেই কাজ করছে। এখনও বিএনপির বড় বড় ঠিকাদাররা কাজ করছে। এ অপপ্রচার ১০০ ভাগ মিথ্যা। আমি কখনো টেন্ডারের বিষয়ে মাথা গলাই না। আমার টেন্ডার কমিটি যদি কোন অভিযোগ করে আমি সেটা খতিয়ে দেখি। এখানে কোন পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে কিনা।’

আইভী আরো বলেন, ‘বিশ্ব ব্যাংকের নির্দেশনা ও চাহিদা অনুযায়ী টেন্ডার প্রক্রিয়া এমন হয়েছে বড় বড় ঠিকাদাররাই কাজ পাবে। মধ্যম শ্রেনির ঠিকাদাররাও পেতে কষ্ট হয়। এ নিয়ে আমি বিভিন্ন দপ্তরে বলেছি যাতে এটা সিথিল করা হয়। কারণ এতে আমাদের সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়ে যায়। কারণ একজন ঠিকাদার ১০টি কাজ পেলে কাজ নিয়ে তালবাহানা করে। কাজের ক্ষতি হয়। যখন অন্যারা অংশগ্রহণ করবে তখন আমার কাজগুলো তাড়াতাড়ি শেষ হবে।’

নারায়ণগঞ্জের জামায়াতকে আমি চিনি না

‘আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আপনি যতটা না আওয়ামীলীগ জনপ্রতিনিধি হিসেবে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীর সহযোগিতা করেন তার চেয়ে বেশি বিএনপি ও জামায়াতের ঘেষা, তাদের কাজ ও স্বার্থ বেশি করেন?’ প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, ‘এটাও আমার বিরুদ্ধে আরেকটা প্রপাগান্ডা। নারায়ণগঞ্জে কারা জামায়াত করে আমি তাদের চিনি না ও চিনতে চাইও না, চিনার ইচ্ছাও আমার নাই।

দুঃসময়ে আওয়ামী লীগকে রক্ষক বাবাকে রাজাকার বানানো হয়েছে

আইভী বলেন, আমার বাবা (আলী আহাম্মদ চুনকা) একজন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ছিলেন, আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে আওয়ামীলীগের একজন রক্ষক ছিলেন। নারায়ণগঞ্জের দুঃসময়ে আওয়ামীলীগের রক্ষা করেছেন। ৭৫ এর পরবর্তী সময়ে। আমি তারই সন্তান এবং আমার বাবাকে রাজাকার বানিয়েছে। আমার বাবার ভিডিও ক্লিপ বের করে প্রচার করেছেন জামায়াতের আমীরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। আর আমি তো আমিই ছোট মানুষ ওনার সামনে। যাই হোক যারা অপপ্রচার করার করবেই।

আমি সকলের মেয়র

আইভী আরো বলেন, ‘আমি মেয়রের ওই চেয়ারে বসে পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করতে পারবো না। আমি যতক্ষণ ওই চেয়ারে আছি আমি সকলেরই মেয়র। আওয়ামীলীগেরও মেয়র আমি বিএনপিও মেয়র। কারণ ট্যাক্স আমাকে সবাই দিচ্ছে। আমি ওই চেয়ার থেকে নেমে আসি আমার পার্টি অফিসে তখন আওয়ামীলীগের একজন কর্মী। আমি শেখ হাসিনার একজন আদর্শের অনুসারী। আমি মিথ্যাবুলি ছাড়তে পারবো না, হায় হুতাশ করতে পারবো না। কিন্তু আমি দলে আছি কিনা? দলের কাজ করি কিনা?। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন প্রধানমন্ত্রী হলেন, তখন ওনি কিন্তু বলেছেন আমি সকলের প্রধানমন্ত্রী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি সকলের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে তাহলে আমরা যারা ছোট ছোট নেতৃত্ব দিচ্ছি আমরা নির্বাচিত হচ্ছি,তাহলে আমরা কেন শুধু বলবো আওয়ামীলীগের নির্বাচিত মেয়র। আমরা তো সকলের মেয়র। তেমিন আমি তো সকলের মেয়র। যারা এসব কথা বলে মিথ্যা বুলি আওড়ায় তারা হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে বলে। তারা সম্প্রীতির কথা চিন্তা করে না। তারা মানুষের কল্যানের কথা চিন্তা করে না। তারা নিজেদের আখের গোছানোর জন্য, নিজেদের স্বার্থের জন্য এ ধরনের প্রপাগান্ডা চালিয়ে যায়। কারণ আওয়ামীলীগের কারা বিএনপির সঙ্গে গোপনে আতাত করে তা সকলেই জানে। আমার এর মধ্যে কোন মনোভাব নেই।’


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও