৫ মাঘ ১৪২৪, শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৮ , ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সমাবেশ


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৭ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:২৭ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার


বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সমাবেশ

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল ও চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা নারায়ণগঞ্জ জেলা। দেশব্যাপী  কর্মসূচির অংশ হিসাবে ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন  বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ফোরামের নেতা আবু নাঈম খান বিপ্লব, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক তরিকুল সুজন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক ধীমান সাহা জুয়েল, সিপিবি নেতা বিমল কান্তি দাস, বাসদ নেতা সেলিম মাহমুদ, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা অঞ্জন দাস।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার জনমত উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে। ১ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর  বলে জানিয়েছে। বর্তমান সরকার তার মেয়াদ কালে এই নিয়ে আট বার বিদ্যুতের দাম বাড়াল। সরকারের ভুলনীতি, দুর্নীতি, অপচয়, লুটপাট, ব্যাক্তিমালিকানাধীন বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের মুনাফার জন্য দফায় দফায় বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। ভোক্তা সংগঠন ক্যাব, বিভিন্ন বামপন্থি, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, জ্বালানি বিশেষজ্ঞসহ সকল মহলের মতামত ও সমস্ত তথ্য, যুক্তি উপেক্ষা করে সরকার এক গোয়েমি করে বিদ্যুতের দাম আবারো বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। গত কয়েক বছরে গণশুনানিতে এ বিষয়ে বহুবার যুক্তি উত্থাপন করা হয়েছে কিন্তু গণশুনানির উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের ইচ্ছার বাস্তবায়নের লোক দেখানো আইনি পদক্ষেপ। এবারও  ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিভিন্ন বিদ্যুৎ কোম্পানির দেয়া হিসাব এবং প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছিল বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কোন যৌক্তিকতা নেই। অপচয়-দুর্নীতি ও ভুলনীতির পথ পরিহার করলে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ১ টাকা ৫৬ পয়সা কমানো সম্ভব। দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎ ব্যবসায়ী, এলএনজি ব্যবসায়ী, বিদ্যুৎ আমদানিকারকদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে সাধারণ জনগণের উপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হল। বিদ্যুৎ এমন একটি পরিষেবা যা অন্যান্য দ্রব্যের উৎপাদন খরচের উপর প্রভাব বিস্তার করে। ফলে সরকার দাম বাড়িয়ে যত টাকা আয় করবে তার বহুগুণ খরচ বাড়বে সাধারণ মানুষের।

নেতৃবৃন্দ বলেন, চাল, পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ক্রমবর্ধমান দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ট করে তুলেছে। মজুদদার আর দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের দখলে এখন বাজার। এদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। টিসিবি সম্পূর্ণ অকাযকর্র। দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষ তিন বেলা প্রয়োজনীয় খাবার থেকে বঞ্চিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যাতায়াতসহ সর্বত্র জীবযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়া মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায়। অবিলম্বে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বিদ্যুতের অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বাতিল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সংগঠন সংবাদ -এর সর্বশেষ