মেয়ের বিয়েতে বিএনপিকে দাওয়াত করি নাই : আনোয়ার

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৭ পিএম, ৫ ডিসেম্বর ২০১৮ বুধবার



মেয়ের বিয়েতে বিএনপিকে দাওয়াত করি নাই : আনোয়ার

শেখ হাসিনা একজন দক্ষ ও বিচক্ষন। আমি যখন হাসপাতালে ভর্তি সে সময়ে আমাকে ফোন দিয়ে বলে তোমাকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তখন আমি কেঁদে ফেলি।’ বলেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন।

বন্দর প্রেসক্লাবের দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রা অনষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।

৫ ডিসেম্বর বুধবার বিকালে বন্দর প্রেসক্লাবের দুই যুগপূর্তি উৎসব উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও কেককাটা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। বন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোবারক হোসেন খান কমলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, ইন্সপেক্টর সাজ্জাদুল ইসলাম, রোটারিয়ান গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, খান মাসুদ, জিএম মাসুদ, কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ ভূইয়া, কাউন্সিলর হান্নান সরকার, আমিরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা জালু, অ্যাডভোকেট মাজহারুল আলম খান পাভেল, সাংবাদিক আতাউর রহমান, কবির হোসেন, মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, নাসিরউদ্দিন, ইমরান মৃধা, মামুন, মেহেদী হাসান সজিব, মাহফুজ জাহিদ, মেহবুব মিয়া, আমির হোসেন প্রমুখ।

আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, আজকে রাজনীতিবিদ হওয়া মানেই অর্থ বিত্ত গাড়ি বাড়ির মালিক হওয়া। কিন্তু এই বাড়ি গাড়ির মালিক যারা সৃষ্টি করে থাকে তাদেরকে সবকিছু রেখেই শূন্য হাতেই পৃথিবী থেকে চলে যেতে হবে। আমি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হতে চেয়েছিলাম না। আমি মেয়র নির্বাচন করবো বলে নারায়ণগঞ্জবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা ভালো জানেন কাকে কি দেবেন। তিনি মনে করেছেন সারা নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব আমাকে দেবেন আর সেইজন্যই কিন্তু আমাকে আমি অসুস্থ অবস্থায় যখন ল্যাব এইডে ভর্তি ছিলাম তখন তিনি বললেন আনোয়ার তোমাকে আমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দিলাম। তখন আমি হাসপাতালে বসে কান্নায় তাকে বললাম আমি তো অসুস্থ। তখন তিনি বললেন তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে এবং জেলা পরিষদ নির্বাচন করবে।

তিনি আরো বলেন, আমি তার সিদ্ধান্তে সুস্থ হয়ে মনোনয়ন দিয়ে আজকে মানুষের খেদমতের জন্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। এই বন্দরে আমি কিছু করতে চাই। এই বন্দরের মানুষ আমার কাছে কিছু আশা করে আমি চাই।

আনোয়ার হোসেন বলেন, অনেক সাংবাদিক নিজেদের লেখা দিয়ে আমাদের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি করতে চায় তাদের লেখা দিয়ে। সবাই না তবে কেউ কেউ। আমরা চাই এই কাজটি থেকে আপনারা বিরত থাকুন। আমরা যারা রাজনীতি করি আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি রাজনীতির ফিল্ড তৈরী করতে চাই। আমাদের মধ্যে হানাহানি বিভেদ অনৈক্য এই অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি চাই। আর এ কাজটি করতে পারে সাংবাদিকরা। তারা সঠিক তথ্য দিয়ে এই কাজটি করতে পারে কারন তারা নিরপেক্ষ।

তিনি বলেন, আজকে আমার মেয়ের অনুষ্ঠানে কোন বিএনপির লোককে দাওয়াত দিতে পারি নাই কারণ তাহলে বলবে আনোয়ার সাহেব বিএনপির লোক হয়ে গেছে অথবা মুকুল আনোয়ারের লোক হয়ে গেছে। এ ধরনের লেখা আগে ছিলনা। সাংবাদিকরা কারো পক্ষ হতে পারেনা। মুকুল আমার পাশে থাকতে পারেনা এই সমালোচনার জন্য। এরকম অনেকেই। আসুক আমরা সবাই মিলে হানাহানি মারামারি বাদ দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই নারায়াণগঞ্জটাকে গড়ে তুলি। বন্দরে কোনকিছু করতে কোন অসুবিধা নেই। জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও এমপি মিলে একসাথে এই বন্দরে সাজানো সম্ভব যার যার অবস্থান থেকে। রাজনীতি যার যার উন্নয়ন সবার এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আসুন আমরা হাতে হাত রেখে কাজ করি।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও