ত্বকীর বিচার চেয়ে গণঅভ্যুত্থানকে স্মরণ করালেন রফিউর রাব্বী

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৪ পিএম, ৮ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

ত্বকীর বিচার চেয়ে গণঅভ্যুত্থানকে স্মরণ করালেন রফিউর রাব্বী

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বী বলেছেন, আজকে ৬ বছর অতিবাহিত হতে চলছে। এই ৬ বছরেও ত্বকী হত্যার বিচার হয়নি। হত্যাকান্ডের ১ বছরের মধ্যেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী রহস্য উন্মেচন করেছিল। আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে। কিন্তু অপরাধীরা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশ্রয়ের কারণে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয় নাই। উপরন্তু রাষ্ট্র পৃষ্ঠপোষকতায় তারা এই নারায়ণগঞ্জেই বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ত্বকী হত্যার বিচার আমি করবো। দুই মাস কিংবা ছয় মাস পরেই হোক আমি বিচার করবোই। সেই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু বিচার করেন নাই।

৮ জানুয়ারী মঙ্গলবার বিকেলে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচার ও দ্রুত অভিযোগপত্র দেয়ার দাবিতে মোশশিখা প্রজ্জলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে শহরের ৫নং খেয়াঘাটে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রফিউর রাব্বী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গতকাল তিনি আবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। সংবিধান ছুয়ে শপথ করেছেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপনি সচেষ্ট হবেন। আমরা দেখতে চায়, আপনার এই শপথ কতটা বাস্তবায়ন করেন। নাকি পুরানো পথেই অগ্রসর হন। আমরা আশা রাখতে চায়, একবার দুইবার ভুল হয়েছে, কিন্তু তিন এর বিচার করবেন। কারণ আপনি ঘোষণা করেছেন, হত্যাকান্ড কে করেছে, কোথায় হয়ে আপনি তা জানেন। আমরা আশা করি বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ হবে। ত্বকী হত্যার পাশাপাশি আশিক, ভুলু ও চঞ্চল হত্যারও বিচার হবে। কোন শিশু হত্যাকারী রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুরস্কৃত হবে এটি আমাদের আকাংখা নয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের ইতিহাসে রাজা যায় রাজা আসে। এই ইতিহাসের বিভিন্ন রাজা রাষ্ট্রপ্রধানকে দেখেছি, তারা মানুষের পক্ষে অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে তাদের বিরুদ্ধে মানুষ কোন শব্দ করতে পারে না। তাদের স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখার জন্য তারা ভয়ের সংস্কৃতি চালু করতে চায়। এটি আমাদের দেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হয়েছে।

রফিউর রাব্বী বলেন, আজকে জানুয়ারী মাসের ৮ তারিখ। ঠিক তেমনিভাবে ৬৯ সালের জানুয়ারী মাসের ১০ তারিখে এই শীতলক্ষ্যা নদীর টার্মিনালে আইউব খানকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য জনতার ভিড় জমেছিল। কিন্তু ইতিহাসের নির্মমতা হচ্ছে, এর ঠিক ১০ দিন পরে জানুয়ারী ২৪ তারিখে মানুষ বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠার গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব খানের পতন হয়। আমাদের এমনই ইতিহাস। সুতরাং বিজয়ে উচ্ছ্বাসিত হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করে মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করা যায় না। এটা আমাদের ইহিতাস না। মানুষের ভিতরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ কোন না কোনভাবেই ঘটবেই। এবং সেই বহিপ্রকাশের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয় এবং হবে।

উপস্থিত ছিলেন নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, বাসদ নেতা সেলিম মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হালিম আজাদ, সমামনার সভাপতি দুলাল সাহা, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, গণসংহতির সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহিদুল হক দিপু ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও