প্রধানমন্ত্রীকে নারায়ণগঞ্জ তাবলীগের সাদ অনুসারীদের স্মারকলিপি

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৫৩ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার



প্রধানমন্ত্রীকে নারায়ণগঞ্জ তাবলীগের সাদ অনুসারীদের স্মারকলিপি

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে নারায়ণগঞ্জ তাবলীগের সাদ অনুসারীরা । বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিটি প্রদান করেন নারায়ণগঞ্জ তাবলীগের সাদ অনুসারীরা।

স্মারকলিপিতে তারা চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর হতে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনের জোর এবং আগামী বছরের ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারী পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য টঙ্গী বিশ্ব ইজতিমা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে টঙ্গী ময়দানে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সাদ অনুসারীদের টঙ্গী ময়দানে জোড় এবং ইজতিমা আয়োজনে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য সাদ অনুসারী ইস্যুতে গত কিছুদিন ধরেই সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও দ্বিধাবিভক্ত তাবলীগ জামায়াত।

সূত্র বলছে, গত এক বছর ধরে তাবলীগ জামাতের ভেতরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। একটি গ্রুপ অনুসরণ করছেন মার্কাজপন্থী ভারতের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে। আর আরেকটি গ্রুপ রয়েছে কাকরাইল পন্থী যাদের নেতৃত্বে হেফাজতপন্থী আলেমরা। তারই সূত্র ধরে গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় শহরের আমলাপাড়াতে স্বর্ণপট্টি সংলগ্ন অবস্থিত ছোট মার্কাজ মসজিদে তাবলীগ নিয়ে বিবাদমান দুটি গ্রুপের অবস্থানের সময়ে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, ওই দিন জেলা হেফাজতে ইসলামের আমীর ও শহরের অন্যতম বৃহৎ ডিআইটি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল আউয়ালকে লাঞ্ছিত করা হয়। ওই সময়ে অন্যরা প্রতিবাদ করলে তাদের উপর চড়াও হয় লোকজন। এ নিয়ে মসজিদের ভেতরে যখন চরম উত্তেজনা চলছিল তখন পুলিশ সেখানে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। ওই ঘটনায় মুফতি আনিস আনসারি বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি জিডিও করেছেন।

এরপরদিন গত শুক্রবার ২ নভেম্বর জুমআর নামাজের পর শহরের ডিআইটি জামে মসজিদের সামনে প্রতিবাদ সভায় হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা আবদুল আউয়াল হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, ‘আলেম ওলামাদের বাদ দিয়ে এভাবে শূরাকে উপেক্ষা করে জেলায় যে ইজতেমার আহবান করা হয়েছে সেটা বন্ধ না হলে রক্তের বন্যা বইয়ে যাবে। আমার আর হারানোর কিছু নাই। এখন আর কিছু হারাতে চাই না। জীবনের শেষ সময়টা দ্বীনের উপর নিজেকে সমর্পন করতে চাই।’

পরবর্তীতে গত ৫ নভেম্বর দুপুরে জেলা পুলিশ প্রশাসন তাবলীগ ইস্যুতে হেফাজতে ইসলাম ও মার্কাজপন্থীদের সতর্ক করে দেয় পুলিশ প্রশাসন। তাদের বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন তাবলীগ নিয়ে আর কোন প্রকার অপ্রীতির ঘটনা না ঘটে। সেই সঙ্গে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত উভয় গ্রুপকে তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।

কিন্তু তারা এই সতর্কবাণীকে উপেক্ষা করেই ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছেন আমলাপাড়া মসজিদে। এমনকি তারা মসজিদের ভিতরেই একে অপরের সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন। গত ৬ নভেম্বর মঙলবার বিকেলে শহরের আমলাপাড়া ছোট মার্কাজ মসজিদে তাবলীগ ইস্যুতে হেফাজতে ইসলাম ও মার্কাজপন্থীদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়ে দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের শান্ত করে। দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে তাবলীগ জামাতের এসব কর্মকান্ডে চরমভাবে বিরক্ত সাধারণ মসুল্লিরা। তারা এই ঘটনাকে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক বলে দাবী করছেন। তাদের মতে, এবাদতখানা সকলের জন্য উন্মুক্ত। হউক সে ধনী-গরিব, থাকুক তার উঁচু নিচু বংশ। এখানে শান্তির জায়গা। এমনকি দুনিয়ার সবচেয়ে অপরাধী ব্যক্তিটিও মসজিদে এসে শান্তি খুঁজে পায় এবং সে নিজেকে নিরাপদ মনে করে। কিন্তু তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা গত কয়েকদিন ধরে মসজিদে অশান্তি সৃষ্টি করছে। এতে করে মসজিদের সম্মানহানি ঘটছে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও