১০ আষাঢ় ১৪২৫, রবিবার ২৪ জুন ২০১৮ , ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

ক্রমশ দুর্ঘটনার ফাঁদে পরিণত লিংক রোড, সঙ্গে বাড়াচ্ছে যানজট


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১১ পিএম, ২৭ মে ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০৩:১১ পিএম, ২৭ মে ২০১৮ রবিবার


ক্রমশ দুর্ঘটনার ফাঁদে পরিণত লিংক রোড, সঙ্গে বাড়াচ্ছে যানজট

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাষাঢ়া অংশের ভাঙ্গা সড়ক যেন দুর্ঘটনার একটি ভয়াল ফাঁদ। শুধু যে ফাঁদ তাই নয় এখানে প্রতিনিয়তই ঘটে থাকে নানা দূর্ঘটনা। মাত্র ২ মিনিটের এই সড়কটি পার হতে সময় লাগে ১৫ মিনিটেরও বেশি। এই সড়কের কারণে সৃষ্ট যানজট অনেক দীর্ঘ হয় এবং শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়াতেও এই যানজট প্রভাব বিস্তার করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লিংক রোডের ভাঙা সড়কের শুরু হয়েছে চাষাঢ়া রাইফেল ক্লাবের বিপরীত পাশ থেকে আর্মি মার্কেট পর্যন্ত। এই সড়কের মাঝে মাঝে রয়েছে বড় বড় গর্ত ও ভাঙ্গা। একটু বৃষ্টি হলেই পানিতে কাঁদায় এই সড়কের বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়, চলাচলের একেবারেই অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। তবুও ঢাকামুখী ও স্থানীয়ভাবে মানুষ এই সড়কের বিকল্প না থাকায় এটিই ব্যবহার করেন।

সড়কের এই ভাঙ্গা অবস্থার পাশেই প্রতিটি ঢাকামুখী গণপরিবহনের টিকেট কাউন্টার রয়েছে। বৃষ্টি ছাড়া সময়ে মানুষ কাউন্টারে বাসের অপেক্ষা করতে পারলেও বৃষ্টির সময় দেখা দেয় সমস্যা। তখন কাঁদা ও পানিতে একেবারেই যাচ্ছেতাই অবস্থার সৃষ্টি হয়। তার উপর এমন বৃষ্টির মধ্যে বাসগুলো ভাঙ্গা সড়কের পাশে পার্কিং করে থাকে। এতে যানজটও ধারণ করে প্রকট আকার।

তার উপরে সড়কের একপাশে ড্রেনের কাজ চলায় সড়কটির ফুটপাতে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ চলছে ঢিমেতালে। সড়কের ড্রেনের কাজের ময়লা ও মালামাল সড়কের কিছু যায়গায় রেখে এই যায়গাটির কিছু অংশও দখল করে রাখা হয়েছে। আর ড্রেনের খোলা স্থানে ও ভাঙ্গা বাঁশের মধ্যেও নিয়মিত দুর্ঘটনায় পড়ছে পথচারীরা।

দূর্ঘটনায় পড়া মেহেদী হাসান জানান, এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে রবিবার (২৭ মে) একটি ট্রাকের সাথে ধাক্কায় আমার মটরবাইকের হেডলাইট ভেঙ্গে গেছে। অল্পের জন্য জীবন রক্ষা পেয়েছে আমার। এমন দুর্ঘটনা এখানে প্রায়শই ঘটে। বৃষ্টির মধ্যে অহরহ রিক্সা উল্টে অনেকেই এখানে পড়ে মারাত্মক আহতও হয়েছে।

ট্রাফিক সূত্রে জানা যায়, এই সড়কে বাসগুলোর পার্কিং করা এবং সড়কটি ব্যাপকভাবে ভাঙা থাকার এখানে যানবাহনগুলো চলাচল করে ধীরগতিতে। দুর্ঘটনা এড়াতেই সাবধানে এসব গাড়ি চলাচল করে তাই সৃষ্টি হয় যানজট। এই যানজট লিংক রোডের ২ থেকে ৫ মিনিটের সড়কে সময় নেয় ১৫ থেকে ৩০ মিনিট। মাঝে মাঝে এই যানজট প্রকট আকার ধারণ করে অনেক দূর ছড়িয়ে পড়ে। এই যানজটের প্রভাব পড়ে শহরের প্রধান প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়াতেও।এই চাষাঢ়ার জ্যাম শহরের প্রেসক্লাব, কলেজরোড, ২ নং রেলগেট, পঞ্চবটী পর্যন্তও মাঝে মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। জ্যামের প্রকোপ ছড়ায় শহরের অলিগলির সড়কেও।

স্থানীয় ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু জানান, এই সড়কটির কারণে মানুষের অনেক দুর্ভোগ হয় এটি সত্যি কিন্তু সড়কটি নির্মাণ করবে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এখানে সিটি করপোরেশনের কিছু করার নেই। তবে তারপরও জনগনের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা সড়কের দুপাশে সিটি করপোরেশনের ড্রেন নির্মাণ করে দিচ্ছি।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আব্দুর রশিদ জানান, এই সড়কটির কারণে যানজট প্রকট আকার ধারণ করে এবং এই ভাঙ্গা সড়কের বেহাল দশায় দুর্ভোগও অনেক হয় এটা সত্যি। এই সড়কের ব্যাপারে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে বৈঠকে পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্টদের আলোচনা হয়েছে। আমরা ছবি তুলে ও ভিডিও করে এই চিত্র তুলে ধরেছিলাম, মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সড়কের পাশে নাসিকের ড্রেনের কাজ চলছে সেটি সমাপ্ত হলে দ্রুতই পরবর্তী কাজ শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিউর হোসেন জানান, শুধুমাত্র নাসিকের ড্রেনের কাজ যেখানে চলছে সেখানে আমাদের সড়কের কাজ বিলম্ব হচ্ছে। নাসিকের ড্রেনের কাজের সকল মালামাল সড়কের কিছু অংশে রাখা আছে, তাদের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কিছুই করার নেই। তবুও ভাঙ্গা অংশটুকু ভরাট করে আমরা সড়কে যেন যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে সে ব্যবস্থা করছি। নাসিকের কাজ শেষ হলেই আমরা সড়কের কাজ শুরু করবো।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সংগঠন সংবাদ -এর সর্বশেষ