১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, সোমবার ২৮ মে ২০১৮ , ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ

ভ্যালেন্টাইন স্পেশাল

নিতাইগঞ্জ টু কলকাতা ‘হানিমুন নাকি স্যার’


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫৬ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:৫৬ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার


নিতাইগঞ্জ টু কলকাতা ‘হানিমুন নাকি স্যার’

ভালোবাসার অপর পিঠে নাকি ঘৃণা থাকে কিন্তু আমি বলি ভালোবাসার অপর পিঠে ভালোবাসাই থাকে। শুধু ভালোবাসাই ভালোবাসর জন্ম দেয়। তারপরও বারবার বলতাম আরো বড় চিঠি চাই, আরো গহীন মনের কথা জানতে চাই, জানতে চাই তোমার স্বপ্ন। দীর্ঘ ১ মাস অপেক্ষা প্রতি উত্তরের। কি আসবে সেই চিঠিতে কি লিখবে? ভালোবাসার মানুষটা কেমন আছে। এমন জল্পনা কল্পনা করে কেটে যেতে জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পীর ১ মাস। তারপর চিঠি পড়ে পুনরায় ভালোবাসার প্রতি উত্তর। এভাবে কাটে যাচ্ছিলো বাপ্পীর প্রেমের জীবন।

বাংলাদেশের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতার পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে বাপ্পীর মনে জায়গা করে নেয় সুন্দরী মৌ। প্রথম দেখায় ভালোবাসার প্রস্তাব না জানালেও দ্বিতীয় বার এ ভুল করেনি বাপ্পী। তারপর থেকেই অপেক্ষা। বাপ্পী নারায়ণগঞ্জের অন্যতম ব্যবসায়ী প্রয়াত রণবীর রায় চৌধুরী ও কনক রায় চৌধুরীর একমাত্র ছেলে জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পি। ১৯৭৩ সালের ১৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ঢাকা রেসিডিয়ান্স মডেল স্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকা সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং নর্থ সাউথ ইউনির্ভাসিটি থেকে বিবিএ শিক্ষা অর্জন করেন।

দূরত্ব যতই হোক ভালোবাসা মানুষকে কাছে আনে সেটাই প্রমান করে দেখালেন বাপ্পী। মৌ কলকাতায় বসবাস করতেন আর বাপ্পী নারায়ণগঞ্জে। দুই দেশের কাটাঁতারের বেড়াটাই বাধা হয়ে গিয়েছিল মৌ আর বাপ্পীর। ভালোবাসার খোঁজ খবর নিতে শুধু চিঠিই প্রধান মাধ্যম ছিল বাপ্পীর। যদিও কয়েক মাস পর পর ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকার স্টুডিওর টিএনটি ফোন থেকে অনেক টাকা খরচ করে কয়েক মিনিট কথাও বলতো বাপ্পী। দুইজনের এ মধুর ভালোবাসার সম্পর্ক দুই দেশের কাটাতারের বেড়াকেও ভেঙ্গে ফেলে। ৪ থেকে ৫ বছরের ভালোবাসার পর পারিবারিকভাবে ১৯৯৮ সালে বিয়ে করেন মৌ রায় চৌধুরীকে। তাদের ভালোবাসার জীবনে রয়েছে একমাত্র ছেলে রনন।

ভালোবাসার বন্ধন থেকে স্বামীর স্ত্রীর বন্ধনে তাদের ভালোবাসা কমেনি একটুও। এখন জীবনসঙ্গী মৌকে ভালোবাসেন আগেরই মত। প্রায় প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে দেখা যায় তাদের দুই জনের মধুর কিছু ছবি। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ফেইসবুকে আপলোড করেছেন নতুন আরো তিন ছবি। নিউজ নারায়ণগঞ্জের পক্ষ থেকে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে তাদের জানায় শুভ কামনা। অটুট থাকুক তাদের ভালোবাসার বন্ধন।

জয়কে রায় চৌধুরী পেশাদার অভিনেতা না হলেও তিনি জোকার-ভিলেন হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বর্তমানে বাবার রেখে যাওয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করলেও নিজের গড়া ‘বীর আনলিমিটেড প্রডাকশন হাউজ’ এর পরিচালক হিসাবে কাজ করছেন। এছাড়াও সামাজিক কর্মকান্ডে রেখেছেন বিভিন্ন অবদান। নারায়ণগঞ্জ ফটোগ্রাফি ক্লাব (এনপিসি) এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সভাপতি তিনি।

সম্প্রতি তিনি গ্রামীণ ফোনের একটি বিজ্ঞাপনেও অভিনয় করেছেন। কিভাবে আসলেন সেই বিজ্ঞাপনে জানতে জাইলে বাপ্পী বলেন, আমার ছেলে রননের মাধ্যমে হয়েছে। ৩ বছর বয়স থেকে রনন বিজ্ঞাপনে কাজ করছে। সে আমার থেকে অনেক ভালো কাজ করতে পারে। সে অনেক অভিজ্ঞ। রনন কে দিয়ে  বিজ্ঞাপন নির্মাতা আশফাক বিপুলের সাথে পরিচয়। তিনি অমিতাব রেজা আপ-স্টপ-ডাউন প্রোডাকশনের কয়েকজন পরিচালকের মধ্যে অন্যতম পরিচালক। এই বিজ্ঞাপনের আর্ট ডিরেক্টর রনি ভৌমিক প্রথম বিজ্ঞাপনে অভিনয় করার জন্য প্রস্তাব করেন। প্রথম ভয় কাজ করে। এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন। কোন ভুল করলে কথা শুনতে হবে। কিন্তু ম্যাজিক ম্যান বিপুল সব ভয় দূর করে দিলো। বিপুল যখন কাজ করে তখন কাউকে নতুন কোন কর্মী মনে করতে দেয় না। খুব সহজে সবাইকে সহকর্মী হিসাবে সাহসী করে দেয়। এ অভিনয়ের কৃতিত্ব আমার কো আর্টিস্ট সুজয়, সারলীন ও বিজ্ঞাপন নির্মাতা বিপুলের।

বিজ্ঞাপনটিতে আমি ট্রাভেল এজেন্সীর ম্যানেজার পদে অভিনয় করি। যেখানে সবার সাথে হাসি খুশি ভাবে ব্যবহার করতে হয়। নিজের স্বার্থের ব্যাপারে কখনো কখনো একটু রাগের ব্যবহার করতে হয়। আবার কাস্টমারদের বুঝাতে গিয়ে ওল্টা-পাল্টা বলেতে হয়।

আমার সম্পূর্ন বিজ্ঞাপনটিতে ‘স্যার একটা পার্সোনাল কোশ্চেন? হানিমুন নাকি স্যার!’ এই শটটি দিতে বেশি সময় লাগেনি। কিন্তু ‘ঢাকা টু কক্সবাজার র্জানি ওয়ান নাইট, কক্সবাজার স্টে করলেন ওয়ান নাইট, এবার কক্সবাজার থেকে ঢাকা রির্টান ওয়ান নাইট, হয়ে গেল থ্রি নাইটস’ এটি করতে আমার সময় লেগেছে প্রায় ৩ ঘণ্টা। গ্রামীণ ফোনের এটা আমার দ্বিতীয় বিজ্ঞাপন। ২ বছর আগে একই পরিচালকের অধীনে গ্রামীন ফোনের ওয়েলকাম টিউনের বিজ্ঞাপন করেছি। সে সময়ের বিজ্ঞাপনটা ৫ থেকে ৬ দিনের বেশি সম্প্রচার করা হয়নি।

বাপ্পী জানান, সব সময় আমার নতুন কিছু জানার ইচ্ছা ও শেখার ইচ্ছা। আমি কালচারাল পরিবারে বড় হয়েছি। মঞ্চ নাটক দিয়ে অভিনয় জগৎ শুরু করি। ক্লাস ফোর থেকে লিটল চুতুরাঙ্গ থিয়েটারের কাজ করি। শিশু শিল্পী হিসাবে ২ টি চলচিত্রে অভিনয় করেছি। তখন আমার বয়স ৫ থেকে ৬ বছর। তালাচাবি ছবির নায়ক সুব্রতর (বর্তমান শিশু শিল্পী দীঘীর বাবা) ছোট বেলার চরিত্রে। যার পরিচালক ছিলেন এফ কবির চৌধুরী। আর অন্যটি রিলিজ হয় নাই।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সংগঠন সংবাদ -এর সর্বশেষ