চোখের জলে বিনম্র শ্রদ্ধায় রনজিত কুমারকে স্মরণ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৫ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

চোখের জলে বিনম্র শ্রদ্ধায় রনজিত কুমারকে স্মরণ

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম উজ্জল নক্ষত্র কবি, প্রাবন্ধিক, আবৃত্তিকার, সংস্কৃতি সংগঠক রনজিত কুমার স্মরণ সভায় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই হয়ে উঠেন আবেগপ্রবণ। কেউ বা চোখের জল ফেলেন বক্তব্যের মাঝেই, কেউবা চোখ মুছতে মুছতে। তবে সবার চোখের কোনেই থাকা নোনা জল ও আর বিষন্ন চেহারাতে ফুঁটে উঠেছিল রনজিত কুমার ছিলেন তাদের প্রিয়জন, শ্রদ্ধার ব্যক্তিত্ব, আপনের চেয়েও আপন। কেউ বা অনুভুব করেছেন শূণ্যতার বিশালতা।

তবে যখন রনজিত কুমারের স্ত্রী বক্তব্য দিতে গিয়ে শীতের আবহেও কেঁদে উঠেন ঢুকরে আর অঝোর ধারায় তখন মঞ্চে থাকা অনেকেই দৃঢ়তা দেখিয়েও আটকে রাখতে পারেনি চোখের পানি। আর সেখানে উপস্থিত লোকজনও আলো আধারে হতবিহবল উঠে উঠতে শুরু করেন। দেখা দেয় এক শোকের হৃদয় আচ্ছন্ন পরিবেশ।

শুক্রবার ১১ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টায় নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে চাষাঢ়াস্থ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের অন্যতম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, প্রয়াত রণজিত কুমারের সহধর্মীনি সঞ্চিতা সর্মা, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি সারোয়ার আলী, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হালিম আজাদ, খেলাঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি রথীন চক্রবর্তি, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হামিদুল হক, গণসংহতির সমন্বয়ক তরিকুল সুজন প্রমুখ।

বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রয়াত রনজিত কুমারের সহধর্মীনি সঞ্চিতা সর্মা কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘একজন মায়ের কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো ছেলেকে হঠাৎ পিতাহারা হিসেবে দেখা। আমার ১৮বছরের প্রান্ত (ছোট ছেলে) হঠাৎ করে ভীত হয়ে গেছে।’

এরপর আবারো কান্নায় ভেঙ্গে পরলে আর কিছুই বলতে পারেননি তিনি।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, রনজিত আমাদের মাঝে নেই কিন্তু আমাদের সাংস্কৃতি, আমাদের সাহিত্য, আমাদের গতি কোনো কিছুই থেমে যায় নাই এবং যাবেও না। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পরে আমাদের বাংলার সাহিত্য থেমে যায় নাই কথাটি সত্য। কিন্তু বিশাল যে শূন্যতা তৈরী হয়েছে এইটি আর কখনোই পূরণ করা সম্ভব নয়। সুতরাং যে যায় সে চলে যায় এবং তার জায়গাটি অন্য কেউ পূরণ করতে পারে না। এটিই আসলে নিয়ম।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি সারোয়ার আলী বলেন, আমরা ঢাকার মানুষ জানতাম নারায়ণগঞ্জ একটি সন্ত্রাসের শহর হিসেবে। আজকে নতুন করে জানলাম এই শহর সাহসী মানুষের শহর। এবং তাদের একজন রনজিত। যখন রনজিতের দেহ এখানে নিয়ে আসা হয় তখন আমাদের ট্রাস্টির একজন ছিলেন এখানে। তিনি ফিরে গিয়ে শুধু একটি কথাই বলেছিলেন রনজিতকে নারায়ণগঞ্জে এত মানুষ ভালবাসে আমিতো কল্পনাও করতে পারি নাই। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভাগ্যবান যে আমরা তাকে পেয়েছিলাম।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও