মেয়র প্রার্থীদের বাকযুদ্ধ, কাউন্সিলরদের মধ্যে সংঘর্ষ

|| নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৩ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ রবিবার



মেয়র প্রার্থীদের বাকযুদ্ধ, কাউন্সিলরদের মধ্যে সংঘর্ষ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের (এনসিসি) ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে বাড়ছে নির্বাচনী আমেজ। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে এখনো তেমন কোন সহিংশতা না ঘটলেও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কারো কারো মধ্যে ঘটেছে বিচ্ছিন্ন মারামারির ঘটনা। ভোটাররা এ শান্তিপূর্ণ অবস্থা চলমান থাকবে আশা করলেও শেষের দিকে ব্যতয় ঘটতে পারে সে আশংকাও রয়েছে। কোন কোন মেয়র প্রার্থীদের কণ্ঠে সুষ্ঠু ভোট নিয়েও সংশয় রয়ে গেছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে তারা নির্বাচনে যথার্থ দায়িত্ব পালন করছে। আর নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দাবী, তারা অভিযোগ পাওয়া মাত্র ত্বড়িৎ ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

এনসিসি নির্বাচনে মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে মোট ২০১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে মেয়র পদে ৭জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৫৬ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন রয়েছেন। ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১ জন। যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬২ জন এবং নারী ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৯ জন।

উৎসবমুখর পরিবেশ
গত ৫ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই মূলত আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়। শহরে বিরাজ করে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। সিটি করপোরেশনের সবগুলো ওয়ার্ডের অলিগলিতে টানানো হয়েছে প্রার্থীদের পোস্টার। মাইকে চলছে প্রচারণা। আর প্রার্থীরাও দিনভর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। কাউন্সিলররা তাঁদের প্রতিশ্রুতিতে স্থানীয় অনেক সমস্যা সমাধানের কথা বললেও মেয়র প্রার্থীরা স্থানীয় ইস্যুর পাশাপাশি জাতীয় বিষয়গুলোকেও সামনে নিয়ে আসেন। নির্বাচন বিধির কারণে সাদা কালো পোস্টার প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে টানালেও প্রতীকগুলো রঙ বেরঙয়ের তৈরি করে রাখা হচ্ছে ক্যাম্পগুলোত। প্রচারণার সময়েও হ্যান্ডবিল ও লিফলেট ছাড়াও এসব প্রতীক রাখা হয় সামনের সারিতেই। মাইকিংয়েও আনা হয়েছে বৈচিত্র। সাধারণ প্রচারণার পাশাপাশি গানের মধ্যেও চলছে প্রচারণা।

প্রচারণায় সহিংশতা

গত বৃহস্পতিবার সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সেলিনা ইসলাম বিউটিকে হুমকির অভিযোগে ওইদিন রাতেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় জিডি হয়।

প্রচারণার শুরুতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও গত ৩-৪দিন ধরে কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী কয়েকজনের মধ্যে ঘটেছে বিচ্ছিন্ন বিশৃঙ্খলা। ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ফয়েজউল্লাহ ফয়েজ জানান, মঙ্গলবার রাতে প্রচারণার সময়ে তার মাইক ভাঙচুর করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বি মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রবিউল হোসেন। এ ওয়ার্ডের অপর প্রতিদ্বন্দ্বি বর্তমান কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ অভিযোগ করেন মঙ্গলবার দুপুরে তার প্রচারণায় একদল নারী বের হলে তাদেরকে বাধা দেন রবিউলের লোকজন। এছাড়া তাঁর স্টিকার ও পোস্টারের উপর রবিউলের লোকজন পোস্টার সাটিয়ে দিচ্ছে কখনো ছিড়ে ফেলছে। এ ব্যাপারে তিনি রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত চিঠিও দিয়েছেন। তবে রবিউল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো স্ট্যান্ডবাজি। আমার কোন লোকজন এসব কান্ড ঘটায়নি।

বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ১৮নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী কবির হোসেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বি বর্তমান কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেন। কবির বলেন, মুন্না নিশ্চিত পরাজয় জেনে রাতের আধারে কালো টাকা ছিটিয়ে ভোট কিনতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারতে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন ফল এখনো মিলেনি। মুন্নার ভগ্নিপতি শাহজাহান বলেছে ২০ কোটি টাকা খরচ করে হলেও আমাকে কবিরকে বাহিনীকে দেখে নেবে। এতে করে আমি শংকিত। এমতাবস্থায় আমার সহ আমার কর্মীরা আহত কিংবা নিহত হলে এজন্য দায়ী থাকবে মুন্না।

এ ব্যাপারে কামরুল হাসান মুন্না জানান, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সত্য না। আমি কোন কালো টাকার মালিক না। থাকলে দুদক অবশ্যই ব্যবস্থা নিত। তাছাড়া ২০ কোটি টাকা খরচের অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন।

১১ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী যুবলীগ নেতা ওমর খৈয়াম চঞ্চল অভিযোগ করেন, সোমবার দুপুরে তাঁর ক্যাম্প ভাঙচুর করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন লোকজন। ভাঙচুরে সে আহত হলে তাকে হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়। এখন সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এর আগের রোববার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এলাকাতে আওয়ামী লীগের একটি ক্যাম্প ভাঙচুরের অখিযোগ উঠে থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও কাউন্সিলর প্রার্থী আলী হোসেন আলার বিরুদ্ধে। আলা হোসেনের দাবি, ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যুবকরা মাদকাসক্ত। তারা সেখানে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে কলেজগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করছিল।

এর আগে শনিবার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী নূর মোহাম্মদ পনেছ ও হান্নান সরকারের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

আইভী ও সাখাওয়াতের বাকযুদ্ধ
কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে যখন চলছে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ তখন প্রচারণায় একে অপরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছেন  আওয়ামী লীগ মনোনীত সেলিনা হায়াৎ আইভী ও বিএনপি মনোনীত সাখাওয়াত হোসেন খান। তাদের হঠাৎ করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ব্যক্তি আক্রমণ করতে দেখা গেছে। কখনো বিরোধী দলীয় প্রার্থীর অভিযোগ খন্ডন করছেন আবার কখনো অভিযোগ করছেন। এ ভাবে চলছে ভোটের কঠিন লড়াই।

সাখাওয়াত হোসেন খানের অভিযোগ, সেলিনা হায়াৎ আইভী তাঁর হলফনামায় যে তথ্য দিয়েছেন সম্পদের সেটা সত্য না। এখানে সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে। আইভী বিগত দিনে সিটি করপোরেশনে অনেক দুর্নীতি করেছে। সে দুর্নীতির ব্যাপারে দুদক সেটা তদন্তও করেছে। পরে দুদক এ ব্যাপারে তাদের প্রতিবেদনেও দুর্নীতি উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া আইভী শহরের একটি পুকুর দখল করেছেন। তিনি সাত খুনের ঘটনায় অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার কিংবা প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের পরিবারের দাঁড়ায়নি। শহরের ফুটপাতে হকারদের উচ্ছেদ করে পেঠে লাথি দেওয়া হচ্ছে। অন্যায়ভাবে ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। শহর ময়লা আবর্জনাতে সয়লাব থাকে।

সাখাওয়াত হোসেন খান সম্পর্কে আইভী বলেন, সাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জ সম্পর্কে কিছুই জানে না। সে এই জেলার বাসিন্দাও নয়, সে অন্য জেলা থেকে কিছু বছর আগে এসেছে। সে নারায়ণগঞ্জের কোথায় খাল, কোথায় নদী আছে কিছুই জানে না। ট্যাক্স কার নিয়ন্ত্রনে এসবও জানে না। আমার তো মনে হয় তিনি কারো সুরে কথা বলছেন। তাছাড়া বিএনপি ও সাখাওয়াত তো নির্বিঘেœ প্রচারণা করছেন কেউ কোন বাধা দেয় নাই। ময়লা নিষ্কাশনের জন্য জন্য ডাম্পিং প্রক্রিয়া চলমান। তাছাড়া আমি গত ৫ বছরে ৬শ কোটি টাকার উন্নয়ন করেছি। ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

নাগরিক কমিটির বক্তব্য
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান জানান, নির্বাচন উপলক্ষ্যে শহরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও একটা ভয় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঠিকমত কাজ করছে না। এ কারণেই হয়তো বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটছে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও