৩ আশ্বিন ১৪২৫, বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

রাইফেল ক্লাবে ডাক্তারদের মল্লযুদ্ধ, বহিরাগতদের হামলা


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১২:১৫ এএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শুক্রবার


রাইফেল ক্লাবে ডাক্তারদের মল্লযুদ্ধ, বহিরাগতদের হামলা

ডাক্তারদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নারায়ণগঞ্জ জেলার ভোট গণনা চলাকালে দুটি প্যানেলের লোকজনদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়ে উভয় পক্ষের অন্তত ৫জন আহত হয়। একটি পক্ষের হামলায় আহত হয় পুলিশের একজন এএসপি মর্যাদার কর্মকর্তা। ঘটনার পর একটি প্যানেলের লোকজন নির্বাচন বয়কট করে চলে যান।

বৃহস্পতিবার ৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা হতে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শহরের চাষাঢ়া রাইফেল ক্লাব প্রাঙ্গনে ওই ঘটনা ঘটে যেখানে সকাল ১০টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলে।

জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৩জনের প্যানেলের বিপরীতে সভাপতি ছাড়া ২২ জনের প্যানেল করে সহ সভাপতি আতিকুজ্জামান সোহেল ও সেক্রেটারী নিজাম আলীর নেতৃত্বে। এদের মধ্যে সোহেল হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক। এছাড়া সভাপতি হিসেবে স্বতন্ত্র ডা. শাহনেওয়াজ থাকলেও তিনিও অন্তরালে এ প্যানেলের অধিভুক্ত ছিলেন। অপরদিকে ২৩ সদস্যের পূর্ণ প্যানেলের নেতৃত্বে ছিলেন ইকবাল বাহার ও দেবাশীষ সাহা।

সকাল সাড়ে ১০টায় ভোট চলাকালে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আবু জাফর আহমেদ বিরুর সঙ্গে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন আতিকুর রহমান সোহেল। তাছাড়া তারা চায়নি নির্বাচন হউক। তারা চেয়েছিলেন সিলেকশনের কমিটি।

দিনব্যাপী ভোটগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও রাত ১১টায় গণনা চলাকালে হঠাৎ করেই একটি ব্যালটকে কেন্দ্র করে চিৎকার করে উঠেন একটি প্যানেলের সহ সভাপতি প্রার্থী আতিকুজ্জামান সোহেল। এক পর্যায়ে সে ভোট গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার সময়ে ভেতরে প্রবেশ করতে যাওয়া বিপরীত প্যানেলের দফতর সম্পাদক ইউসুফ আলী সরকারের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন। তখন ইউসুফ জানান ওই সময়ে অবধি ভোট গণনায় তারা ভোট প্রাপ্তিতে এগিয়ে ছিলেন। তারা অন্তত বেশী ভোটে জিতবেন। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ঘটে। পরে ইউসুফ আলীকে মারধর করে সোহেলের সঙ্গে থাকা লোকজন। এ হাতাহাতি পরে রূপ নেয় ইকবাল বাহার ও সোহেলের মধ্যে। তখন সোহেলের পক্ষে বহিরাগতরা হামলা চালায়।

খবর পেয়ে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হলে সেখানে তুমুল বাকবিতন্ডা ঘটে। চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়। এছাড়া ইকবাল বাহারের সঙ্গে থাকা নারায়ণগঞ্জের বাইরের জেলার একজন এএসপি কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়। তিনি ছিলেন সাদা পোশাকে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

ওই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন শহরের দেওভোগ এলাকার সাগর সহ আরো কয়েকজন যারা মূলত মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাতের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। তারা এসেছিলেন সোহেলের পক্ষে।

ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত কয়েকজন ডাক্তার জানান, গণনার সময়ে ইকবাল বাহার ও দেবাশীষ প্যানেল এগিয়ে ছিলেন। এসব নিয়ে বিপরীত প্যানেলের সঙ্গে বাকবিতন্ডার জের ধরেই মারামারি ও হাতাহাতির সূত্রপাত ঘটে।

পরে আতিকুজ্জামান সোহেল ও তার লোকজন ভোটকেন্দ্র থেকে চলে আসে।

এ ব্যাপারে ইকবাল বাহার জানান, রাত ১১টায় ৩১৫ ভোটের মধ্যে প্রায় দেড় শ ভোটের গণনায় সভাপতি প্রার্থী হিসেবে আমি ও সেক্রেটারী পদে দেবাশীষ সাহা সহ অন্যরা এগিয়ে ছিলাম। এ কারণেই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা হৈ চৈ শুরু করে। এক পর্যায়ে আমাকে ও আমাদের লোকজনদের মারধর শুরু করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে।

অপরদিকে আতিকুজ্জামান সোহেল জানান, তাদের জয় যখন নিশ্চিত তখন জোর করে পরাজিত করতেই পরিকল্পনামাফিক আমাদের উপর হামলা করা হয়। আমরা তখন বয়কট করে কোনমতে জীবন নিয়ে বের হয়ে আসি।

পূর্ণ প্যানেল নিয়ে জয়ী ও ইকবাল দেবাশীষ
ডাক্তারদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাচনে ২৩ সদস্যের পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হয়েছেন ইকবাল বাহার ও দেবাশীষ সাহার নেতৃত্বে প্যানেল। শুক্রবার ৭ সেপ্টেম্বর ভোরে প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলে। রাতে সাড়ে ১১টা হতে প্রায় এক ঘণ্টা ভোটকেন্দ্রস্থল চাষাঢ়া রাইফেল ক্লাবে দুই প্যানেলের লোকজনদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় ভোট গণনা বন্ধ থাকার পরে আবারো শুরু হয়। পরে শুক্রবার ভোর ৬টায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনে ৩৮৭ ভোটের মধ্যে ৩১৫টি ভোট কাস্ট হয়। এর মধ্যে সভাপতি পদে ইকবাল বাহার পেয়েছেন ১৮৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি ডা. শাহনেওয়াজ পেয়েছেন ১২৬ ভোট। সেক্রেটারী পদে দেবাশীষ সাহা পেয়েছেন ২১১ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি নিজাম আলী পেয়েছেন ১০৪ ভোট।

সহ সভাপতি পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। এখানে ইকবাল ও দেবাশীষ প্যানেলেল বিজয়ী গোলাম মোস্তফা পেয়েছেন ১৩৯ ভোট। বিধান চন্দ্র পোদ্দার পেয়েছেন ২০০ ভোট। পরাজিতদের মধ্যে আতিকুজ্জামান সোহেল পেয়েছেন ১৩০ ভোট ও হাফিজুর রহমান পেয়েছেন ১৩৭ ভোট।

ডা. ইকবাল বাহার ও সাধারণ সম্পাদক পদে ডা. দেবাশীষ রায়ের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের প্যানেলের জয়ী অন্যরা হলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দোহা সঞ্চয়,  কোষাধ্যক্ষ শেখ ফরহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক কুমার তানসেন, দফতর সম্পাদক ইউসুফ সরকার, প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক কামরুল আশরাফ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক অমিত সরকার, সংস্কৃতি ও আপ্যয়ন বিষয়ক সম্পাদক আমিনুর রহমান, গ্রন্থাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক জহিরুল হক, সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, জিএম ফরিদ, অনিরুদ্ধ ভট্টাচার্য, এবিএম জহিরুল কাদের ভূইয়া, তানভীর আহমেদ চৌধুরী, আমির হোসেন, তনয় কুমার সাহা, মতিয়ার রহমান, আবু শাহেদ শুভ ও মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় ভোট গণনার সময়ে সোহেল ও তার প্যানেলের লোকজনদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মারামারির ঘটনার পরেই তারা ভোটকেন্দ্র ও গণনাস্থল রাইফেল ক্লাব ত্যাগ করে।

জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল অংশ নেয়। মধ্যে ২৩জনের প্যানেলের বিপরীতে সভাপতি ছাড়া প্যানেল করে সহ সভাপতি আতিকুজ্জামান সোহেল ও সেক্রেটারী নিজাম আলীর নেতৃত্বে। সভাপতি হিসেবে স্বতন্ত্র থাকা ডা. শাহনেওয়াজ থাকলেও তিনিও অন্তরালে এ প্যানেলের অধিভুক্ত ছিলেন।

জানা গেছে, বিএমএ নারায়ণগঞ্জ শাখার নির্বাচনে দীর্ঘ ২৫ বছর পর ডাক্তাররা ভোট দেয়ার সুযোগ পেলেন। সর্বশেষ ভোট হয়েছিলো ১৯৯৩ সালে। দুই যুগে বহুবার নির্বাচন হলেও ভোট প্রদানের কোন সুযোগ ছিল না। প্রার্থীরা সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সংগঠন সংবাদ -এর সর্বশেষ