‘ফটো সাংবাদিকদের জন্য নারায়ণগঞ্জ চ্যালেঞ্জিং জায়গা’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০২:০৪ এএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮ রবিবার

বা থেকে বিটু, তাপস, প্রণব, কচি ও সজীব।
বা থেকে বিটু, তাপস, প্রণব, কচি ও সজীব।

বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস ১৯ আগস্ট। ১৮৩৯ সাল থেকেই প্রতিবছর ১৯ আগস্টের দিনটিকে পালন করে আসছে পুরো বিশ্ব। যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও দিবসটিকে পালন করে আসছে আলোকচিত্র শিল্পীরা। মূলত এই শিল্পের অগ্রযাত্রায় যে সকল মানুষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই পালিত হয় দিবসটি। এবারের ফটোগ্রাফি দিবসকে কেন্দ্র করে নিউজ নারায়ণগঞ্জের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন সিনিয়র ফটো সাংবাদিকদের সাথে। জানতে চাওয়া হয় ফটো সাংবাদিকতার মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় কীভাবে মানিয়ে নিয়েছেন নিজেদের, কী ধরণের প্রতিকূলতা মোকাবেলা করেন প্রতিদিন, তরুণ ফটোগ্রাফারদের নিয়ে তাদের ভাবনার কথা ও নতুন করে করে ফটো সাংবাদিকতায় যারা আসতে চাইছেন তাদের জন্যে কি-ইবা করতে পারেন তারা-এ সকল কিছু নিয়েই।

নারায়ণগঞ্জের ফটো সাংবাদিকতায় নিজেরাই নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বি এমন মন্তব্য করেছেন কেউ। কেউবা বলছেন, অধিকাংশ স্থানীয় পত্রিকায় ফটো সাংবাদিকরা বেতনভুক্ত নয়। ফলে নতুন করে ফটো সাংবাদিকতায় কোনো শিল্পমান সম্পন্ন অথবা যোগ্য কেউ বেড়ে উঠবার সুযোগ পাচ্ছে না। যা নারায়ণগঞ্জের ফটো সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎকে অনেকাংশে করে দিচ্ছে অন্ধকার।

ফটো সাংবাদিকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য শফিউদ্দীন আহমেদ বিটু নারায়ণগঞ্জের ফটো সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখানে যে কেই এসে ফটো সাংবাদিক হয়ে উঠছেন, কোন ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই। পিআইবি (প্রেস ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ) থেকে ফটো সাংবাদিকতার জন্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও এখানকার সাংবাদিকরা নিজেদের উদ্যোগে পিআইবির সাথে যোগাযোগ করেনা বলে পিআইবি এখানে প্রশিক্ষণ করাতে আসেও না। এটা সম্পূর্ণরূপেই এখানকার ফটো সাংবাদিকদের উদাসীনতা।

দৈনিক নয়াদিগন্তেরর চিফ ফটো সাংবাদিক বিটু মনে করেন নতুন ফটো সাংবাদিকগণ যদি আমাদের আহ্বান করেন তবে আমরা পুরাতনেরাও আমাদের যে সময়টুকু তাদের জন্য দেয়া সম্ভব সে সময়টুকু দিতে প্রস্তুত।

নারায়ণগঞ্জের ফটো সাংবাদিকতায় অন্যতম ব্যক্তিত্ব তাপস সাহা ছিলেন জেলা ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি। ইত্তেফাকের জেলা ফটো সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত তাপস বলেন, ‘আমরা ফটো সাংবাদিকেরাই রিপোর্টারদের চেয়ে বেশী ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করি। শেষ ১৬ জানুয়ারি শহরে হকার ইস্যুতে সংঘর্ষে যে সকল সাংবাদিকগণ আহত হয়েছেন তাঁদের অধিকাংশ ফটো সাংবাদিক। অথচ সে তুলনায় আমাদের মূল্যায়ন কম। যা এ পেশায় প্রতিনিয়ত আমাদের নিরুৎসাহিত করে।’

দৈনিক সংবাদ পত্রিকার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি প্রণব কুমার রায় বলেন, ‘ফটো সাংবাদিকতা চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা তার উপর নারায়ণগঞ্জ ফটো সাংবাদিকদের জন্যে আরও চ্যালেঞ্জিং জায়গা। এখানে ফটো সাংবাদিকেরা মূল্যায়ন পায়না। অধিকাংশ ফটো সাংবাদিকেরা বেতনভুক্ত নয়। এখানে দক্ষ এবং যোগ্য লোকেদের সংখ্যাও খুব কম। ক্যামেরা চালানো এখন খুবই সহজ। তাই যে কেউ এখন এ পেশায় চলে আসছে কিন্তু এটা যে একটি শিল্প তা অনেকেই বুঝে না। এখানে শিল্পমনা লোকের খুবই অভাব।’

এ প্রসঙ্গে ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও সিনিয়র ফটো সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান কচি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেড়ে ওঠার জন্যে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা অথচ নারায়ণগঞ্জে ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন বা ফটো সাংবাদিকদের আরও অনেক সংগঠন থাকলেও এখানে ফটোগ্রাফারদের প্রশিক্ষণের সুযোগ খুব কম। মূলত এখানকার ফটো সাংবাদিকেরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বি। আবার আমরা যারা নতুনদের জন্যে কিছু মনে করার প্রয়োজন মনে করি তারাও উদ্যোক্তাদের অভাবে কিছু করে উঠতে পারি না। এখানে যারা রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন তাদের কাছেও ফটো সাংবাদিকরা অবহেলিত হয়। কিন্তু একটি সংবাদের অলঙ্কার যে ছবি তা অনেকেই মানতে চান না।’

ফটো সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত তরুণদের মধ্যে সমকালের জেলা ফটো জার্নালিস্ট মেহেদী হাসান সজীব বলেন, ‘ফটো সাংবাদিকতা পেশায় সকলের আসার স্বাধীনতা রয়েছে কিন্তু এ পেশায় আসার জন্যে নতুনদের প্রশিক্ষিত হতে হবে। ফটোগ্রাফি আর ফটো জার্নালিজম এক নয়। নারায়ণগঞ্জ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন বা ফটো সাংবাদিকদের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এখানে নিয়মিত ওয়ার্কশপের আয়োজন করা উচিৎ। যেনো নবীণেরা শিখতে পারে।’



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও