ডিএনডি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে মেয়াদের আগেই: প্রকল্প পরিচালক মাশফিক

৫ ভাদ্র ১৪২৫, সোমবার ২০ আগস্ট ২০১৮ , ৩:১৭ অপরাহ্ণ

ডিএনডি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে মেয়াদের আগেই: প্রকল্প পরিচালক মাশফিক


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২০ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৮:৩১ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার


ডিএনডি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে মেয়াদের আগেই: প্রকল্প পরিচালক মাশফিক

ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিস্কাশন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্ণেল মাশফিক আলম ভূইয়া বলেছেন, ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাধ এলাকায় পানি নিষ্কাশন প্রকল্পটি আমরা গেল বছরের ডিসেম্বরে ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছি। আমরা চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু করেছি। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও আমরা ২০১৯ সালের জুলাই মাসের প্রকল্পটির কাজ শেষ করার প্ল্যান নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। অর্থাৎ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগেই আমরা প্রকল্পটির কাজ শেষ করতে পারবো। তবে শুধু প্রকল্পের কাজ শেষ করাও নয় হাতিরঝিলের প্রকল্পের কাজকে মাথায় রেখেই আমরা এগুচ্ছি। খালগুলো দখলমুক্ত করার পরে এর পাড়গুলো বাধাই করে দেয়া হবে। দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। খালগুলোতে চলবে ওয়াটার ট্যাক্সি। ওই ওয়াটার ট্যাক্সিতে চড়ে ঢাকায় যাওয়া যাবে। এছাড়া ইটিপির মাধ্যমে পানি নিস্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নিয়েও আমরা পরিকল্পনা করছি। তবে খালের পানিতে ময়লা ফেলা যাবেনা। আশা করছি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ডিএনডি’র চেহারা বদলে যাবে। এই বছর ডিএনডি অধিবাসীরা কিছুটা দুর্ভোগ পোহালেও আগামীতে তাদের জন্য সুদিন অপেক্ষা করছে।

২৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে জনদুর্ভোগ লাঘবে ডিএনডি’র পানির নিস্কাশন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন ও যানজট নিরসনের লক্ষ্যে আয়োজিত মত বিনিময় সভায় এসকল কথা বলেন তিনি। ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) সেচ প্রকল্প এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ডিএনডি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (ফ্রেজ-২)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনী।

লে. কর্ণেল মাশফিক আলম ভূইয়া আরো বলেন, ডিএনডি এলাকায় বর্তমানে দু’টি পাম্পস্টেশন রয়েছে একটি শিমরাইল মোড়ে ও অপরটি আদমজী এলাকায়। ৩টি ছোট পাম্পিং স্টেশন রয়েছে। ১২টি আরসিসি ব্রীজ ও ৭৯টি কালভার্ট রয়েছে। ড্রেনেজ ক্যানেল (খাল) রয়েছে ৯৪ কিলোমিটার। তবে পানি নিস্কাশনের খালগুলো ম্যাপে থাকলেও বাস্তবে অনেক খাল দখল হয়ে গেছে। কোথাও বাড়ি কোথাও কলকারখানা পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে গ্যাসের লাইন পানির সংযোগও গেছে। আমরা উচ্ছেদ করতে গেলে কিছু লোক কাগজপত্র নিয়ে আসছে। একটি জায়গা দেখতে পেলাম এক লোক খালের জমিতে ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান এক প্রবাসীর কাছ থেকে তিনি জমি ক্রয় করেছেন। আমরা ইচ্ছে করলে সেগুলো ভেঙ্গে দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা কাজ করছি জনগণের জন্য। এজন্য আমরা ওইসকল কাগজপত্র আবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠাচ্ছি যাচাই করার জন্য। এখন এসকল ফেক কেইসের কারণে আমাদের কাজের গতি অনেকটাই কমে গেছে। যদি আমাদের কাছে এ ধরনের ফেক কেইস না আসে তাহলে আমাদের কাজের গতি আরো ৩ গুন বেড়ে যাবে। এজন্য আমি বিনীতভাবে সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।

বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে ডিএনডি’র অনেক স্থানেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা হয়তো এবছর সম্পূর্ণ কিছু করতে পারবোনা। তবে আমরা চাচ্ছি খালের নেটওয়ার্কগুলো খুলে দিতে যাতে করে পানি পাম্পহাউস পর্যন্ত যেতে পারে। আমরা ইতিমধ্যে ৯৪ কিলোমিটার এর মধ্যে ৪০ কিলোমিটারে কাজ করেছি। ডিএনডি এলাকার ৩২০০ কিউসেক পানি নিস্কাশনের মধ্যে প্রতিদিন মাত্র ৪০০ কিউসেক পানি নিস্কাশন করা যায়। অর্থাৎ ২৮০০ কিউসেক পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এজন্য আমরা ৫০টি অতিরিক্ত পাম্প বসিয়ে বর্তমান সময়ের জলাবদ্ধতা কিছুটা হলেও কমিয়ে আনার চেষ্টা করবো। এছাড়া ১৩টি বড় পাম্পের অর্ডার দিয়েছি যেগুলো সবচেয়ে ভাল এবং প্রতিটি পাম্প ২০০ কিউসেক পর্যন্ত পানি নিস্কাশন করতে পাবে। এছাড়া ফতুল্লা পাগলা ও সস্তাপুর এলাকায় আরো ২৪টি ছোট পাম্প থাকবে। আমাদের প্রকল্প চলাকালে জনগণ হয়তো কিছুটা দুর্ভোগে থাকে তবে প্রকল্প শেষ হলে এসকল সমস্যা আর থাকবেনা।

জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক, সেনাবাহিনীর মেজর মাহতাবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতারা।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, উন্নয়নশীল দেশে নারায়ণগঞ্জ জেলাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ডিএনডির এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সেটা হাতিরঝিলের উন্নত ভার্সন হবে। যা আমাদের চিন্তারও বাহিরে। এই প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা এমপি শামীম ওসমান। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ার পরে এটার রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব কার উপর থাকবে সেটাও আগে থেকেই নির্ধারণ করতে হবে। নয়তো এই প্রকল্পের ফল কয়েক বছর পরে আর কাজে আসবেনা। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। এজন্য বেসরকারী কোন সংস্থাকে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে খালের দুই পাশে সিসি ক্যামেরা লাগানো যেতে পারে। যাতে ময়লা যারা ফেলে তাদের চিহ্নিত করা যেতে পারে।

পুলিশ সুপার বলেন, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের অবস্থা হচ্ছে সর্বাঙ্গে ব্যথা ওষুধ দিব কোথা। এ অবস্থার একদিনে সৃষ্টি হয়নি। এটা কারো একার দোষ না। নেতার কাজ হলো স্বপ্ন দেখানো। জাতির জনক স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। সংসদ সদস্য শামীম ওসমানও ডিএনডি অধিবাসীদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন যা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। তিনি একজন ডাইনামিক লিডার।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সংগঠন সংবাদ -এর সর্বশেষ